ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

পদোন্নতির দাবিতে বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসকদের অবস্থান কর্মসূচি

পদোন্নতির দাবিতে বিএসএমএমইউ’র চিকিৎসকদের অবস্থান কর্মসূচি
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২০ | ১০:০৮

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) প্রায় দুই শতাধিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও গবেষণা সহকারি পদোন্নতির দাবিতে মৌন মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। 

বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মিলন হলের সামনে মৌন মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালনের পর বঞ্চিত চিকিৎসকরা ভিসির কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন। একই দাবিতে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ভিসিকে স্মারকলিপি দিলেন তারা।  

স্মারকলিপিতে বলা হয়, বিএসএমএমইউ দেশ সেরা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান হওয়ার পরও স্থায়ীভাবে নিয়োগকৃত চিকিৎসকদের পদোন্নতির সুনির্দিষ্ট নীতিমালা নেই। ফলে দুই শতাধিক চিকিৎসক দীর্ঘদিন পদোন্নতি বঞ্চিত অবস্থায় আছেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন, নিউরোমেডিসিন, নিউরোলজি, নিউরোসার্জারি, গাইনি, কার্ডিওলজি, অর্থোপেডিক্স, রিউম্যাটোলজিসহ প্রায় ৫৪টি বিভাগের চিকিৎসকরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ূয়ার দপ্তরে অবস্থান নিয়ে স্মারকলিপি প্রদানের মাধ্যমে দাবি পেশ করেন। এ সময় তাদের পদোন্নতির ব্যাপারে উপাচার্যসহ সংশ্নিষ্টদের কাছে অনুরোধ জানিয়ে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের আহ্বান করেন। 

আন্দোলনকারী একাধিক চিকিৎসক বলেন, যারা পদোন্নতি বঞ্চিত আছে তাদের অনেকের অবসরে যাওয়ার সময় হয়ে গেছে। এতে তারা সামাজিকভাবে হেয় হচ্ছেন। যোগ্যতা থাকার পরও যথাযথভাবে তারা দেশ ও মানুষের সেবা করতে পারছেন না। পদোন্নতি না পেয়ে প্রায় দেড় যুগ ধরে তারা মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। যদিও তাদের অনেকের এফসিপিএস ও এমডি নামক বাংলাদেশের সেরা ডিগ্রিগুলো সম্পন্ন করা আছে। 

চিকিৎসকরা আরও বলেন, করোনার এই পরিস্থিতিতেও টেলিমেডিসিন সেবা, বহির্বিভাগের সেবা, ইনডোরে রাউন্ড, করোনা আক্রান্ত রোগীদের জন্য বিশেষায়িত ফিভার ক্লিনিক এবং কোভিড ইউনিটের রোগীদের সেবা প্রদানসহ সহকারী অধ্যাপক পদের সমমানের কাজে ব্যস্ত থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যসেবার মানকে সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন। 

তারা জানান, চিকিৎসকদের পদোন্নতি বঞ্চনার এই বিষয়টি মানবিকভাবে বিবেচনা করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, সব সিন্ডিকেট সদস্য, সব বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিশ্ববিদ্যালয় স্বাচিপের সভাপতি সেক্রেটারি ও প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক এবিএম আব্দুল্লাহসহ সব পর্যায়ের নীতি নির্ধারণী ব্যক্তিদের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।

চিকিৎসকরা জানান, দেড় যুগের বেশি সময় ধরে পদোন্নতি বন্ধ থাকায় এর আগে গত ১ ডিসেম্বর ২০১৯ প্রথম দফা আন্দোলন করেন তারা। এরপর ১৪ জানুয়ারি ২০২০ আরও একবার স্মারকলিপি দিয়ে দাবি দাওয়া পেশ করেন। এবার তৃতীয়বারের মতো আন্দোলনে নেমেছেন তারা। চিকিৎসকদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে পদোন্নতি বঞ্চিতদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সিন্ডিকেট মেম্বারদের সর্বসম্মতিক্রমে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু সেই কমিটির মেয়াদ ছয় মাসের অধিক অতিবাহিত হওয়ার পরও কোনো মতামত প্রদান না করায় বঞ্চিতরা আবারও আন্দোলনে নেমেছেন।

আরও পড়ুন

×