আয়োজন
বিশ্বকাপ উৎসবে মেতেছে চুয়েট
কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে এলইডি স্ক্রিনে বিশ্বকাপ ফুটবল দেখতে জড়ো হন চুয়েট শিক্ষার্থীরা
মো. ফাহিম রেজা
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ | ১১:০৮
রাত গভীর হলে যখন শহরের ব্যস্ততা ধীরে ধীরে স্তিমিত হয়ে আসে, তখন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে শুরু হয় অন্য এক জাগরণ। খোলা আকাশের নিচে জ্বলে ওঠে বিশাল এলইডি স্ক্রিন, আর সেই আলো ঘিরে জড়ো হন শত শত ফুটবলপ্রেমী।
বিশ্বকাপের প্রতিটি বড় ম্যাচ যেন মুহূর্তেই ক্যাম্পাসকে রূপ দেয় এক টুকরো আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে, যেখানে আছে উত্তেজনা, প্রত্যাশা, করতালি, দীর্ঘশ্বাস আর একসঙ্গে জিতে যাওয়ার স্বপ্ন। ফিফা বিশ্বকাপের এই আবেগেই দিন-রাত রঙিন হয়ে উঠেছে চুয়েট ক্যাম্পাস। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় দর্শকদের উপস্থিতিতে প্রতিদিনই কেন্দ্রীয় মাঠ পরিণত হচ্ছে ফুটবল উৎসবের প্রাণকেন্দ্রে।
এইবারে খেলার সময়সূচি একটু ব্যতিক্রম। বেশির ভাগ ম্যাচই হচ্ছে গভীর রাত বা ভোরে। রাত কিংবা ভোর খেলার সময়সূচি যাই হোক না কেন, ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা শিক্ষার্থীদের টেনে নিয়ে আসে একই মাঠে। বিশ্বকাপকে ঘিরে এমন সম্মিলিত উচ্ছ্বাস, আবেগ ও সৌহার্দ্য চুয়েট ক্যাম্পাসে এক অনন্য উৎসবমুখর পরিবেশের জন্ম দিয়েছে।
বিশ্বকাপের প্রতিটি বড় ম্যাচেই চুয়েটের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ পরিণত হচ্ছে এক প্রাণবন্ত মিলনমেলায়। খেলা শুরুর অনেক আগ থেকেই শিক্ষার্থীরা প্রিয় দলের জার্সি গায়ে, পতাকা হাতে মাঠে জড়ো হন। কেউ বন্ধুদের সঙ্গে ঘাসের ওপর বসে, কেউ আবার দাঁড়িয়ে বিশাল এলইডি স্ক্রিনে চোখ রাখেন। ম্যাচ যত এগোয়, ততই বাড়তে থাকে উত্তেজনা।
হলুদ-সবুজ আর আকাশী-নীলসহ বাহারি রঙের জার্সিতে সজ্জিত সমর্থকদের উপস্থিতি, প্রিয় দলের পতাকা, স্লোগান, করতালি আর প্রতিটি আক্রমণে শ্বাসরুদ্ধকর অপেক্ষা। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের আবহ যেন ছুঁয়ে যাচ্ছে পুরো ক্যাম্পাসকে। কেউ ঘাসের ওপর বসে, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে গোল হয়ে, আবার কেউ দাঁড়িয়ে গভীর মনোযোগে উপভোগ করছেন প্রতিটি মুহূর্ত। প্রিয় দলের গোল হলে মুহূর্তেই করতালি, উল্লাসধ্বনি, বাঁশি আর স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। আবার প্রতিপক্ষ গোল করলে নেমে আসে হতাশার নীরবতা। ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা কিংবা অন্য যে কোনো জনপ্রিয় দলের সমর্থকদের বন্ধুত্বপূর্ণ পাল্টাপাল্টি স্লোগান পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। ব্রাজিল সমর্থক স্থাপত্য বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ঘ্য দাস অঙ্কুর বলেন, ‘ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে আমরা সবসময়ই বিশ্বাস করি, শেষ মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা এই দলের আছে। আজও সেটিই দেখেছি।’
অন্যদিকে পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও আর্জেন্টিনা সমর্থক অর্ণব সাহা বলেন, ‘ম্যাচটি খুবই কঠিন ছিল। শেষ পর্যন্ত জয় পাওয়ায় স্বস্তি আর আনন্দ– দুটোই কাজ করছে। এমন পরিবেশে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা দেখার অনুভূতি সত্যিই অসাধারণ।’
বিশ্বকাপ ঘিরে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও নিয়েছে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ। ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম জানান, রাতে ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে আইডি কার্ড বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিশ্বকাপের প্রতিটি ম্যাচের সঙ্গে যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে চুয়েট ক্যাম্পাস। প্রিয় দলের জয়-পরাজয়কে ঘিরে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত এক ছাদের নিচে ফুটবলের প্রতি ভালোবাসাই হয়ে উঠছে সবচেয়ে বড় পরিচয়।
- বিষয় :
- চুয়েট
