ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নারীর বাধা দূর করতে দায় নিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে

নারীর বাধা দূর করতে দায় নিতে হবে রাজনৈতিক দলগুলোকে
×

আইনজীবী জাইমা রহমান ও একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির। ছবি: সমকাল

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ০৭:৩৩

রাজনীতিতে নারীর এগিয়ে আসার পথে বিদ্যমান কাঠামোগত ও প্রাতিষ্ঠানিক বাধা দূর করতে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন নারী নেত্রীরা। তারা বলেছেন, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়; মেন্টরশিপ, অর্থায়ন, নিরাপত্তা এবং মানসিকতা পরিবর্তনের মাধ্যমে নারীর জন্য সহায়ক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

গতকাল রোববার রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে উইমেন ইন ডেমোক্রেসি (উইনড) আয়োজিত ‘গণতন্ত্রের সংগ্রামে নারী: অবদান ও আগামীর বাংলাদেশ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব বক্তব্য উঠে আসে। 

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মেয়ে আইনজীবী জাইমা রহমান বলেন, রাজনীতিতে শুরু থেকেই নারীর জন্য একটি শক্ত লাইফলাইন দরকার। যার মধ্যে থাকবে নিয়োগ, প্রশিক্ষণ ও ধরে রাখার ব্যবস্থা। শুধু সুযোগ দিলেই হবে না; সেই সুযোগ টেকসই করতে হবে। এ ছাড়া কর্মক্ষেত্রে শুধু নামমাত্র ডে-কেয়ার সেন্টার থাকলেই হবে না। সেখানে প্রশিক্ষিত কর্মী, বয়সভিত্তিক সেবা, পুষ্টিকর খাবার ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। এসব কাঠামো না থাকলে নারীর পক্ষে রাজনীতি বা কর্মক্ষেত্রে সক্রিয় থাকা কঠিন হয়ে পড়ে।

তরুণ নারীর রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য অভিজ্ঞদের দিকনির্দেশনা প্রয়োজন বলে মনে করেন জাইমা। তাঁর ভাষায়, তালগাছের ছায়ার মতো একজন মেন্টর না থাকলে ছোট গাছ বড় হবে কীভাবে? তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মসূচির দায়িত্ব রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে।

অর্থায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচার ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে নারীর জন্য আলাদা আর্থিক সহায়তা দরকার। সমতার কথা বললেই হবে না; বাস্তবে বৈষম্য দূর করতে বাড়তি সুবিধা দিতে হবে।

নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব কোড অব কন্ডাক্ট থাকা উচিত বলে মত দেন জাইমা রহমান। তিনি বলেন, কোনো নারী নেত্রী হয়রানির শিকার হলে দলকে দায় নিতে হবে; পাশে দাঁড়াতে হবে।

একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, সংসদ নির্বাচন নিয়ে নারীদের নেতৃত্বের জায়গা থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এত দিন বিভিন্ন জায়গায় নারীরা নেতৃত্বে ছিলেন। তবে গত ১৮ মাসে নতুন করে মনে হয়েছে, এসব নারী কি এখন সবাই ফিরে যাবে? তাই দেশের মানুষকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নিতে হবে– তারা কী ধরনের নেতৃত্ব চায়।

আইনজীবী সারওয়াত সিরাজ শুক্লা বলেন, গত ১৮ মাসে মেয়েরা একটা খেলায় এগিয়ে এসেছে, তা হলো আত্মরক্ষার খেলায়। বর্তমানে অনলাইন ও অফলাইনে নারীদের স্লাটশেমিং ও হয়রানি আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, নির্বাচন শেষ হলেই কাজ থেমে গেলে চলবে না। তিনি নারী অধিকারের পরিসর বাড়ানো, রাজনৈতিক কারণে কারাবন্দি নারীর মুক্তি এবং রাজনীতিতে নারীর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। তাঁর মতে, নারীর সমান অংশগ্রহণ ছাড়া প্রকৃত গণতন্ত্র সম্ভব নয়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শামীমা সুলতানা বলেন, মুক্তিযুদ্ধে নারীর ভূমিকা যথাযথ স্বীকৃতি পায়নি। জুলাই আন্দোলনে নারীর সক্রিয় ভূমিকা থাকলেও রাজনীতিতে এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

শ্রমিক নেতা কল্পনা আক্তার বলেন, যতবার নারীদের পেছানোর চেষ্টা হবে, নারীরা ততবার লড়ে যাবে। দুই পা পিছালে আমরা চার পা এগিয়ে যাব। 

মুক্তিযোদ্ধা লুৎফা হাসান রোজি বলেন, সমানাধিকারের জন্য প্রয়োজনীয় গণতান্ত্রিক পরিবেশ  গড়ে তুলতে নারীকেই বেশি এগিয়ে আসতে হবে।

ডাকসুর কার্যকরী সদস্য হেমা চাকমা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পরও নারীর অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। নারী বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদান ‘সেলিব্রেট’ করা হয় না। বরং সমালোচনা হয়। 

টিভি উপস্থাপক কাজী জেসিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় আরও অংশ নেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম খান, ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্বি প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×