গানে গানে সন্জীদা খাতুনকে স্মরণ
ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সঙ্গীতজ্ঞ সন্জীদা খাতুনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গানে গানে তাঁকে শ্রদ্ধা জানান শিল্পীরা। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায়। রাজধানীর ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের নিচতলায় সমকাল
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ মার্চ ২০২৬ | ০৯:১৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
মৃত্যু কখনও কখনও কেবল একটি ব্যক্তির প্রস্থান নয়, একটি যুগের অবসানও বটে। ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ এমনই এক শূন্যতার দিন। এ দিন বিদায় নেন সন্জীদা খাতুন; যিনি ছিলেন বাঙালির সাংস্কৃতিক চেতনার এক অনন্য আলোকবর্তিকা। তাঁর প্রস্থান যেন রেখে গেছে নীরব অথচ গভীর এক অনুরণন, যা এখনও প্রতিধ্বনিত হয় সুরে, চর্চায় এবং মূল্যবোধে।
এই অনুরণনকেই ধারণ করে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে এক অনাড়ম্বর অথচ হৃদয়স্পর্শী আয়োজন অনুষ্ঠিত হলো গতকাল বুধবার সন্ধ্যায়। রাজধানীর ছায়ানট সংস্কৃতি-ভবনের নিচতলায় আন্তরিকতা আর মমতার আবহে গড়ে উঠেছিল ‘গানে গানে শ্রদ্ধার্ঘ্য’ আয়োজন।
সন্ধ্যার আলো-আঁধারিতে যখন একে একে জড়ো হচ্ছিলেন সন্জীদা খাতুনের দীর্ঘদিনের সহকর্মী, স্নেহে বেড়ে ওঠা শিক্ষার্থী এবং শুভানুধ্যায়ীরা, তখন পুরো পরিবেশ যেন হয়ে উঠেছিল স্মৃতি আর ভালোবাসার এক সম্মিলিত ক্ষেত্র। ছায়ানটের সভাপতি ডা. সারওয়ার আলী, সাধারণ সম্পাদক লাইসা আহমদ লিসা উপস্থিত ছিলেন এ সময়। প্রত্যেকে যেন নিজের মতো করে ফিরে যাচ্ছিলেন সেই মানুষটির কাছে, যিনি তাদের জীবন ও চর্চার সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে ছিলেন। সন্জীদা খাতুন নেই, কিন্তু তাঁর সুর আছে আর সেই সুরেই তিনি থেকে যাবেন, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে–এ কথাই ঘুরেফিরে সবার কাছে শোনা গেল।
অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল সমবেত সংগীত। একে একে পরিবেশিত হয় ১৫টি গান। ‘তোমার সুরের ধারা’, ‘গানের ভিতর দিয়ে’, ‘গানে গানে তব বন্ধন’, ‘আমি কী বলে করিব নিবেদন’–এসব গানের সুরে ভেসে উঠছিল শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা আর অপার ভালোবাসা। প্রতিটি গানের সঙ্গে যেন যুক্ত হচ্ছিল ব্যক্তিগত স্মৃতি, শিষ্যত্বের গর্ব এবং সাংস্কৃতিক দায়বদ্ধতার অঙ্গীকার। গানের পাশাপাশি ছিল একটি দলীয় আবৃত্তি।
সবচেয়ে ব্যতিক্রমী দিক ছিল সংগীতায়োজন। প্রচলিত বাদ্যযন্ত্রের জৌলুস এড়িয়ে, অনুষ্ঠানজুড়ে ব্যবহার হয় কেবল তানপুরা ও মন্দিরা। এই সরলতা যেন আরও স্পষ্ট করে তুলেছে গানের মর্ম, কণ্ঠের গভীরতা এবং অনুভূতির স্বচ্ছতা। সুরের এই সংযমই হয়ে উঠেছিল শ্রদ্ধার সবচেয়ে নির্মল প্রকাশ।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে শোনা যায় সন্জীদা খাতুনের নিজের কণ্ঠে গাওয়া রবীন্দ্রসংগীত ‘জানি জানি গো দিন যাবে’ এর অডিও। সেই কণ্ঠ ভেসে উঠতেই উপস্থিত সবাই যেন স্তব্ধ হয়ে যান। মনে হয়, তিনি যেন এখনও আছেন–সুরে, উচ্চারণে, শিক্ষায় এবং প্রতিটি হৃদয়ের ভেতর।
- বিষয় :
- ছায়ানট
