ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ঈদ বাজার

পোশাকের দাম গত বছরের চেয়ে দেড় থেকে দুই গুণ

পোশাকের দাম গত বছরের  চেয়ে দেড় থেকে দুই গুণ
×

ঈদ সামনে রেখে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দোকান ঘুরে বাজেটের মধ্যে পছন্দের পোশাক খুঁজে নেন ক্রেতা। গতকাল রোববার বসুন্ধরা সিটির শপিংমলে। ছবি: সমকাল

রিক্তা রিচি

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১৩:২৭ | আপডেট: ১৬ মার্চ ২০২৬ | ১৩:৫৪

সিল্ক, মসলিন ও অরগাঞ্জা ফেব্রিকের সালোয়ার-কামিজ থরে থরে সাজানো রয়েছে রাজধানীর বসুন্ধরা সিটির অনেক দোকানে। একটির পর একটি হাতে তুলে দেখছেন মোহাম্মদপুর থেকে আসা সুরভি আক্তার। নতুন পোশাক কিনতে এসে দাম শুনেই মুখটা মলিন হয়ে যায়। দাম নাগালের বাইরে থাকায় পছন্দের পোশাকটি হাতে নিয়েও শেষ পর্যন্ত রেখে অন্য দোকানে যান। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিভিন্ন দোকান ঘুরে ঘুরে দেখছি। বাজেটের সঙ্গে না মেলায় কিনতে পারছি না।

দনারীদের পোশাকের বাজারে শুধু এই ক্রেতাই নন, তাঁর মতো আরও অনেকে ঈদের কেনাকাটা করতে গিয়ে দামের জন্য পড়ছেন বিড়ম্বনায়। ক্রেতাদের অভিযোগ, ঈদ এলেই পোশাকের দাম আরও বেশি হয়ে যায়। তবে বিক্রেতারা বলছেন, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ ও ডিজাইনের বৈচিত্র্যের কারণে পোশাকের দাম বেড়েছে। 

বসুন্ধরা সিটির নিচতলায় ‘এমব্রেলা’তে ঘুরে দেখা যায়, নারীদের সালোয়ার-কামিজ ও বিভিন্ন পোশাকের দাম ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ব্র্যান্ডটির বিক্রয়কর্মী আয়েশা আহমেদ জানান, পোশাকের দাম বেশি নয়। মূলত এ পোশাকগুলো দুবাই থেকে আমদানি করা। পাশাপাশি পোশাকে মীনাকারি ও কারচুপির মতো কারুকাজও হাতে করা হয়েছে। এ কারণেই পোশাকের দাম একটু বেশি।

রাইজ, জেন্টেল পার্কসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, কাফতান কাট ও এ-লাইন কাটের সিঙ্গেল পিস এবং টপসের দাম দুই হাজার ৮০০ থেকে তিন-চার হাজার টাকা। সালোয়ার-কামিজের দাম সাত থেকে আট হাজার টাকা। আড়ংয়ের বিভিন্ন আউটলেট ঘুরেও একই পরিস্থিতি চোখে পড়ে। 

নরসিংদী থেকে কেনাকাটা করতে আসা কেয়া আক্তার জানান, মোটামুটি পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা না হলে একটি ভালো মানের থ্রিপিস বা সালোয়ার-কামিজ কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তাঁর দাবি, গত বছর, তার আগের বছর চার থেকে সাড়ে চার হাজার টাকার মধ্যেই পোশাক কেনা সম্ভব হয়েছিল।

এ বছর কেনাকাটা করার জন্য নিউমার্কেট, গাউছিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন মার্কেটের ব্র্যান্ডগুলোতে ঘুরেছেন মিরপুরের বাসিন্দা রুমানা ইসলাম। তিনি বলেন, গত বছর আমার ঈদের জামা কিনেছি পাঁচ হাজার টাকায়, আর এবার কিনতে হয়েছে সাড়ে আট হাজার টাকায়।

