পুলিশ বক্স উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়া কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারের হুমকি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ | ১২:৪০ | আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৩ | ১৪:১০
রাজধানীর আসাদগেট মোড়ে আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নির্মাণাধীন ওই স্থাপনা উচ্ছেদ করতে যান ডিএনসিসির কর্মকর্তারা।
এ সময় তারা পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। ট্রাফিক পুলিশের সদস্যদের বাধায় সেখানে প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে পুলিশ বক্সটি উচ্ছেদ না করে ফিরে যেতে বাধ্য হন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
উচ্ছেদ অভিযানে যাওয়া কর্মকর্তাদের অভিযোগ, পুলিশের সদস্যরা উচ্ছেদের কাজে বাধাই দেওয়ার পাশাপাশি তাদের গ্রেপ্তার করারও হুমকি দিয়েছেন। এছাড়া উচ্ছেদ অভিযানে ব্যবহৃত ডাম্প ট্রাক ও পে-লোডার জব্দ করে ডাম্পিংয়ে পাঠানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
ডিএনসিসি অঞ্চল-৫ এর নির্বাহী কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট মোতাকাব্বীর আহমেদ সমকালকে জানান, গতকাল সোমবার তিনি মোহাম্মদপুর থেকে ফেরার পথে আসাদগেটে আসাদ ফলকের সামনে সড়ক বিভাজকে একটি স্থাপনা নির্মাণ করতে দেখেন। এ সময় গাড়ি থেকে নেমে নির্মাণকর্মী ও ঠিকাদারদের স্থাপনা নির্মাণ করতে নিষেধ করেন তিনি।
তখন পর্যন্ত এ স্থাপনা কে বা কারা নির্মাণ করছে জানতেন না দাবি করে তিনি বলেন, নির্মাণকর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সময় লীমা নামে ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্ট এসে জানান, নির্মাণাধীন ট্রাফিক পুলিশ বক্সটি তারা নিজেরাই ভেঙে ফেলবেন। কিন্তু তারা স্থাপনাটি না ভাঙায় আজ সকালে সিটি করপোরেশনের দৈনন্দিন অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে ফেলার অংশ হিসাবে এটি ভাঙতে গেলে পুলিশ সিটি করপোরেশন কর্মকর্তাদের বাধা দেয়। এ সময় সেখানে ডিএনসিসির উপপ্রধান বর্জ্র ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মফিজুর রহমান ছিলেন। তাকে পুলিশ গ্রেপ্তারের হুমকি দেয়।
মোতাকাব্বীর আহমেদ বলেন, ট্রাফিক পুলিশ বক্সটি ভেঙে ফেলতে আমি ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু ট্রাফিক পুলিশের এই কর্মকর্তাও বক্সটি ভাঙতে বাধা দেন। এটি কমিশনারের বিষয় জানিয়ে আমাকে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলতে বলেন।
এ বিষয়ে ট্রাফিক তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) শাহেদ আল মাসুদ সমকালকে বলেন, এ ধরণের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সাথে নিছক ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।
তিনি বলেন, উচ্ছেদের কিছু প্রক্রিয়া আছে। সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা এসব প্রক্রিয়া ছাড়াই উচ্ছেদ করতে এসেছেন। সরকারের দুটি সংস্থার অফিস উচ্ছেদ করতে এলে তো আগে জানাতে হবে। কিন্তু তারা নিয়ম না মেনেই উচ্ছেদ অভিযানে চলে এসেছেন। এ সময় তাদের চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স আর গাড়ির কাগজপত্র ছিল না। তাই তারা উচ্ছেদ না করে চলে গেছেন।
পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের কষ্ট কেউ বোঝে না। এক বছর আগে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের পাশের একটি পুলিশ বক্স সিটি করপোরেশন ভেঙে ফেলেছে। সে সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মেয়র মহাদয় কয়েকটি ট্রাফিক বক্স করে দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু এক বছরেও সিটি করপোরেশন কোনো ট্রাফিক বক্স নির্মাণ করেনি। বরং ট্রাফিক বক্স উচ্ছেদের জায়গা দখল করে সেখানে হকাররা পিঠার দোকান বসিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের ট্রাফিকবক্সগুলো সড়ক বিভাজকের ওপর নির্মান করা। সেখানে কারও অসুবিধা হওয়ার কথা না। এখানে আগে টিনের তৈরি বক্স ছিল। তখন আসাদ স্তম্ভ নিয়ে কেউ কথা তোলেনি। এখন অনেকে অনেক অযুহাত দেখাচ্ছে।