শিক্ষকদের কালো পতাকা মিছিল
দাবি মানা না হলে যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা রোববার
সপ্তম দিনে এসে শনিবার রাজধানীতে কালো পতাকা মিছিল এবং শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন শিক্ষকরা। ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৫ | ২৩:০০
বাড়িভাড়া বৃদ্ধি ও অন্যান্য ভাতাসংক্রান্ত তিন দফা দাবিতে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের আন্দোলন গড়িয়েছে এক সপ্তাহে। সপ্তম দিনে এসে শনিবার তারা রাজধানীতে কালো পতাকা মিছিল করেন এবং শিক্ষা উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করেন।
এদিকে দাবি মানা না হলে রোববার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা করবেন শিক্ষকরা।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল শুরু হয়ে দোয়েল চত্বর হয়ে কদম ফোয়ারা পর্যন্ত যায়।
সেখানে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে শিক্ষকরা বলেন, মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও আমলাদের শুধু বাড়িভাড়া নয়, পুরো বাড়ি লাগে। কিন্তু আমরা ন্যায্য বাড়িভাড়া পাচ্ছি না। এক সপ্তাহ ধরে রাস্তায় বসে ঘুমিয়ে আন্দোলন করছি; তবুও কেউ শুনছে না।
তারা সতর্ক করে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি পূরণ না হলে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল আবরারের পদত্যাগ দাবি জানানো হবে।
মিছিলে শিক্ষকদের হাতে কালো পতাকা এবং মাথায় ‘২০ শতাংশ বাড়িভাড়া চাই’ লেখা ব্যান্ড দেখা যায়। স্লোগানে ছিল ‘তুমি কে, আমি কে– শিক্ষক শিক্ষক’, ‘শিক্ষকদের এক দাবি– ২০ পার্সেন্ট, ২০ পার্সেন্ট’, ‘আমাদের ন্যায্য দাবি, মানতে হবে মানতে হবে’ এবং ‘সি আর আবরার, আর নেই দরকার’ ইত্যাদি।
সমাবেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণপ্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরব না। কালো পতাকা মিছিলের পরও যদি সরকার নীরব থাকে, তাহলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হবে।
এ সময় গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান কদম ফোয়ারায় শিক্ষকদের বিক্ষোভে যোগ দেন। তিনি বলেন, শিক্ষকরা কোনো দুর্নীতি করেন না; দুর্নীতি করেন আমলারা। অথচ শিক্ষকরাই রাস্তায় বসে ন্যায্য অধিকার চাচ্ছেন– এটা জাতির জন্য লজ্জা। আমলাদের চেয়ে শিক্ষকদের বেতন বেশি হওয়া উচিত। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত গণঅধিকার পরিষদ পাশে থাকবে।
এ ছাড়া শহীদ মিনারে অবস্থানরত শিক্ষকদের একাংশ গত দুদিন ধরে আমরণ অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্দোলনের সপ্তম দিনে তারা জানান, দাবি মানা না হলে রোববার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে পদযাত্রা ‘মার্চ টু যমুনা’ অনুষ্ঠিত হবে।
গত রোববার শিক্ষকদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে সোমবার থেকে দেশজুড়ে সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লাগাতার কর্মবিরতি চলছে।
আন্দোলনকারীদের তিন প্রধান দাবি হলো– মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা নির্ধারণ, চিকিৎসা ভাতা ৫০০ টাকা থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা করা এবং উৎসব ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা। পাশাপাশি তারা সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জাতীয়করণের দাবিও যুক্ত করেছেন।
এর আগে সরকার বাড়িভাড়া ভাতা ৫০০ টাকা বাড়ানোর ঘোষণা দেয়, যা ৫ অক্টোবর প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষকরা ‘অপর্যাপ্ত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। পরদিন শিক্ষা মন্ত্রণালয় বাড়িভাড়া ভাতা দুই থেকে তিন হাজার টাকা করার প্রস্তাব অর্থ বিভাগে পাঠায়, কিন্তু তাতেও আশ্বস্ত হননি শিক্ষকরা।
শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ দাবি
বেতন-ভাতার বৃদ্ধি কোনো শতাংশ নয়, বরং কর্মরত সব মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ চায় মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারীদের সর্ববৃহৎ অরাজনৈতিক সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন।
সংগঠনটির সভাপতি ও দৈনিক ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন বলেন, শিক্ষকদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে এখন যারা আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তারা শুধু স্ট্যান্ডবাজি করছেন, আমরা কোনো শতাংশের হিসাবে বেতন-ভাতা চাই না। আমরা চাই, জাতীয়করণ করে শতভাগ সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে।
শনিবার মহাখালীর গাউসূল আজম কমপ্লেক্সে বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের উদ্যোগে আয়োজিত মাদ্রাসা শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষিকাদের করণীয় শীর্ষক সেমিনারে এসব কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব রুহী রহমান, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক শাহনেওয়াজ দিলরুবা খান।
