ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

‘মান-সম্মানের ভয়ে’ যৌনকর্মীকে হত্যা করেন আনসার

‘মান-সম্মানের ভয়ে’ যৌনকর্মীকে হত্যা করেন আনসার
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২০ | ০৮:৪২

রাজধানীর গ্রীন রোড সংলগ্ন গলি থেকে মোমেনা আক্তার নামে এক নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেপ্তার নিরাপত্তাকর্মী আনসার আলী আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি ওই নারী যৌনকর্মীকে হত্যার দায় স্বীকার করেন। 

এর আগে শুক্রবার তাকে গ্রেপ্তার করে কলাবাগান থানা পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) জিজ্ঞাসাবাদে হত্যায় তার সম্পৃক্ততা বেরিয়ে আসে।

ডিবির রমনা জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মিশু বিশ্বাস সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামি ওই নারীকে তার বাসার শৌচাগারে নিয়ে গিয়েছিল। তবে টাকার পরিমাণ নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দেয়। এর একপর্যায়ে চিৎকার করেন মোমেনা। তখন ‘মান-সম্মানের ভয়ে’ তার গলা টিপে ধরেন বলে দাবি করেন আনসার। এতে শ্বাসরোধ হয়ে নারীর মৃত্যু হয়।

গ্রীন রোডের ১৫২/২ নম্বর বাসার সামনে থেকে শুক্রবার সকালে অজ্ঞাতপরিচয় হিসেবে এক নারীর রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে কলাবাগান থানা পুলিশ। তার গলায় ওড়না ও রশি পেঁচানো ছিল। মুখমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছিল জখমের চিহ্ন। পরনে ছিল সালোয়ার-কামিজ। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় তার নাম-ঠিকানা জানা যায়। তার বাড়ি শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলায়। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেছে।

কলাবাগান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আ ফ ম আসাদুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থল থেকে সংগৃহীত সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, নিরাপত্তাকর্মী আনসার আলী ওই নারীর লাশ টেনে রাস্তায় ফেলে রাখছেন। এ কারণে হত্যাকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা আছে বলে ধারণা করা হয়। যে বাড়ির নিচতলায় তিনি থাকেন তার আশেপাশের হত্যার সপক্ষে কিছু আলামতও পাওয়া যায়। তাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদে রহস্যের জট খুলতে শুরু করে।

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আনসার জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তার বাসার সামনের রাস্তায় ঘোরাঘুরি করছিলেন মোমেনা। তাকে শারীরিক সম্পর্কের প্রস্তাব দেন তিনি। এরপর বাসার নিচতলার শৌচাগারে দু’জন ঢুকেছিলেন। তখন টাকা নিয়ে বনিবনা না হওয়ায় মোমেনা চিৎকার করে ওঠেন। 

আরও পড়ুন

×