মৃত্যুর আগে অভিযুক্তদের নাম বলেছিলেন কাওসার: সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী সুমার দাবি
ছবি- সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২৬ | ১৮:২৫
রাজধানীর ভাষানটেকে নিহত কাওসার মোল্লা হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার স্ত্রী মোসা. সুমা। সংবাদ সম্মেলনে তিনি দাবি করেন, গত ১৭ জুলাই ২০২৬ রাতে পরিকল্পিতভাবে তার স্বামীকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দামাল কোট ৩ নম্বর এলাকায় ফেলে রেখে যায় অভিযুক্তরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর আগে কাওসার মোল্লা হামলায় জড়িত কয়েকজনের নামও উল্লেখ করেছিলেন বলে দাবি করেন তিনি।
আজ বুধবার সকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী মিলনায়তনে মোসা. সুমা জানান, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টা ৩০ মিনিটে সাইফুল নামে এক ব্যক্তি ফোন করে কাওসার মোল্লাকে বাসা থেকে ডেকে নেন। পরে রাত ১২টা ৩০ মিনিটের দিকে তাকে দামাল কোট ৩ নম্বর এলাকা থেকে তুলে নিয়ে রবিউল ইসলাম সুমনের বাসার দ্বিতীয় তলায় নেওয়া হয়। সেখানে রডসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। এরপর গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঘটনাস্থলের কাছেই ফেলে রেখে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে ভাষানটেক থানার এসআই আবুল কালাম আজাদের ফোন পেয়ে তিনি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (পঙ্গু হাসপাতাল)-এ যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার স্বামী মৃত্যুর আগে হামলাকারীদের মধ্যে রবিউল ইসলাম সুমন, রাজু, শরিফ, সাইফুল, ওহিদুল, ইন্দ্রজিৎ, ইফাদ, ইমরান, সাদ্দাম, জুয়েল ও আব্দুলের নাম উল্লেখ করেন বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মোসা. সুমা বলেন, ওই সময় ভাষানটেক থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) সাজিদুল করিম সরকার সেখানে উপস্থিত ছিলেন এবং তার জানামতে, তিনি মোবাইল ফোনে কাওসারের বক্তব্য ভিডিও আকারে ধারণ করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভোর আনুমানিক ৪টা ৩০ মিনিটে চিকিৎসক কাওসার মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে তার মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সেখানে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। লিখিত বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, ভাষানটেক থানায় মামলা করতে গেলে মৃত্যুর আগে কাওসার যে ব্যক্তিদের নাম উল্লেখ করেছিলেন, তাদের বাদ দিয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়া হয়। এ বিষয়ে থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চাইলেও সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মোসা. সুমা তার স্বামীর মৃত্যুর আগে দেওয়া বক্তব্য, ভিডিও রেকর্ডিং এবং অন্যান্য আলামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। এ সময় তিনি প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, মানবাধিকার সংস্থা ও গণমাধ্যমের প্রতি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
- বিষয় :
- সংবাদ সম্মেলন
- হত্যা