ঢাকা শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গোলটেবিল বৈঠকে ওলামা পরিষদ

মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে মিথ্যাচার চালানো হচ্ছে

মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে মিথ্যাচার চালানো হচ্ছে
×

জাতীয় প্রেসক্লাবে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৫০ | আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২১:৫৭

মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে চরম মিথ্যাচার ও সুদূরপ্রসারী অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতীয় ওলামা পরিষদ। তারা বলছেন, মাদ্রাসা কোনো উগ্রবাদ বা সন্ত্রাস তৈরির জায়গা নয়। রাষ্ট্রীয় কোনো অনুদান ছাড়াই জনগণের সহায়তায় প্রায় এক কোটি ২৩ লাখ শিক্ষার্থীকে আদর্শ ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলছে মাদ্রাসাগুলো।

আজ শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় ওলামা পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচার রোধে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, কোনো ব্যক্তিবিশেষের নৈতিক বিচ্যুতি বা প্রশাসনিক ত্রুটিকে কেন্দ্র করে পুরো শিক্ষাব্যবস্থা ও লাখ লাখ আলেম-শিক্ষার্থীকে ঢালাওভাবে দায়ী করার চক্রান্ত কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথি মাওলানা আব্দুল বাসিত আজাদ বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মনন গঠনে মাদ্রাসা শিক্ষার ঐতিহাসিক ভূমিকা অনস্বীকার্য। ব্রিটিশদের হাতে স্বাধীনতা হারানোর পূর্বে এদেশের শিক্ষা, বিচার ও আইন বিভাগ সবই ছিল আলেম সমাজের হাতে।

জাতীয় ওলামা পরিষদের আহ্বায়ক মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইনের সভাপতিত্বে বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের সদস্যসচিব মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া। বৈঠক পরিচালনা করেন মাওলানা সাইফ উদ্দিন আহম্মদ খন্দকার।

অনুষ্ঠানে ড. আহমদ আব্দুল কাদের বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষার বিরুদ্ধে চলমান ইসলামবিদ্বেষী শক্তির ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় আত্মপক্ষ সমর্থনের ঊর্ধ্বে উঠে আত্মসমালোচনা ও অভ্যন্তরীণ সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সমসাময়িক বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন খেলাফত মজলিস নেতা শায়খুল হাদিস শেখ আজিম উদ্দিন, ড. মাওলানা ঈশা শাহেদী মুফতি মোহাম্মদ আবুল হাসান এমপি, এহতেশামুল হক নোমানী, ড. মুহাম্মদ সারোয়ার হোসেন, মুহাদ্দিস শেখ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, মধুপুরের সাহেবজাদা আবু আম্মার, মাওলানা আরিফ হক্কানী, অধ্যক্ষ মোস্তফা কামাল, ড. মুস্তাফিজুর রহমান ফয়সাল, মুফতি আব্দুল্লাহ ইয়াহিয়া, মাওলানা রুহুল আমিন সাদী, সিনিয়র মুহাদ্দিস মুফতি ইলিয়াস, উপাধ্যক্ষ মাওলানা শাব্বির আহমেদ প্রমুখ।

বক্তারা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়ে বলেন, কওমি সনদের স্বীকৃতির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। সরকারি সব ক্ষেত্রে মাদ্রাসা ছাত্রদের বৈষম্য দূর করে যোগ্যতা অনুযায়ী পদায়ন, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষকের পদ সৃষ্টি করে আলেমদের নিয়োগ এবং দেশের সর্বস্তরের শিক্ষায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে।

আরও পড়ুন

×