ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গর্ভপাতের হার ৩৫ শতাংশ, এমআর সেবা বিস্তারে জাতীয় কৌশল বাস্তবায়নের আহ্বান

গর্ভপাতের হার ৩৫ শতাংশ, এমআর সেবা বিস্তারে জাতীয় কৌশল বাস্তবায়নের আহ্বান
×

ছবি: সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২৫ | ২০:১৮

নীতিগত ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে মাসিক নিয়মিতকরণ (এমআর) সেবার উপকরণ ও ওষুধ সরবরাহে ঘাটতি থাকায় পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও অনিরাপদ গর্ভপাতরোধে কাঙ্ক্ষিত সফলতা আসেনি। আগামী তিন মাসের মধ্যে এ সংকট কাটিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। 

বুধবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর ওয়াইডব্লিউসিএ মিলনায়তনে নারীপক্ষ আয়োজিত ‘নীরবতা ভাঙা: সহজলভ্য ও মর্যাদাপূর্ণ মাসিক নিয়মিতকরণ সেবা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এ আহ্বান জানান বক্তারা। 

সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, চিকিৎসক সংগঠন, নাগরিক উদ্যোগ, গণমাধ্যম এবং নারীপক্ষের সদস্যসহ প্রায় ৭০ জন প্রতিনিধি অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন নারীপক্ষের সভানেত্রী গীতা দাস এবং সঞ্চালনা করেন প্রকল্প পরিচালক নিলুফার পারভীন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, পরিবার পরিকল্পনা শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয়, এটি জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক উন্নয়নের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। তবে কিছু নীতিগত ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এমআর কীট, জন্মনিয়ন্ত্রণ উপকরণ ও সরঞ্জামের সময়মতো সরবরাহ সম্ভব হয়নি। ফলে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রম এবং অনিরাপদ গর্ভপাত রোধে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি। তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন এবং যথাযথ প্রশিক্ষণ ছাড়া ওষুধ বিক্রেতাদের এমআর সেবা প্রদানে যুক্ত করার বিষয়ে সতর্ক করেন।

পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের এমসিএইচ-সার্ভিসেস ইউনিটের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মো. মনজুর হোসেন জানান, দেশে তরুণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতির চাহিদা উল্লেখযোগ্য, কিন্তু গর্ভপাতের হার ৩৫ শতাংশের বেশি। অনাকাঙ্ক্ষিত যৌন সম্পর্কের অভিজ্ঞতা থাকা কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতাও তুলনামূলকভাবে বেশি।

আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ড. সৈয়দ আখতার রুবায়েত বলেন, দেশে প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ নারী। এত বিপুল চাহিদা পূরণে পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমের সক্ষমতা ও সেবার আওতা দ্রুত বৃদ্ধি করা জরুরি।

ডব্লিউএইচও’র প্রোগ্রাম অফিসার ডা. মো. নুরুল ইসলাম খান মাসিক নিয়মিতকরণ সেবা নির্দেশিকার মূল বিষয় তুলে ধরে বলেন, এই নির্দেশিকা নারীর প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিরাপদ ও সহজলভ্য করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোসাম্মৎ জোবায়দা বেগম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. আশরাফি আহমেদ, ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্সের কান্ট্রি ডিরেক্টর ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদ, ওজিএসবি’র সাবেক প্রেসিডেন্ট ডা. ফারহানা দেওয়ান, মহিলাবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সদস্য ফেরদৌসি সুলতানা বেগম, আইসিডিডিআরবি’র বিজ্ঞানী ডা. আহমেদ এহসানুর রহমান এবং মেরি স্টোপস বাংলাদেশের পার্টনারশিপ অ্যান্ড ফান্ডরাইজিং প্রধান মনজুন নাহার।

ফেরদৌসি বেগম উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে নারীর স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাবের বিষয়টি উল্লেখ করেন। অন্য বক্তারা বলেন, জাতীয় কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেবার মানোন্নয়ন, সেবাকেন্দ্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা সম্প্রসারণ সম্ভব। পাশাপাশি উপকরণ ও ওষুধের প্রাপ্যতা অনুযায়ী অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের হার পরিবর্তনের পূর্বাভাস তৈরি করলে নীতিনির্ধারকরা সময়মতো পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

গীতা দাস বলেন, এমআর নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নির্দেশিকা তৈরি হয়েছে, যার আলোকে গর্ভবতীদের মর্যাদাপূর্ণ, নিরাপদ ও সুলভ মাসিক নিয়মিতকরণ সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব। এমআর সংক্রান্ত সীমাবদ্ধতা দূর করতে সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে নারীপক্ষের সদস্য ও থিম লিডার (নারীর স্বাস্থ্য ও অধিকার) তাসনীম আজিম ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে এমআর কীট, ওষুধ ও উপকরণ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে অনিরাপদ গর্ভপাতের হার কমিয়ে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা আরও সহজলভ্য করা যাবে।

আরও পড়ুন

×