ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

স্থিতিশীল করনীতি চায় যৌথ চেম্বারগুলো

এনবিআরের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা

স্থিতিশীল করনীতি চায় যৌথ চেম্বারগুলো
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৬ এপ্রিল ২০২৬ | ০৯:৫০

দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে স্থিতিশীল কর নীতির নিশ্চয়তা প্রদান ও সামগ্রিক বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে গঠিত যৌথ চেম্বারগুলো। ধাপে ধাপে করপোরেট করহার কমানো, ভ্যাট ব্যবস্থা সহজ করা ও বাণিজ্য বাধা দূর করার আহ্বান জানিয়েছে এসব চেম্বার।

গতকাল রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় চেম্বারগুলোর প্রতিনিধিরা বিভিন্ন প্রস্তাব তুলে ধরেন। 
এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খানের সভাপতিত্বে সভায় অংশ নেয় বাংলাদেশে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম), ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (আইবিসিসিআই), বাংলাদেশ-চায়না চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) এবং  ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ। একই বৈঠকে অংশ নেয় বাংলাদেশ ওমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ও ওমেন এন্টাপ্রেনিউরস নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন।

অ্যামচেম বাংলাদেশে দীর্ঘমেয়াদি কর নিশ্চয়তার গুরুত্ব তুলে ধরে বড় বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে করপোরেট করহার কমানো এবং  কর স্থিতিশীলতা কাঠামো প্রবর্তনের প্রস্তাব করেছে। অ্যামচেম বলেছে, বিনিয়োগকারীদের আস্থা বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনার জন্য ধারাবাহিক ও অনুমানযোগ্য নীতি অত্যন্ত জরুরি।

কর কাঠামো সহজ করা, অতিরিক্ত বা দ্বৈত করের বোঝা কমানো, ন্যূনতম করহার যৌক্তিক করা, দ্বৈত করের সমস্যা সমাধান এবং খাতভিত্তিক সমান করনীতি নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয় অ্যামচেমের প্রস্তাবে। মিষ্টি কোমলপানীয় জাতীয় পণ্যের সম্পূরক শুল্ক কমানোর সুপারিশ করেছে অ্যামচেম। অ্যামচেম প্রেসিডেন্ট সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, তাদের সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ, স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক কর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক হবে। একই সঙ্গে টেকসই রাজস্ব আহরণেও সহায়তা করবে। তিনি দেশীয় নীতিকে আন্তর্জাতিক চুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পাশাপাশি অগ্রিম কর রুলিং ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করেন। 

বাংলাদেশে ইউরোপীয় চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজও পূর্বানুমানযোগ্য কর ব্যবস্থা, উচ্চ শুল্ক সুরক্ষা কমানো, ভ্যাট ব্যবস্থা সহজীকরণ এবং বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা দূর করার প্রস্তাব দেন। বিসিসিসিআইর সভাপতি খোরশেদ আলম বাংলাদেশে সম্পত্তিতে বিনিয়োগে বিদেশিদের জন্য করহার কমানোর আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে কর্মরত অনেক চীনা নাগরিক স্থানীয়ভাবে সম্পত্তিতে বিনিয়োগে অনাগ্রহী। কিন্তু তারা সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার মতো দেশে বিনিয়োগকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন।  সিঙ্গাপুরে করহার প্রায় ৭ শতাংশ, অথচ বাংলাদেশে তা ৩৫ শতাংশের বেশি। 

সভায় ওমেন চেম্বারের পক্ষ থেকে সেবা খাতের ওপর ভ্যাট ১৫ শতাংশ থেকে নারীদের জন্য ৪ শতাংশে আনার প্রস্তাব করা হয়। ওমেন এন্টাপ্রেনিউরস নেটওয়ার্ক ফর ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে নারীদের ভ্যাট রিটার্ন প্রতি মাসের বদলে বছরভিত্তিক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।

সভাপতির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে রাজস্ব বাড়ানোর চাপ আছে। তবু আসন্ন বাজেটে ব্যবসাবান্ধব কর কাঠামো বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে। বিশেষ করে পণ্য আমদানিতে বিভিন্ন পর্যায়ে যে অগ্রিম কর আদায় করা হয়, তাতে ব্যবসায়ীদের বড় অঙ্কের মূলধন দীর্ঘ সময় আটকে থাকে। আগামী অর্থবছর থেকে যদি কোনো ব্যক্তির আয় অনুযায়ী কর বেশি কেটে নেওয়া হয়, তবে সেই অর্থ সরাসরি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে রিফান্ড করা হবে। তিনি জানান, ন্যূনতম কর না কমিয়ে বরং উল্টো বাড়িয়ে আড়াই শতাংশ করার চিন্তা আছে।

আরও পড়ুন

×