ঢাকা শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রকট

দেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রকট
×

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে গতকাল রোববার ‘জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১২:১২

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রকট হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশি-বিদেশি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য  তৃণমূলের অংশগ্রহণে একটি সুন্দর নির্বাচন প্রয়োজন। পাশাপাশি শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ধারায় দেশকে ঐক্যবদ্ধভাবে সামনের দিকে নিয়ে যেতে হবে। তবে একটি ‘ম্যানেজ’ নির্বাচনের দিকে দেশ গেলে এই নিরাপত্তা সংকট থেকে বাংলাদেশ বের হতে পারবে না। কারণ ইতোমধ্যে আমাদের বাহিনীগুলোকে রাজনীতিকীকরণ করা হয়েছে। এই কারণে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বেড়েছে। 

গতকাল রোববার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ‘আঞ্চলিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণের জাতীয় নিরাপত্তা ঝুঁকি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব অভিমত ব্যক্ত করেন। বেসরকারি সংগঠন ভয়েস ফর রিফর্ম ও বাংলাদেশ রিসার্চ অ্যানালাইসিস অ্যান্ড ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক (ব্রেইন) যৌথভাবে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। 

শরিফ ওসমান হাদি হত্যা ও সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু সন্ত্রাসী ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঝুঁকি এবং সংসদ নির্বাচন ঘিরে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কী ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত সেটাকে সামনে রেখে এই আয়োজন করা হয় বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়। 

রাজনৈতিক বিশ্লেষক দিলারা চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ একটি জটিল সময় পার করছে। এমন অবস্থা তৈরি হয়েছে, সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ টিকে থাকবে কিনা সেটা নির্ভর করছে সবার ঐক্যের ওপর। আমরা যদি একটি ভালো রাজনৈতিক সম্প্রদায় গড়ে তুলতে না পারি তাহলে দেশ সংকটে পড়বে। 

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বিভেদ থাকবে। কিন্তু কিছু বিষয়ে সবাইকে একমত থাকতে হবে। তা না হলে নিরাপত্তা ঝুঁকি যাবে না। 

তিনি বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দেশের জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। হাদিকে খুন করে হত্যাকারীরা দেশের বাইরে পালিয়ে গেল। সরকার কোনো ব্যবস্থাই নিতে পারেনি। উজানে নদীর পানির জোগান আগামী দিনে বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হিসেবে উঠে আসবে। ভারত এটিকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার ইঙ্গিত দেওয়া শুরু করেছে। ভবিষ্যতে কোনো সরকারই যাতে অন্য রাষ্ট্রের মাধ্যমে পরিচালিত না হয় সেজন্য জনগণকে সচেতন থাকতে হবে। ভারতের সঙ্গে অতীতের সব চুক্তি প্রকাশ ও পর্যালোচনা করতে হবে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষক লে. জে. (অব.) আমিনুল করিম বলেন, যখন সবকিছু ব্যর্থ হয়, তখন মিলিটারি আসে। ওপর থেকে সেই মিলিটারিকে নষ্ট করা হয়েছে। এটির ব্যবহার করা উচিত ছিল বহিঃশত্রু থেকে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ঝুঁকি কমানোর উদ্দেশ্যে। আমাদের আকাশ প্রতিরক্ষার ওপর জোর দিতে হবে। সংসদকে যদি ভালোভাবে তৈরি করতে পারি, তাহলে কাজ হবে। 

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. মোবাশ্বার হাসান বলেন, ১৫ বছর নিরাপত্তা বাহিনীকে রাজনীতিকীকরণ করা হয়েছে। সাধারণভাবে দেখা যায় এক দল যাওয়ার পর যে দল আসে তারা আবার একইভাবে কাজ করতে শুরু করে। এটা ভালো লক্ষণ না।

অধ্যাপক রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, নতুন বিশ্বে বৈদেশিক শত্রুরা অপতথ্য দিয়েও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করে। তথ্যযুদ্ধ প্রতিরোধ করার সক্ষমতাও আমাদের তৈরি করতে হবে। দেশের সামরিক বাহিনী অনেক প্রলোভনের পরও গত দেড় বছর রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করেনি, সেটি রাষ্ট্র ও সমাজ হিসেবে আমাদের বিশাল অর্জন। ভবিষ্যতে এটিই হবে আমাদের নিরাপত্তার বড় ভিত্তি। 

সামরিক নিরাপত্তা বিশ্লেষক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাহফুজ বলেন, ভারতীয় সামরিক কৌশল নিয়ে কাজ করা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশের তিনটি চিকেন নেক বিচ্ছিন্ন করার ব্যাপারে আলোচনা উঠিয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের সামরিক ও বেসামরিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের সচেতন হওয়া জরুরি।

অনলাইনে যুক্ত হয়ে সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জন ডেনিলোভিজ বলেন, বর্তমান পরিবর্তিত আন্তর্জাতিক প্রেক্ষিতে বিশাল খরচ করে দামি যুদ্ধজাহাজ না কিনে দেশের ভেতরে কী ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে সেটির যথার্থ বিশ্লেষণ করা জরুরি।

সেমিনার যৌথভাবে সঞ্চালনা করে ভয়েস ফর রিফর্মের সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর ও ব্রেইনের নির্বাহী পরিচালক ড. শফিকুর রহমান।

আরও পড়ুন

×