নাগরিক সংলাপে বক্তারা
করোনায় বড় সংকটে ঢাকার বস্তিবাসীরা
ফাইল ছবি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২২ আগস্ট ২০২০ | ০৬:৫৭ | আপডেট: ০৫ এপ্রিল ২০২৬ | ১৯:২৯
করোনা মহামারী দেশের নিম্নবিত্ত, নিম্ন মধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত- এই তিন শ্রেণিকেই সংকটে ফেলেছে। তবে সবচেয়ে বড় বেকায়দায় পড়েছেন ঢাকার বস্তিবাসীরা। মার্চের শেষে অঘোষিত লকডাউনের শুরুতেই অনেকে কাজ হারিয়েছেন। এ অবস্থায় তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কেউ ভাবেনি। সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনি তাদের কোনো কাজেই আসেনি। শনিবার এক ভার্চুয়াল নাগরিক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।
করোনা দুর্যোগ ও নগরে নিম্ন আয়ের মানুষের খাদ্য সংকট শীর্ষক সংলাপের আয়োজন করে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা), কোয়ালিশন ফর দ্যা আরবান পুওর (কাপ) এবং বারসিক। এতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বক্তারা বলেন, গত দুই দশকে দেশে দারিদ্র্যের হার আশানুরূপভাবে কমলেও করোনার কারণে দ্রুত তা বেড়েছে। গত বছরও যা ১৯ শতাংশে নেমেছিল, এ বছর তা ৪৩ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। করোনার কারণে বেকার হওয়া গৃহকর্মীদের অর্ধেক সংখ্যক এখনও কাজ ফিরে পায়নি বলে বারসিকের নীরিক্ষায় দেখা গেছে। সব মিলিয়ে গৃহকর্মীদের আয় অন্তত ৬৬ ভাগ কমেছে। ঢাকার মোট জনসংখ্যার ৩৭.৪ শতাংশ বস্তিবাসী সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারছে না।
বক্তারা বলেন, এ সংকট মোকাবিলায় সবার আগে দরকার সরকারের একটা ফ্রেমওয়ার্ক দাঁড় করানো। যার মাধ্যমে বিপন্ন মানুষের পাশে নিয়মতান্ত্রিভাবে দাঁড়ানো সম্ভব হবে। সরকারের মধ্যে আন্তরিকতা থাকলেও কিছু অসাধু গোষ্ঠীর কারণে মানুষ খাদ্য নিরাপত্তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।
পবার চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে ও পরিবেশ বার্তার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জলের সঞ্চালনায় সংলাপে আলোচনা করেন কাপ-এর নির্বাহী পরিচালনক রেবেকা সান ইয়াত, বাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, বারসিকের পরিচালক পাভেল পার্থ, সমাজসেবা কর্মকর্তা কেএম শহীদুজ্জামান, পবার সম্পাদক মেসবাহ সুমন, বস্তিবাসী নেত্রী হোসনে আরা বেগম রাফেজা প্রমুখ। ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন বারসিকের সমন্বয়ক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
- বিষয় :
- করোনা
- মধ্যবিত্ত
- নিম্নবিত্ত