দামের আধিক্য লক্ষ্য করা যায় বসুন্ধরা সিটির সার্ক বাজার, শালিমার, আধুনিক শাড়িজ, শাড়ি বাজার ও আর্চি ফ্যাশনেও। পাকিস্তান ও ভারতীয় বিভিন্ন পোশাক আমদানি করে বিক্রি করে সার্ক বাজার বিপণিবিতান। পাকিস্তানি ব্র্যান্ড সাদাবাহার, আল নূর, মারিয়া বি, বিন্তে নূর, আগা নূর ও বিন খালিদ ব্র্যান্ডের পণ্য এখানে বিক্রি হচ্ছে ছয় 
হাজার থেকে ১০ হাজার টাকায়। চীন থেকে আনা পার্টি ও ওয়েডিং গাউনের দাম শুরু ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত।

বিভিন্ন মার্কেটসহ দেশীয় ব্র্যান্ডগুলোতেও দামের তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। দেশীদশসহ বিভিন্ন দেশীয় ব্র্যান্ড ঘুরে দেখা যায়, সুতি পোশাকের দামও আগের চেয়ে অনেকটা বেশি। আগে যে পোশাক কেনা যেত এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকায়, সেটি কিনতে এখন ব্যয় করতে হচ্ছে দুই হাজার ৫০০ থেকে আড়াই হাজার টাকা।

পোশাকে এমব্রয়ডারি, কারচুপি, সিকুইন, মিরর ওয়ার্ক ও ট্যাসেল যুক্ত থাকায় দাম বেড়েছে। এর সঙ্গে ১৫ শতাংশ ভ্যাটকেও দাম বৃদ্ধির একটি কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন রঙ বাংলাদেশের এরিয়া ম্যানেজার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া।

পোশাকের ব্র্যান্ড ‘কে-ক্র্যাফট’-এর স্বত্বাধিকারী খালিদ মাহমুদ খান জানান, মেয়েদের পোশাকের দাম যৌক্তিক অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। কাপড়ের মূল্য, এর ব্যবহার, অলংকরণের খরচসহ নানা বিষয় একটি পোশাকের বিক্রয়মূল্য নির্ধারক। ক্রেতার পছন্দের পোশাকে যদি বেশি কারুকাজ থাকে বা মিশ্র মাধ্যমে কাজ করা হয়, স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়ে যায়। তাঁর দাবি, কে ক্র্যাফটে মেয়েদের পোশাকের দাম খুব বেশি বাড়েনি। 

উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, কাপড়, সুতা, পাথর, বোতাম, লেসসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম গত কয়েক বছরে বেড়েছে। কারণ এসবের অনেকটাই আমদানিনির্ভর। বৈশ্বিক যুদ্ধ, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি কিংবা পরিবহন খরচ বাড়লে তার প্রভাব সরাসরি পোশাকের দামে পড়ে। এ ছাড়া ঈদের আগে নতুন কালেকশন, বিজ্ঞাপন, মডেল ফটোশুট ও শোরুম সাজানোর মতো কাজেও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হয়। এসব খরচও পণ্যের মূল্যের সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে ব্র্যান্ডেড পোশাকের দাম তুলনামূলক বেশি হয়ে থাকে। আবার ঈদে ক্রেতারা সাধারণত নতুন ও আকর্ষণীয় পোশাক কিনতে আগ্রহী থাকেন। ফলে কিছু ক্ষেত্রে উৎসবকেন্দ্রিক মূল্য নির্ধারণও দেখা যায়।

ক্রেতাদের অভিযোগ, এ বছর লা রিভের পোশাকের দামও অনেক বেশি। এ বিষয়ে ব্র্যান্ডটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মন্নুজান নার্গিস বলেন, দাম বাড়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কারণও আছে। গত বছর জানুয়ারি থেকে পোশাকে ভ্যাটের পরিমাণ সাড়ে ৭ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে। এখন ১০ হাজার টাকার একটি পোশাক কিনলে এক হাজার টাকা ভ্যাট দিতে হয়। এই ভ্যাটের চাপ ক্রেতার বাজেটের পাশাপাশি পোশাকের ব্র্যান্ডগুলোর ওপরও পড়ছে।

আরও পড়ুন

×