ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ডা. আতিকের বিরুদ্ধে ‘ভুল’ চিকিৎসা ও প্রতারণার অভিযোগ

ডা. আতিকের বিরুদ্ধে ‘ভুল’ চিকিৎসা ও প্রতারণার অভিযোগ
×

ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ আগস্ট ২০২৫ | ০৫:৫৯ | আপডেট: ১৫ আগস্ট ২০২৫ | ১৭:০০

রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক এবং ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল কাকরাইলের কনসালটেন্ট ডা. কে এম আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসা ও প্রতারণার অভিযোগ তুলেছেন ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিনের পরিবার। তাদের দাবি, অপচিকিৎসার ফলে ৪২ বছর বয়সী হেলালের মৃত্যু হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আকরাম খাঁ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন হেলালের বোন উম্মে ছাবেরীন স্মৃতি, স্ত্রী সামেনা আক্তার ও স্বজনরা। তারা বলেন, অর্থলোভে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে ডা. আতিক হেলালকে অপ্রয়োজনীয় ও ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনে বাধ্য করেন এবং চিকিৎসা অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, হেলালের এমআরআই রিপোর্টে ছোট একটি পিটুইটারি টিউমার ধরা পড়ে। ১২ জুলাই ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডা. আতিক জানান, নাক দিয়ে এন্ডোস্কপিক সার্জারি করে এটি অপসারণ করা হবে—যা ‘মাইনর অপারেশন’ এবং ঝুঁকিমুক্ত। তিনি দ্রুত অপারেশন না করলে চোখ অন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় দেখান এবং ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্যাকেজ মূল্য দাবি করেন।

১৪ জুলাই হেলাল হাসপাতালে ভর্তি হলেও কোনো প্যাকেজ সুবিধা পাননি; আলাদা করে সার্জন ফি ও হাসপাতালের বিল দিতে বাধ্য হন। ভর্তির দিন রক্তচাপ বেশি থাকা সত্ত্বেও পরদিন অপারেশন করা হয়। 

অপারেশনের পর ডা. আতিক বলেন, এটি ‘মেজর অপারেশন’ হয়েছে এবং দুটি টিউমার অপসারণের কথা জানান—যা পূর্বের রিপোর্টের সাথে মিল ছিল না। অপারেশনের পরপরই তিনি ফি দাবি করেন, কিন্তু টিউমারের কোনো স্যাম্পল তৎক্ষণাৎ বায়োপসিতে পাঠাননি।

পরবর্তী সময়ে হেলালের অবস্থা ক্রমেই অবনতি হয়। স্বজনদের অভিযোগ, সঠিক পর্যবেক্ষণ ও জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়নি; পোস্ট-অপারেটিভ কক্ষে অদক্ষ নার্সদের তত্ত্বাবধানে অবহেলায় রাখা হয়। ১৭ জুলাই রাতে মাথায় ড্রেন লাগানো হলেও অ্যানেস্থেশিয়া ব্যবহার করা হয়নি। ১৮ জুলাই সকালে শ্বাসকষ্ট শুরু হলেও সময়মতো আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়নি। সকাল ১১টা ৫৪ মিনিটে আইসিইউতে নেওয়ার পর হেলাল মারা যান।

পরিবার অভিযোগ করে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক লাখ ৬৫ হাজার টাকার বিল পরিশোধ না করা পর্যন্ত লাশ আটকে রাখে। পরবর্তীতে বিল কমিয়ে এক লাখ ৩০ হাজার ৬৫০ টাকা নেওয়ার পর লাশ হস্তান্তর করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে হেলালের স্ত্রী সামেনা আক্তার বলেন, “দুটি সন্তান নিয়ে আমি এখন কোথায় যাব? ভুল চিকিৎসা কেন হলো এবং চিকিৎসক কেন প্রতারণা করলেন—এর জবাব চাই। আমরা চিকিৎসকের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।”

ছাবেরীন স্মৃতি বলেন, “এভাবে আর কত প্রাণ নিভে যাবে? চিকিৎসক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে এমন ঘটনা আর ঘটবে না। এটি শুধু হেলালের জন্য নয়, প্রতিটি মানুষের নিরাপদ চিকিৎসার দাবিতে আমাদের লড়াই।”

স্বজনরা দাবি করেন, ডা. আতিক ইচ্ছাকৃতভাবে উন্নত চিকিৎসা কেন্দ্র বা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে রোগী পাঠাননি; সব কিছু গোপন রেখে ব্যক্তিগত আর্থিক লাভের জন্য ভুল অপারেশন করে হেলালের মৃত্যু ঘটান। তারা ডা. আতিকুল ইসলামের লাইসেন্স বাতিল ও আইনগত শাস্তির দাবি জানান।

অভিযোগের বিষয়ে ডা. আতিকুলকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

আরও পড়ুন

×