সবারই `জরুরি` কাজ
প্রতীকী ছবি
ইন্দ্রজিৎ সরকার
প্রকাশ: ১৬ মে ২০২০ | ১২:০০ | আপডেট: ১৬ মে ২০২০ | ১৪:৩২
ভাঙাচোরা এক রিকশায় তিন আরোহী। দু'জন যাত্রীর আসনে, তাদের কাঁধের কাছে হুডে পিঠ ঠেকিয়ে বসেছেন আরেকজন। ট্রাফিক পুলিশের মতো হাতের ইশারায় রিকশা থামিয়ে জানতে চাইলাম, 'কোথায় যাচ্ছেন?' তাদের একজন বললেন, 'কাজ আছে। আপনে কেডা? পুলিশ?' নিজের পরিচয় জানিয়ে বোঝার চেষ্টা করলাম, কোনো জরুরি গন্তব্যে যাচ্ছেন কিনা। সে প্রশ্নের উত্তর দিলেন না তারা। শারীরিক দূরত্ব না মেনে একসঙ্গে তিনজন রিকশায় উঠেছেন কেন? এই প্রশ্নেরও উত্তর না দিয়ে বিরক্ত হয়ে বললেন, 'আমাদের জরুরি কাজ আছে। এত প্যাঁচাল পাড়ার টাইম নাই।'
কিছুক্ষণ পর একই স্থানে এক মোটরসাইকেলে চালকসহ দু'জন আরোহী এসে থামেন। চালকের মাথায় হেলমেট থাকলেও আরোহীর মাথায় নেই। অবশ্য তিনি মাস্ক পরে ছিলেন। শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি তুলতেই আরোহী তড়িঘড়ি করে বললেন, 'জানি রে ভাই জানি, বাইরে করোনা আছে। আমরা তো শিক্ষিত। কিন্তু জরুরি কাজ আছে আছে বলেই না বাইরে আসছি।' জরুরি কাজটি কী? সেটি তিনিও জানালেন না, বরং আবার মোটরসাইকেলে উঠে চালককে কিছু বললেন। চালক মোটরসাইকেলে স্টার্ট দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করলেন।
গতকাল শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে তাদের সঙ্গে কথা হয়। সড়কে প্রচুর রিকশা চলছে, সেইসঙ্গে মোটরসাইকেল, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারসহ অন্যান্য যানবাহন। বেশিরভাগ রিকশা ও মোটরসাইকেলেই দু'জন আরোহী, মাঝেমধ্যে তিনজনও।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ শাখার উপ-কমিশনার মাসুদুর রহমান সমকালকে বলেন, 'সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে জনসাধারণকে বারবার অনুরোধ করা হচ্ছে। অনেক সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের সাজার আওতায় আনা হচ্ছে। তার পরও পরিস্থিতির আশাব্যঞ্জক পরিবর্তন হচ্ছে না।
এক্ষেত্রে শিগগিরই আরও কঠোর অবস্থানে যাবে পুলিশ।' জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার খেজুরবাগান মোড়, যা এখন বঙ্গবন্ধু চত্বর নামেও পরিচিত, সেখানে যাত্রীর অপেক্ষায় ছিল অনেক রিকশা ও মোটরসাইকেল। আনুষ্ঠানিকভাবে মোবাইল ফোনের অ্যাপভিত্তিক পরিবহন সেবা বন্ধ থাকলেও অনেকে মৌখিক চুক্তির ভিত্তিতে যাত্রী বহন করছেন। তাদের দু'জন নাম না প্রকাশের শর্তে জানালেন, বেকার থাকায় পাঠাও-উবারের মাধ্যমে মোটরসাইকেলে রাইড শেয়ারিং শুরু করেছিলেন। করোনার কারণে দীর্ঘদিন সেই কাজ বন্ধ। তাই এখন কেউ কোথাও যেতে চাইলে নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে পৌঁছে দিচ্ছেন।
রিকশাচালকরাও জানালেন কিছু তথ্য। ময়মনসিংহের ভালুকার আবদুল জহির জানালেন, এখন যাত্রী কম বলে তারা ভাড়া একটু বেশি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। বাস বা অন্য বাহন না থাকায় যাত্রীরাও আপত্তি করছেন না। একই গন্তব্যের দুই-তিনজন মিলে এক রিকশাতেও যাচ্ছেন।
ফার্মগেট মোড়ে এসে মনে হলো যানবাহনের চাপ বেশ কম। অবশ্য ভুল ভাঙতেও দেরি হলো না। চার-পাঁচ মিনিটের মধ্যেই রীতিমতো যানজট তৈরি হলো।
এদিকে ঢাকার অন্যতম প্রবেশপথ গাবতলী এলাকা দেখে বোঝার উপায় নেই দেশে কোনো বিশেষ পরিস্থিতি চলছে। প্রচুর যানবাহন ঢাকায় ঢুকছে ও বের হচ্ছে। মালবাহী পিকআপ ভ্যানে চড়ে অনেককে যেতে দেখা গেল। পুলিশের কোনো বাধার মুখে পড়তে হলো না তাদের। সিএনজিচালিত অটোরিকশা তো আছেই, মোটরসাইকেলেও দুই বা তিনজন আরোহীকে আসতে-যেতে দেখা গেল। সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশের উপস্থিতিও ছিল অনেক কম।