বেসিক ব্যাংক কেলেঙ্কারি
ব্যর্থ হলে দুদক চেয়ারম্যানের উচিত সরে যাওয়া: তাপস
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০১৯ | ১৩:০৪
দুর্নীতির বিরুদ্ধে যথাযথ দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানের অবশ্যই পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস এমপি।
তিনি বলেছেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে দুর্নীতিবিরোধী অভিযান শুরু করেছেন, শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন তার পরিপ্রেক্ষিতে দুদকেরও জবাবদিহিতা থাকা দরকার। কেন এখনও বেসিক ব্যাংকের ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনায় তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর ব্যাপারে কোনও মামলা করা হয়নি এবং তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি তা জানা দরকার।'
বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ার বিষয়ে দুদক চেয়ারম্যানের ভূমিকা প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সরকারদলীয় সাংসদ ব্যরিস্টার ফজলে নূর তাপস এসব কথা বলেন। এর আগে ৫ অক্টোবর রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের এক সভায় ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নুর তাপস বলেছিলেন, 'বেসিক ব্যাংককে ডুবিয়েছে আবদুল হাই বাচ্চু। আজ পর্যন্ত কেন দুদক তার বিরুদ্ধে মামলা করেনি, তাকে আটক করেনি?'
এ প্রসঙ্গে দুদক বা দুদকের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদের ব্যর্থতা রয়েছে কি-না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে ফজলে নুর তাপস বলেন, 'অবশ্যই, এ কারণে রোববারও একটি সভায় বলেছি, দুদক চেয়ারম্যান যদি বলে থাকেন বা বলতে চান বা মনে করেন, তিনি কোনও প্রভাবের কারণে এ ব্যবস্থা নেননি, তা হলে তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন। সে কারণে তার অবশ্যই পদ থেকে সরে যাওয়া উচিত। যদি তিনি মনে করেন, তিনি কারও কথায় প্রভাবিত হবেন না তাহলে দুদকের উচিত শেখ আবদুল হাই বাচ্চুকে গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের পদক্ষেপ নেওয়া।'
তিনি বলেন, 'বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভায়ও দেখেছি, তদন্ত করে দেখেছি বেসিক ব্যাংকের মাধ্যমে ফিনান্সিয়াল সেক্টরে দুর্নীতির মূল ব্যক্তি ব্যাংকটির তৎকালীন চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু। এ কারণে সরকার তাকে সেই পদ থেকে অপসারণ করেছে। কিন্তুবেসিক ব্যাংক সংক্রান্ত যতগুলো দুর্নীতির মামলা হয়েছে, শুধুমাত্র কর্মকর্তা এবং ব্যবসায়ীদের সেসব মামলায় সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কিন্ত তৎকালীন চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর বিরুদ্ধে আজ পর্যন্ত কোনও দুর্নীতির মামলা আনা হয়নি। যদিও তার স্বেচ্ছাচারিতা ও একক সিদ্ধান্তে বিভিন্ন ঋণ দেওয়া হয়েছে। সেটা সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বিভিন্ন তদন্তেও প্রতীয়মান হয়েছে।' কিন্তু লক্ষ্য করেছি দুদক থেকে কয়েক দফা তাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। যদিও এখনো কোনও মামলা করা হয়নি।'
পরে ব্যারিস্টার ফজলে নুর তাপসের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় উচ্চ আদালতে দুদকের আইনজীবী মোহাম্মদ খুরশীদ আলম খান সাংবাদিকদের বলেন, 'দুদক চেয়ারম্যান একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থার চেয়ারম্যান। তার চেয়ারম্যানশিপ নির্ধারণ করা হয় সুপ্রিম কোর্টের তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে ও বাছাই কমিটির মাধ্যমে। চেয়ারম্যান পদত্যাগ করবেন কিনা এটা তার একান্ত ব্যক্তিগত ব্যাপার'। বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রসঙ্গে শেখ ফজলে নুর তাপসের বক্তব্যকে স্বাগত জানিয়ে খুরশীদ আলম বলেন, 'উনি চাচ্ছেন বেসিক ব্যাংক মামলার চার্জশিট হোক। একজন সংসদ সদস্য হিসেবে বা একজন সচেতন আইনজীবী হিসেবে উনি তা চাইতে পারেন। এটা অ্যাপ্রিশিয়েট করি।'
কবে নাগাদ চার্জশীট হতে পারে-এমন প্রশ্নে খুরশীদ আলম খান বলেন, 'কিছুদিন আগে দুদক চেয়ারম্যান বলেছিলেন এখানে চার হাজার কোটি টাকার বিষয়। প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। বাকি অনেক টাকা উদ্ধার হওয়ার পথে। মানিলন্ডারিং মামলার প্রধান বিষয় টাকার উৎস এবং টাকাটা কোথায় গেছে তা খুঁজে বের করা। এখন টাকার যদি গন্তব্য বের করা না যায় তা হলে তো এ চার্জশিট আদালতে প্রশ্নের সন্মুখীন হবে। তার মানে এই না যে, অনন্তকাল পর্যন্ত চার্জশিট হবে না। টাকার গন্তব্য খুঁজে বের করা হলে চার্জশিটও হয়ে যাবে।' চার্জশিটে আবদুল হাই বাচ্চুর নাম থাকবে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, 'তার সংযুক্তি থাকলে অবশ্যই নাম থাকা উচিত। যদি গ্রহণযোগ্য তথ্যপ্রমাণ থাকে তা হলে অবশ্যই নাম আসবে।'
