বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর মৃত্যু
পার্টিতে অংশ নেওয়া আরেক বান্ধবীর খোঁজ পাচ্ছে না পুলিশ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ০৭:৪৮ | আপডেট: ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ | ০৮:০৪
রাজধানীর উত্তরার 'ব্যাম্বু শট' নামের রেস্তোরাঁর পার্টিতে অংশ নেওয়া পাঁচ বন্ধুর মধ্যে একজন ছিল নেহা। পার্টিতে মদ পানের পর এরইমধ্যে ধানমন্ডির একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী এবং আরাফাতের মৃত্যু হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকেই খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না নেহার। মঙ্গলবার পর্যন্ত তার খোঁজ পায়নি পুলিশ। তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ। তার সম্পর্কে বিস্তারিত কোনো তথ্য উদ্ধার করা যায়নি। সে বেঁচে আছে নাকি মদপানে তারও মৃত্যু হয়েছে সে ব্যাপারে নিশ্চিত নয় তদন্ত সংশ্নিষ্টরা।
এ ব্যাপারে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ পুলিশ কমিশনার হারুন অর রশিদ সমকালকে বলেন, মদপানে মারা যাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর বাবার দায়ের করা মামলায় নেহা একজন আসামি। মামলার পর থেকেই তার খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তাকে পাওয়া যাচ্ছে না। যেহেতু একই ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে তাই তার ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে সন্দিহান আমরা। তবে সে অসুস্থ নাকি মারা গেছে তা নিশ্চিত নয়।
গত শুক্রবার রাতে উত্তরার তিন নম্বর সেক্টরের 'ব্যাম্বু শট' নামের রেস্তোরাঁয় একটি পার্টিতে অংশ নেয় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শিক্ষার্থী। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে, বাইরে থেকে নকল ও বিষাক্ত মদ কিনে ওই রেস্তোরাঁয় বসে পান করে পাঁচ শিক্ষার্থী। মদ পান করার পর দুই শিক্ষার্থী মারা যায়। এর মধ্যে মৃত ছাত্রীর বাবার অভিযোগ, তার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মর্তুজা রায়হান চৌধুরী, নুহাত আলম তাফসীর, আরাফাত ও নেহাসহ পাঁচজনকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন। আরাফাতের মৃত্যুর খবর তখনও জানত না পুলিশ। কারণ পুলিশকে না জানিয়েই আরাফাতের লাশ দাফন করা হয় মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। মামলার আসামি হিসেবে খুঁজতে গিয়ে আরাফাতের মৃত্যুর সংবাদ পায় পুলিশ। কিন্ত কোথায় লাশ দাফন করা হয় তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আরাফাতের কবরের সন্ধান পায় পুলিশ। মঙ্গলবার কবর পরিদর্শন করেছেন তদন্ত সংশ্নিষ্টরা।
মোহাম্মদপুর থানার ওসি আব্দুল লতিফ সমকালকে বলেন, মামলার তদন্তের স্বার্থে যেকোনো সময় আরাফাতের লাশ তুলে ময়নাতদন্ত করা হতে পারে। তিনি জানান, রিমান্ডে থাকা দুই আসামি কিছু তথ্য দিয়েছে। সেগুলো যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। মদ কে এনেছিল, কোথা থেকে আনা হয়েছিল সেসব বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন মৃত বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর বাবা। তিনি বলেন, মেয়েকে ভালোভাবে জীবন পরিচালনা করতে সহযোগিতা করেছি। কিন্তু সেও তো প্রাপ্তবয়স্ক। যে কারণে সে নিজের ইচ্ছেকেও প্রাধান্য দিয়েছে। তবে সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মেলামেশা করছে সে ব্যাপারে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। আর কাউকে যেন আমার মতো এভাবে সন্তান হারা না হতে হয়।
তদন্ত সংশ্নিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উত্তরার পার্টি শেষে ওই রাতেই গুলশানে আরেক পার্টিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাদের। কিন্ত উত্তরার পার্টিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে গুলশানে রায়হান ও ছাত্রীর অংশ নেওয়া হয়নি। তারা সেখান থেকে মোহাম্মদপুরে বান্ধবী নুহাত আলম তাফসীরের বাসায় চলে যায়। তবে নেহা ও আরাফাত গুলশানের পার্টিতে অংশ নিয়েছিল কি-না সেব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। রিমান্ডে থাকা রায়হান পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে পার্টিতে সে মদ সামান্য পান করেছিল। কারণ হিসেবে জানিয়েছে, প্রথমে গ্লাসে চুমুক দিতেই কেমন জানি মনে হয়েছে তার কাছে। ভালো না লাগায় বেশি খায়নি সে। তবে নেহা ও আরাফাত ইচ্ছেমতো মদ পান করেছিল। তাফসীরের বাসায় বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের কথা স্বীকার করেছে রায়হান। জিজ্ঞাসাবাদে বলেছে, তাফসীরের বাসায় সেই রাতে কেউ ছিল না। তাই তার বাসায় নেওয়া হয় অসুস্থ বান্ধবীকে। বাসায় নেওয়ার পরও ওই ছাত্রী বমি করে। এসব পরিস্কার করেছিল তাফসীর। পরে একটু সুস্থবোধ করলে ছাত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে সে।
শনিবার সকালে ছাত্রীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে ইবনে সিনা হাসপাতালে নিয়ে যায় রায়হান ও তাফসীর। এই হাসপাতাল রোগীকে ভর্তি করেনি। পরে আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার মারা যায় সে। মামলার পরই রায়হান ও তাফসীরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মোহাম্মদপুর থানায় পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।