ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শক সিনড্রোম নিয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে

শক সিনড্রোম নিয়ে বেশি রোগী হাসপাতালে
×

ফাইল ছবি

তবিবুর রহমান

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২২ | ২৩:৪৬

জরুরি বিভাগের টিকিট কাউন্টারে ভিড়। অনেকে এসেছেন জ্বর নিয়ে। টিকিট দিয়ে রোগীকে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে মেডিসিন বিভাগে। সবাইকে রক্তের পরীক্ষা (সিবিসি ও এনএসওয়ান) দিচ্ছেন চিকিৎসক। নির্ধারিত স্থানে গিয়ে পরীক্ষার জন্য রক্তের নমুনা দিচ্ছেন রোগীরা। এ চিত্র বুধবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের।

এই হাসপাতালে প্রতিদিন মেডিসিন ওয়ার্ডে ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এর মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন ৪০ থেকে ৫০ জন। বেশিরভাগই জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পাঁচ দিন পর হাসপাতালে এসেছেন। ২০১৯ সালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা সিভিয়ার রোগী কর্নার চালু করা হয়েছিল এই হাসপাতালে। রোগীর চিকিৎসায় আলাদা একটি সেল গঠন করা হয়েছিল। তবে এবার এ ধরনের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। এদিকে চিকিৎসাধীন ৯০ ভাগ রোগী মশারি ব্যবহার করছেন না। এতে ডেঙ্গু সংক্রমণ বাড়ছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ২০১৯ সালের মতো এবারও ডেঙ্গু শক সিনড্রোম বেশি দেখা যাচ্ছে, বেশিরভাগ রোগী স্পষ্ট করে কথা বলতে পারছেন না। এ ছাড়া এবার ডেঙ্গু ভাইরাস ডেনভি-৩-এ আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। এর উপসর্গ ও জটিলতা অনেক বেশি।

প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক এ বি এম আব্দুল্লাহ সমকালকে বলেন, অনেক সময় জ্বর সেরে গেলেই ভুল করে রোগীকে ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে। এটি ঠিক নয়, রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা উচিত। ডেঙ্গু জ্বরে বুকে-পেটে পানি জমে, ফুসফুসে পানি জমে শ্বাসকষ্ট হয়। প্রথম থেকে ঠিকমতো চিকিৎসা করালে এবং সঠিক পরিমাপে তরল পদার্থ দিতে পারলে ডেঙ্গু মারাত্মক আকার ধারণ করে না। চিকিৎসকদের অনুরোধ জানানো হয়েছে, তাঁরা যেন সর্বশেষ জাতীয় ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা অনুসরণ করে রোগীর চিকিৎসা দেন। রোগীর শরীরের তরল ব্যবস্থাপনা (ফ্লুইড ম্যানেজমেন্ট) জটিল বিষয়। এটা কীভাবে করতে হবে তা নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা আছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নতুন ভবনের ষষ্ঠ তলা ও সপ্তম তলায় ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বুধবার ষষ্ঠ তলায় দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত অবস্থান করে দেখা গেছে, এ সময়ে ১০ জন এসেছেন রক্তের সিবিসি ও এনএসওয়ান পরীক্ষার জন্য। ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে গতকাল কামরাঙ্গীরচরের বাসিন্দা ফাতেমা আক্তার সাথী ভর্তি হয়েছেন। তিনি ছয় দিন আগে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন।

বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কিছু অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ায় জ্বর সেরে ওঠে। তবে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। জটিলতা নিয়ে এখানে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত শুধু একবার স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। আর কোনো চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। অন্যান্য রোগীর সঙ্গে তাঁর চিকিৎসা চলছে। এই ওয়ার্ডে তিনি ছাড়া আরেকজন ডেঙ্গু রোগী আছেন। বরিশাল থেকে এসেছেন কাঠমিস্ত্রি মান্না মজুমদার। জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার তিন দিন পর তিনি বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে পরীক্ষা করে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। দু'দিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফেরেন। তবে শক সিনড্রোমে কাবু হয়ে ঢাকা মেডিকেলে আসতে হয়েছে। এখানেই সাত দিন ধরে চিকিৎসা চলছে তাঁর। মাঝেমধ্যে অচেতন হয়ে পড়তেন। এখন শরীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে কর্তব্যরত এক চিকিৎসক বলেন, ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসায় আলাদা একটি সেল গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। দু-এক দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত হবে। দৈনিক ৩০০ থেকে ৩৫০ জন রোগী এখানে ভর্তি হন।

আরও পড়ুন

×