ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার প্রতিবাদে হিন্দু মহাজোটের মানববন্ধন

সংখ্যালঘুদের ওপর সহিংসতার প্রতিবাদে হিন্দু মহাজোটের মানববন্ধন
×

প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের নেতারা। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৩ মার্চ ২০২৬ | ১৪:০৮ | আপডেট: ১৩ মার্চ ২০২৬ | ১৪:১১

দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ধারাবাহিক সহিংসতা, হত্যা, চাঁদাবাজি, মন্দিরে হামলা, ধর্ষণ ও জমি দখলের ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির উদ্যোগে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬-এর আগে ও পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের ওপর সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। হত্যা, হামলা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, চাঁদাবাজি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ধর্ম অবমাননা এবং মন্দির ভাঙচুরের মতো ঘটনা ঘটলেও অনেক ক্ষেত্রে অপরাধীরা আইনের আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তারা।

বক্তারা বলেন, গত ৯ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে চাল ব্যবসায়ী সুসেন চন্দ্র সরকারকে তার নিজ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ১১ ফেব্রুয়ারি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে এক চা বাগানে শুভ কর নামে এক চা শ্রমিককে হাত-পা বেঁধে গলা কেটে হত্যা করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি বগুড়া শহরে মাত্র ৫০০ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় সুনীল বাঁশফোরকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি গাইবান্ধা সদরে সুজন কুমার মহুরিকে কুড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

এছাড়া গত ২২ ফেব্রুয়ারি ভোলা জেলার তজুমদ্দিন উপজেলায় একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার পর বাড়ি ফেরার পথে এক হিন্দু নারীকে অপহরণ করে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগও তুলে ধরেন তারা।

মানববন্ধনে আরও বলা হয়, চলতি মাসে দেশের বিভিন্ন জেলায় খুন, মন্দিরে হামলা, ধর্ষণচেষ্টা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে। ৬ মার্চ বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে জমি বিরোধকে কেন্দ্র করে চয়ন রাজভর নামে এক ব্যক্তিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। পরদিন ৭ মার্চ কক্সবাজার শহরে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গণেশ পাল নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। একই দিন কুমিল্লা নগরীর দক্ষিণ ঠাকুরপাড়া এলাকায় একটি মন্দিরে পূজা চলাকালে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় পূজারিসহ কয়েকজন আহত হন।

এসব ঘটনার মাধ্যমে দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে। প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে অপরাধীরা বারবার একই ধরনের অপরাধ করার সুযোগ পাচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

মানববন্ধনে নেতারা দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং সরকারি খরচে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান তারা। দেশের সব নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধনে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোটের সিনিয়র সহ-সভাপতি মিঠু রঞ্জন দেব, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দাস, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট উদয় কুমার বসাক, সহ-আইনবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল মজুমদার, সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক মৃণাল জয়ধর, কেন্দ্রীয় সদস্য বিজয় ভৌমিক, পলাশ অধিকারী এবং ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক দেবব্রত মিত্রসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

×