ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

ব্যবহৃত মাস্ক-পিপিই ধুয়ে বিক্রি

ব্যবহৃত মাস্ক-পিপিই ধুয়ে বিক্রি
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৫ এপ্রিল ২০২০ | ০৪:৫৬ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২০ | ০৫:০৫

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে চিকিৎসক-নার্সসহ অনেকে ব্যবহার করছেন নানা রকম সুরক্ষা সরঞ্জাম। পিপিই, মাস্ক ও হ্যান্ডগ্লাভস তার মধ্যে অন্যতম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এগুলো একবার ব্যবহারের উপযোগী।  তবে একটি চক্র বিভিন্ন হাসপাতালে ব্যবহারের পর ফেলে দেওয়া সরঞ্জামগুলো সংগ্রহের পর আবার তা বাজারজাত করে আসছে।

শুক্রবার রাতে রাজধানীর ভাটারায় অভিযান চালিয়ে  ৩৪ বস্তা ব্যবহৃত মাস্ক, পিপিই ও গ্লাভস জব্দ করেছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত।  এ সময় মনির হোসেন নামে একজনকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারওয়ার আলম সমকালকে বলেন, ব্যবহৃত সরঞ্জাম পুনরায় ব্যবহারে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। তাছাড়া পিপিই-মাস্ক-গ্লাভসগুেলা হাসপাতালের অন্যান্য ক্ষতিকর বর্জ্যের সঙ্গে থাকে বলে তা আরও রোগের জীবাণু বহন করতে পারে। অসাধু চক্র অতিরিক্ত লাভের আশায় ঘৃণ্য এই কাজে জড়িয়েছে। দণ্ডিত ব্যক্তি ছাড়াও তার দু'জন সহযোগীর ব্যাপারে তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে র‌্যাব। শুক্রবারের অভিযানে র‌্যাব-১ এর দলকে সহায়তা করে ভাটারা থানা পুলিশ।

র‌্যাবের এ কর্মকর্তা জানান, ভাটারার একটি হাসপাতাল থেকে অর্থের বিনিময়ে ব্যবহৃত পিপিই-মাস্ক-গতাভস সংগ্রহ করার কথা বলেছে দণ্ডিত ব্যক্তি। এছাড়া উত্তরা ও বসুন্ধরা এলাকার আরও কয়েকটি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান থেকেও এসব সংগ্রহ করা হয়। 'প্রিজম বাংলাদেশ' নামে একটি প্রতিষ্ঠান সব হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা-বর্জ্য সংগ্রহের পর ডেমরার নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে ধ্বংস করে ফেলার কথা। সেক্ষেত্রে এই চক্রটি কীভাবে সেগুলো পেল, হাসপাতালগুলোই বা কেন তাদের দিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই চক্রটি সম্ভবত ঢাকা শহরের 'বর্জ্য-বাণিজ্যে'র সঙ্গেও যুক্ত।

র‌্যাব সূত্র জানায়, ব্যবহৃত মাস্ক, পিপিই ও গ্লাভস ধুয়ে আবারও বাজারজাত করার খবর পেয়ে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে ভাটারার ফাসেরটেক এলাকার বালুরমাঠে অভিযান চালানো হয়। সেখানে বিশাল একটি গুদামে ১০/১২ ট্রাক হাসপাতালের বর্জ্য ছিল। এরমধ্যে দুই-তিন ট্রাক ছিল শুধু মাস্ক-পিপিই-গ্লাভস।

ঝুঁকিপূর্ণ বলে গুণে দেখা সম্ভব হয়নি, তবে অনুমান করা হচ্ছে সেখানে ২৫-৩০ লাখ পিপিই ও কয়েক লাখ মাস্ক রয়েছে। আর যেসব বর্জ্য এখনও বাছাই করা হয়নি, সেগুলোর মধ্যেও প্রচুর মাস্ক-পিপিই-গ্লাভস আছে। তারা এগুলো ভাটারায় বাছাই করে কামরাঙ্গীরচরে পাঠিয়ে দেয় ধোয়ার জন্য। এরপর মিটফোর্ড মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে। যেখানে বর্জ্য জমা করে রাখা হয়েছিল, সেটি ঢাকা সিটি করপোরেশনের কোনো নির্ধারিত কেন্দ্র নয়। দণ্ডিত ব্যক্তিও সিটি করপোরেশনের কেউ নন।

আরও পড়ুন

×