ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সেই বিশ্বজিৎ স্মরণে হচ্ছে স্মৃতিস্তম্ভ

সেই বিশ্বজিৎ স্মরণে হচ্ছে স্মৃতিস্তম্ভ
×

বিশ্বজিৎ দাসের স্মরণে সদরঘাট-শাঁখারীবাজার চার রাস্তার মোড়ে স্থাপন করা হয়েছে স্মৃতিফলক

 জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২১

| প্রিন্ট সংস্করণ

২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলের অবরোধ চলাকালে পুরান ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কের সামনে প্রকাশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় দর্জি বিশ্বজিৎ দাসকে। পরে হাইকোর্টে এ মামলার রায় হলেও তা বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন। নৃশংস সেই হত্যাকাণ্ডের এক যুগের বেশি সময় পর বিশ্বজিৎ দাসের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে। প্রাথমিকভাবে নির্মাণ করা হয়েছে একটি স্মৃতিফলক। 

জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন বলেন, পুরান ঢাকার সদরঘাট-শাঁখারীবাজার চার রাস্তার মোড়কে ‘বিশ্বজিৎ চত্বর’ নামকরণ করে সেখানে এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হবে। এরই মধ্যে গত সোমবার স্মৃতিস্তম্ভের কাঠামো নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। স্থাপন করা হয়েছে একটি স্মৃতিফলক। পরবর্তীতে নির্মাণ হবে পূর্ণাঙ্গ স্মৃতিস্তম্ভ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোহানুর রহমান বলেন, বিশ্বজিৎ নিহত হওয়ার এত বছর পরও বিচার হয়নি– এটা দুঃখজনক। তবে বিশ্বজিৎ চত্বর আর স্মৃতিস্তম্ভ তাঁর স্মৃতি ধরে রাখবে। আরেক শিক্ষার্থী বলেন,  আমরা চাই রাষ্ট্র দ্রুত বিশ্বজিৎ হত্যা মামলার বিচার শেষ করুক।

মামলার বৃত্তান্ত
পুরান ঢাকার শাঁখারীবাজারে বড় ভাইয়ের সঙ্গে দর্জির কাজ করতেন বিশ্বজিৎ। গ্রামের বাড়ি ছিল শরীয়তপুরে। ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি হত্যার শিকার হন। এ ঘটনায় সূত্রাপুর থানার এসআই জালাল আহমেদ অজ্ঞাত ২৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ৫ মার্চ ২১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর আদালত আটজনকে মৃত্যুদণ্ড ও ১৩ জনকে যাবজ্জীবন দেন। ২০১৭ সালের ৬ আগস্ট হাইকোর্টের রায়ে দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে; চারজনের মৃত্যুদণ্ড যাবজ্জীবনে রূপান্তরিত হয়; দুজন খালাস পান। যাবজ্জীবন পাওয়া ১৩ আসামির মধ্যে দুজন পরে খালাস পেয়েছেন। মামলাটি বর্তমানে আপিলে বিচারাধীন।

স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে পরিবারের সন্তোষ
খবরটি শুনে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিশ্বজিতের বড় ভাই উত্তম দাস। সমকালকে তিনি বলেন, ভাই মারা গেছে এক যুগ হলো। তার বিচার এখনও পেলাম না। এটা শুনে ভালো লাগছে যে, ভাইয়ের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ হচ্ছে। এতে বিশ্বজিতের প্রতি যে অবিচার করা হয়েছিল, তা নতুন প্রজন্ম জানবে। বিশ্বজিতের বাবা অনন্ত দাস বলেন, ছেলেকে হারিয়েছি অনেক বছর হয়ে গেছে। এত বছর পর তার স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ হচ্ছে শুনে খুব ভালো লেগেছে। 

ফ্যাসিবাদী হামলায় সে মারা যায়: অধ্যাপক ড. রইস
অধ্যাপক ড. রইস উদ্দিন বলেন, ছাত্রলীগ বিশ্বজিৎকে হত্যা করে। ফ্যাসিবাদী হামলায় সে মারা যায়। বিশ্বজিতের নামটা যেন অমর থাকে, এটাই আমাদের চাওয়া। আমরা ইতোমধ্যে সিটি করপোরেশনে ভাস্কর্য নির্মাণের আবেদন দিয়েছি। নকশা অনুমোদন করে এটি পূর্ণাঙ্গ রূপে নির্মাণ হবে। 
এ বিষয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম বলেন, তিনি এখনও চিঠি হাতে পাননি। পেলে ব্যবস্থা নেবেন।

আরও পড়ুন

×