জাতীয় সংলাপে বিশিষ্টজন
তামাক কোম্পানি থেকে সরকারের অংশীদারিত্ব প্রত্যাহার দাবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ জানুয়ারি ২০২০ | ০৭:৩৭
প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা অনুসারে ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত দেশ গড়ে তুলতে জনসচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে হলে এখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন, যাতে তামাক কোম্পানিতে বর্তমানে সরকারের যে অংশীদারিত্ব রয়েছে তা প্রত্যাহারের পাশাপাশি তামাক চাষীদের বিকল্প চাষাবাদে উদ্ধুদ্ধ করার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। আর এসব কাজের জন্য অবশ্যই সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বয় থাকতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে 'তামাক কোম্পানি থেকে সরকারের শেয়ার প্রত্যাহারে করণীয়' শীর্ষক জাতীয় সংলাপে বিশিষ্টজনরা এসব কথা বলেন।
সুশাসনের জন্য প্রচারাভিযান (সুপ্র) আয়োজিত জাতীয় সংলাপে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া। সংগঠনের চেয়ারপারসন আব্দুল আউয়ালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য খোদেজা নাসরিন আখতার, সাবেক প্রধান তথ্য কমিশনার ড. গোলাম রহমান, এনজিও ব্যুরোর প্রকল্প পরিচালক গকুল কৃষ্ণ ঘোষ, বিএফইউজে সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, গাজী টেলিভিশনের এডিটর ইন চিফ সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সুর্য, সিটিএফকে'র গ্রান্ড ম্যানেজার আবদুস সালাম মিয়া, প্রোগ্রাম অফিসার আতাউর রহমান মাসুদ, সুপ্র'র সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান প্রমুখ। সভায় ধারণা পত্র উপস্থাপন করেন সুপ্র'র প্রকল্প কর্মকর্তা জায়েদ আহমেদ সিদ্দিকী।
এতে বলা হয়, দেশে অসংক্রামক রোগজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ তামাক। অসংক্রামক রোগে প্রতিবছর ৫ লাখ ৭২ হাজার মানুষ মারা যায়। এর মধ্যে শুধু তামাকজনিত রোগের কারণে মারা যায় ১ লাখ ২৬ হাজার। তাই এ খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখে ২০৩০ সালের মধ্যে অসংক্রামক রোগজনিত মৃত্যু এক-তৃতীয়াংশে নামিয়ে আনা সম্ভব নয়। এছাড়াও তামাক খাতে সরকারের আয়ের চেয়ে ব্যয় বেশি। তামাকজনিত রোগে চিকিৎসা ব্যয় ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। অথচ তার বিপরীতে রাজস্ব আয় ২২ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। এ রকম ক্ষতিকর ও অলাভজনক খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখা সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক। ক্ষতিকর ও অলাভজনক তামাক খাত থেকে ইতোমধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ প্রত্যাহার করেছে। কিন্ত বাংলাদেশ সরকারের কাছেই এখনও তামাক কোম্পানি ব্রিটিশ-আমেরিকান ট্যোবাকো'র ৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে সরকারের উচিত অবিলম্বে ক্ষতিকর এই খাত থেকে বিনিয়োগ প্রত্যাহার করা।
পরে সভায় আলোচকগণ ধারণাপত্র নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়া বলেন, '২০৪০ সালের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ব্রিটিশ-আমেরিকান ট্যোবাকো কোম্পানি থেকে সরকারের শেয়ার প্রত্যাহারে জন্য প্রস্তাব তুলে ধরা হবে। কারণ বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করার অঙ্গীকারের সঙ্গে তামাক কোম্পানিতে সরকারের অংশীদারিত্বের বিষয়টি সাংঘর্ষিক। তামাকের মতো ক্ষতিকর ব্যবসায় অংশীদার থেকে তামাক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। পাশাপাশি তামাক চাষীদের বিকল্প চাষাবাদের উদ্ধুদ্ধ করা এবং তামাকবিরোধী জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
