ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিইউবিটি-বিএপিএস ন্যাশনাল প্রোগ্রামিং ক্যাম্প

সৃজনশীলতা, জ্ঞান ও প্রতিযোগিতার মেলবন্ধন

সৃজনশীলতা, জ্ঞান ও  প্রতিযোগিতার মেলবন্ধন
×

দারুন জমে উঠেছিল এই প্রতিযোগিতা

জাবেদ ইকবাল

প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২০:৩৯

 

‘প্রযুক্তি বিশ্ব গড়বে। বইয়ের সীমায় আটকে থাকলে হবে না, বাস্তব সমস্যার সমাধান করতে শিখলেই তোমরা আন্তর্জাতিক আসরে আলো ছড়াতে পারবে।’ এভাবেই অতিথিরা  বিইউবিটি-বিএপিএস ন্যাশনাল প্রোগ্রামিং ক্যাম্পে অংশ নেওয়া প্রতিযোগীদের স্বপ্ন দেখিয়েছে আগামীর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রফেসর ড. মুন্সী মাহবুবুর রহমান, ডিন, ফ্যাকাল্টি অব ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস, বিইউবিটি, মো. সাইফুর রহমান, চেয়ারম্যান, সিএসই বিভাগ, বিইউবিটি, উইং কমান্ডার (অব.) মো. মোমেনুল ইসলাম, প্রক্টর, বিইউবিটি। তারা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, প্রোগ্রামিং শুধু প্রতিযোগিতা নয়, এটি একটি সৃজনশীল যাত্রা, যেখানে ধৈর্য, দলগত প্রচেষ্টা এবং নতুন কিছু শেখার আগ্রহই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। দিনের বাকি অংশ যেন ছিল শেখার এক মহোৎসব। 
মহিদুল হক মৃদুল আর মো. রাকিব হোসাইনের সেশনে তরুণরা শিখলেন কীভাবে একটি সমস্যাকে ভেঙে ছোট ছোট টুকরোতে সমাধান করা যায়। দুপুরের পরে যখন ইয়ামিন কায়সার, রুহান হাবিব আর মাহফুজুর রহমান খান প্রশিক্ষণ শুরু করলেন, তখন হলভর্তি তরুণদের চোখেমুখে ঝলকানি তাদের গল্প, অভিজ্ঞতা আর প্রাণবন্ত আলোচনা যেন একেকটা নতুন জানালা খুলে দিল। দিনের শেষে প্রতিযোগিতা শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাসকে বাস্তব রূপে পরখ করার সুযোগ দিল। 


২৬ সেপ্টেম্বর সকালটা ছিল যেন আরও প্রাণবন্ত। কুয়েটের তরুণ মেধাবী প্রশিক্ষক শরিফ মিনহাজুল ইসলাম আর অর্ণব সরকারের হাতে কলমে সেশনে শিক্ষার্থীরা কোডের গভীরে ডুব দিলেন। কেউ মাথা চুলকাচ্ছেন জটিল অ্যালগরিদমের সামনে, আবার কেউ উচ্ছ্বাসে লাফিয়ে উঠছেন সমাধান খুঁজে পেয়ে। ইয়ামিন কায়সার আর মুহিমিনুল ইসলামের সেশনে ইসলামের সেশনে আলোচনার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে উঠল এক অদ্ভুত আনন্দ, শেখার আনন্দ। দিন শেষে আরেকটি প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গিয়ে যেন প্রত্যেকেই নিজের ভেতরের লুকিয়ে থাকা সাহস আর দক্ষতাকে নতুনভাবে চিনে নিলেন। তৃতীয় দিনে বিদায়ের সুর বাজতে শুরু করেছে বটে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের উদ্যমে তার ছিটেফোঁটাও নেই। মুহাম্মদ নাজমুল হাসান নাঈম, আরমান ফেরদৌস, মহিদুল হক মৃদুল ও মো. রাকিব হোসাইন তরুণদের হাতে ধরিয়ে দিলেন নতুন দিশা। বিকেলে যখন সমাপনী প্রতিযোগিতা শুরু হলো, তখন হলঘরে যেন এক অদৃশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার আগুন। কোডের লাইনগুলো পরিণত হলো তরুণদের স্বপ্নের সেতুতে। 
আয়োজনটি সম্পর্কে বিইউবিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. এ বি এম শওকত আলী জানান, এই জাতীয় প্রোগ্রামিং ক্যাম্প শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতা ও গবেষণার প্রতি আগ্রহকে আরও বেগবান করবে। আমরা বিশ্বাস করি, এই উদ্যোগ তরুণ প্রোগ্রামারদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সাফল্য অর্জনে সহায়তা করবে। প্রফেসর ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ তাঁর বক্তব্যে দেশের তরুণদের মেধা নিয়ে ভরসা প্রকাশ করে বললেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা সঠিক সুযোগ পেলে বিশ্ব জয় করবেই। আর শাহরিয়ার মনজুর মনে করিয়ে দিলেন, একজন প্রোগ্রামারের আসল শক্তি তাঁর সমস্যা সমাধানের ক্ষমতায়– এ ক্যাম্প সেই শক্তিকেই শাণিত করেছে। 
অতিথিদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন মোহাম্মদ মোহাইমিনুল ইসলাম, বিচারক, বিএপিএস এবং মো. সাইফুর রহমান, চেয়ারম্যান, সিএসই বিভাগ। সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন স্কুল থেকে অংশগ্রহণকারী দশজন শিক্ষার্থীকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান 
করা হয়। 


হলভর্তি করতালি, উচ্ছ্বাস আর চোখের কোণে ভেসে ওঠা আনন্দাশ্রু যেন তিন দিনের শ্রম আর শেখার সার্থকতা প্রমাণ করল। অংশগ্রহণকারীরা কেউ কেউ আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বললেন, এই ক্যাম্প শুধু আমাদের কোডিং দক্ষতা বাড়ায়নি, আমাদের ভেতরে আত্মবিশ্বাস জাগিয়েছে, আমরা পারব। বিইউবিটি-বিএপিএস ন্যাশনাল প্রোগ্রামিং ক্যাম্প ২০২৫ শেষ হলেও এর আলো নিভে যায়নি। তরুণ প্রোগ্রামারদের মনে যে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে, তা একদিন জ্বালাবে বাংলাদেশের নাম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার মঞ্চে। এই অনন্য আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হয় বিইউবিটি সিএসই বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধানে। পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবকদের অবদান ছিল অনেক। 
 

আরও পড়ুন

×