যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
বন্ধুত্বের রঙে রাঙানো বিকেল
দারুণ আনন্দে কেটেছে দিনটি
জিন্নাতুন নেসা শান্তা
প্রকাশ: ০৬ জুলাই ২০২৬ | ১১:০৭
মঙ্গলবার। ক্যালেন্ডারের পাতায় রুটিনহীন একটি দিন, টানা কয়েক দিনের ল্যাব, ক্লাস আর অ্যাসাইনমেন্টের ক্লান্তিকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেওয়ার মতো এক স্বস্তির অবসর। কিন্তু আজকের মঙ্গলবারটা কেবলই আলস্যের নয়, বরং হৃদয়ের স্পন্দনে কিছুটা অন্যরকম শিহরণ জাগানো। অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের ১৬তম ব্যাচের সবার আজ এক হওয়ার দিন; গন্তব্য– আমাদের প্রিয় সহপাঠী মৌলীর বাসা।
হল থেকে বেরিয়ে ভার্সিটি বাসে চড়তেই যেন ব্যস্ততার জগৎটা পেছনে পড়ে গেল। জানালার পাশে বসে সহপাঠীদের সঙ্গে হাসি-ঠাট্টা আর বাইরের সবুজ প্রকৃতির মায়াবী দৃশ্য– যাত্রাটুকুও যেন হয়ে উঠেছিল এক টুকরো কবিতা। আরবপুরে মৌলীর বাসায় পৌঁছাতেই মনে হলো, আমরা আমাদের আপন নীড়ে ফিরে এসেছি।
হাজারটা গল্প, ফোনের লেন্সে বন্দি শত-সহস্র সেলফি আর দল বেঁধে ছবি তোলার হুল্লোড়ে আমরা মেতে উঠলাম। সবচেয়ে প্রতীক্ষিত ছিল দুপুরের ভোজনপর্ব। মৌলীর পরম মমতায় তৈরি বিশেষ ‘চিংড়ির মালাইকারি’র স্বাদে যেন মিশে ছিল আমাদের বন্ধুত্ব আর ভালোবাসার উষ্ণতা। বিকেল গড়িয়ে যখন সন্ধ্যা নামল, আমরা হারিয়ে গেলাম গানের আসরে, মজার খেলায় আর আড্ডায়। নিজ নিজ জেলার ভাষায় কথা বলার চ্যালেঞ্জ, ট্রুথ অ্যান্ড ডেয়ার– সব মিলিয়ে সময়টা যে কীভাবে ডানা মেলে উড়ে গেল, টেরই পেলাম না! কেক কাটার আনন্দ আর গরম চায়ের আড্ডায় দিনটি পূর্ণতা পেল। ফেরার পথে অটো-ভ্যানের সেই ঝিরঝির বাতাস আর সহযাত্রী বন্ধুদের কোলাহল দিনটিকে আরও মায়াবী করে তুলল। রাতে ক্যাম্পাসে ফিরে আইসক্রিম হাতে মাঠে বসে আকাশের দিকে তাকিয়ে মনে হলো, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই কঠিন ও ব্যস্ত জীবনে এমন কিছু মুহূর্তই আমাদের বেঁচে থাকার অক্সিজেন।
আমরা যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অণুজীববিজ্ঞান বিভাগের ১৬তম ব্যাচ– ‘মিষ্টি-১৬’। ৩৫ জনের এই ছোট্ট পরিবারে আমাদের সম্পর্কটা ঠিক যেন টক-ঝাল-মিষ্টির এক সংমিশ্রণ। সেমিস্টারের চাপ, ভাইভা আর অ্যাসাইনমেন্টের অন্তহীন ভিড়ে এই দিনটি ছিল যেন মরুভূমিতে এক পশলা বৃষ্টির মতো প্রশান্তি।
- বিষয় :
- যশোর
