ঢাকা শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬

অমর একুশে গ্রন্থমেলা

চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি

চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
×

সাজিদা ইসলাম পারুল

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:৪৪

বাঙালির আবেগ ও ভালোবাসার অনিন্দ্য সুন্দর প্রকাশ অমর একুশে গ্রন্থমেলা। মায়ের ভাষার মর্যাদা রক্ষায় ভাইয়ের আত্মদানের গৌরব ফুটিয়ে তোলা হয় প্রাণের এ মেলাকে ঘিরে। বছর ঘুরে আগামীকাল রোববার আবারও শুরু হচ্ছে সংস্কৃতি ও সাহিত্যের ঐতিহ্যের ধারক এ মেলা। বাংলা ভাষা-সাহিত্যের চর্চা, বিকাশ, বাঙালি সংস্কৃতির বহমান উদার অসাম্প্রদায়িক ধারার অনন্য সংযোজন অমর একুশে গ্রন্থমেলা-২০২০ বিকেল ৩টায় উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বাঙালি জাতিসত্তা ও বুদ্ধিবৃত্তিক উৎকর্ষের প্রতীক বাংলা একাডেমির আয়োজনে মাসব্যাপী এ মেলায় অংশ নেবে মূলধারার প্রায় সব প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। অবশ্য প্রতিবারের মতো ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন নয়, এবার মেলা শুরু হবে অমর একুশের দ্বিতীয় দিন; চলবে শেষ দিন পর্যন্ত। মেলা প্রাঙ্গণে গতকাল শুক্রবারও স্টল সাজানোর কাজ চলছিল। অংশগ্রহণকারী প্রকাশনীগুলোর কর্মীরা স্টলের শেষ মুহূর্তের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। প্রতিদিন মেলা বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয়ে শেষ হবে রাত ৯টায়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন শেষে মেলা পরিদর্শন করবেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি থাকবেন সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এবারের মেলা উৎসর্গ করা হয়েছে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির উদ্দেশ্যে। এ কারণে এবারের মেলাজুড়ে থাকবেন বঙ্গবন্ধু। তাকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত থাকবে মেলার ডিজাইন, আলোচনা, সেমিনার, চিত্রাঙ্কনসহ অনেক কিছুই।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত বঙ্গবন্ধু রচিত তৃতীয় নতুন বই 'আমার দেখা নয়াচীন'। প্রধানমন্ত্রী বইটির মোড়ক উন্মোচন করবেন। উদ্বোধন অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করবে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার। এ ছাড়া মেলা প্রাঙ্গণ থেকে বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল মেলার তথ্যাদি প্রতিদিন সরাসরি সম্প্রচার করবে। এফএম রেডিওগুলোও মেলার তথ্য প্রচার করবে। গ্রন্থমেলার খবর নিয়ে প্রতিদিন বেশ কয়েকটি বুলেটিন প্রকাশিত হবে। ওয়েবসাইটের মাধ্যমে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম প্রতিদিন মেলার তথ্য প্রচার করবে।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত তিন বছরের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলা একাডেমি। যার মধ্যে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ ও স্বাধীনতার সুর্বণজয়ন্তী রয়েছে। এ সময়কালে বঙ্গবন্ধুর ওপর নানা বিষয়ে ১০০টি গ্রন্থ প্রকাশ করবে বাংলা একাডেমি।

এবার দ্বিতীয়বারের মতো গ্রন্থমেলার স্টল বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া চালু হয়। এ ধারা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত হবে। এবারও গ্রন্থমেলা অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ এবং একাডেমির সামনের ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের প্রায় আট লাখ বর্গফুট জায়গায়। একাডেমি প্রাঙ্গণে ১২৬ প্রতিষ্ঠানকে ১৭৯টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৩৪টি প্রতিষ্ঠানকে ৬৯৪টি ইউনিটসহ মোট ৫৬০ প্রতিষ্ঠানকে ৮৭৩টি ইউনিট এবং বাংলা একাডেমিসহ ৩৩ প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানকে ৩৪ প্যাভিলিয়ন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এবার লিটল ম্যাগাজিন চত্বর স্থানান্তর করা হয়েছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মূল মেলা প্রাঙ্গণে। সেখানে ১৫২টি লিটলম্যাগকে স্টল বরাদ্দের পাশাপাশি ছয়টি উন্মুক্ত স্টলসহ ১৫৮ লিটলম্যাগকে স্টল দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, একক ক্ষুদ্র প্রকাশনা সংস্থা এবং ব্যক্তি উদ্যোগে যারা বই প্রকাশ করেছেন, তাদের বই বিক্রি ও প্রদর্শনের ব্যবস্থা থাকবে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রের স্টলে। গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি ও মেলায় অংশগ্রহণকারী অন্যান্য প্রতিষ্ঠান ২৫% কমিশনে বই বিক্রি করবে।

একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলা একাডেমির দুটি প্যাভিলিয়ন, চার ইউনিটের দুটি, একাডেমির শিশু-কিশোর উপযোগী বইয়ের জন্য একটি এবং একাডেমির সাহিত্য মাসিক উত্তরাধিকারের একটি স্টল থাকবে। এবারও শিশুচত্বর মেলার সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে থাকবে। এ কর্নারকে শিশু-কিশোর বিনোদন ও শিক্ষামূলক অঙ্গসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। মাসব্যাপী গ্রন্থমেলায় এবারও 'শিশুপ্রহর' ঘোষণা করা হবে।

গ্রন্থমেলায় বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে তিনটি পথ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রবেশ ও বাহিরের মোট ছয়টি পথ থাকবে। বিশেষ দিনগুলোতে লেখক, সাংবাদিক, প্রকাশক, বাংলা একাডেমির ফেলো এবং রাষ্ট্রীয় সম্মাননাপ্রাপ্ত নাগরিকদের জন্য প্রবেশের বিশেষ ব্যবস্থা করা হবে।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা থাকবে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০২০-এর প্রচার কার্যক্রমের জন্য তথ্যকেন্দ্র থাকবে বর্ধমান ভবনের পশ্চিম বেদিতে এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। এ ছাড়া মেলায় আগত মানুষের বসার স্থানসহ নান্দনিক ফুলের বাগানও নির্মাণ করা হয়েছে। সাংবাদিকদের অবাধ তথ্য আদান-প্রদানের সুবিধার্থে গ্রন্থমেলায় মিডিয়া সেন্টার থাকবে তথ্যকেন্দ্রের উত্তর ও পশ্চিম পাশে। বর্তমান সরকারের 'ডিজিটাল বাংলাদেশ' ধারণার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এটুআই কর্তৃপক্ষ গ্রন্থমেলায় তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের পাশাপাশি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন, তথ্যকেন্দ্রের সর্বশেষ খবরাখবর এবং মেলার মূল মঞ্চের সেমিনার প্রচারের ব্যবস্থা করবে। মেলায় ওয়াইফাই সুবিধা থাকবে।

গ্রন্থমেলার প্রবেশ ও বাহিরপথে পর্যাপ্ত সংখ্যক আর্চওয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার নিরাপত্তাকর্মীরা। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার জন্য মেলায় এলাকাজুড়ে তিন শতাধিক ক্লোজসার্কিট ক্যামেরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। গ্রন্থমেলা সম্পূর্ণ পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত থাকবে। মেলা প্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকবে। মেলার পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং নিয়মিত ধূলিনাশক পানি ছিটানো এবং প্রতিদিন মশক নিধনের সার্বিক ব্যবস্থা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×