ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বিডিএসএফ রাজনৈতিক বক্তৃতামালা : আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তা-সংলাপ

বিডিএসএফ রাজনৈতিক বক্তৃতামালা : আগামীর বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তা-সংলাপ
×

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে অতিথি ও অংশগ্রহণকারীরা। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৭ অক্টোবর ২০২৫ | ১৯:৪২

রাজনৈতিক চর্চাকে যুক্তিনির্ভর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানিয়ে বাংলাদেশ স্টাডি ফোরাম (বিডিএসএফ) আয়োজিত ‘রাজনৈতিক বক্তৃতামালা’র তৃতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার আর্টস অডিটোরিয়ামে এটি অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল সাড়ে তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ আগামীর বাংলাদেশের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পথচলার দিকনির্দেশনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে বিডিএসএফের প্রতিষ্ঠাতা কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক সাবিদিন ইব্রাহিম বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে যেখানে তাত্ত্বিক রাজনীতি ও মাঠের বাস্তবতা একে অপরের পরিপূরক হয়ে উঠছে। আমাদের আলোচনার উদ্দেশ্য হলো নতুন প্রজন্মের রাজনীতিকে সংলাপের মাধ্যমে বাস্তববোধে ফিরিয়ে আনা।’ তিনি বিডিএসএফের চলমান আলোচনাগুলোকে ‘রাজনৈতিক সংস্কৃতি গঠনের এক সেতু’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রথম বক্তৃতায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন ‘এনসিপির চোখে আগামীর বাংলাদেশ’ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমরা এমন এক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছি, যেখানে তত্ত্ব কেবল বইয়ে নয়, বাস্তব রাজনীতির ময়দানেও জায়গা করে নিয়েছে।’

তিনি পূর্ববর্তী সরকারের নীতির ভালো দিকগুলো শুধু বিরোধিতার কারণে বাতিল না করার আহ্বান জানান। প্রতিরক্ষা ও প্রশাসনিক কাঠামোয় ধারাবাহিক সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন এমন এক পর্যায়ে, যেখানে আন্তর্জাতিক মঞ্চে আমাদের ভোটের মূল্য বাড়াতে হবে—ভূরাজনৈতিক গুরুত্বের সদ্ব্যবহার করেই তা সম্ভব।’

দ্বিতীয় বক্তৃতায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন ‘বাংলাদেশে বাম রাজনীতির ভূত-ভবিষ্যৎ’ বিষয়ে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘এই বিপ্লবের সবচেয়ে বেশি ত্যাগ স্বীকার করেছে সমাজের নিম্ন আয়ের মানুষ। কিন্তু বাস্তবে তারা খুব বেশি সুবিধা পায়নি।’

তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সংস্কার কমিশনগুলোকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে হবে…বেতন বৈষম্য দূরীকরণে প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে এবং …অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবার পথ সুগম করতে হবে।’

‘রাষ্ট্র সংস্কারের রাজনীতি কি সঠিক পথে আছে?’—এই বিষয় নিয়ে বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম। তিনি বিপ্লব-উত্তর সময়ের আইনি জটিলতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, রাষ্ট্র সংস্কার তখনই সফল হবে, যখন আইন ও প্রশাসনিক কাঠামোর সমন্বয়ে জনস্বার্থকে সর্বাগ্রে রাখা হবে।’

তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র সংস্কারের রাজনীতি সঠিক পথে নেই। তবে যে প্রত্যাশা নিয়ে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল সে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত দেশে স্বস্তি আসবে না।’

সমাপনী বক্তা নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ‘রাজনৈতিক দলকে আর কেবল আদর্শ দিয়ে বিচার করা যাবে না; এখন সময় এসেছে কর্মসূচি ও কার্যকারিতা দিয়ে বিচার করার।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতি এখন ধীরে ধীরে এমন এক পর্যায়ে যাচ্ছে, যেখানে ভিন্ন মতকে সম্মান করার সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে।’ 
রাজনীতিকে অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে উল্লেখ করে জনাব মান্না বলেন, ‘যে রাজনীতি বাস্তবভিত্তিক নয়, তা টেকসই হতে পারে না।’

অনুষ্ঠান শেষে মুক্ত আলোচনা পর্বে শিক্ষার্থী, গবেষক ও তরুণ রাজনৈতিক কর্মীরা বক্তব্য রাখেন। তারা নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশে এ ধরনের চিন্তাশীল আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
 

আরও পড়ুন

×