সম্মেলনে অঙ্গীকার
যৌন হয়রানি বন্ধে অতন্দ্র প্রহরীর কাজ করবে নারীরাই
'বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের' ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে অতিথিরা- সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১১:০২
নারীর প্রতি যৌন হয়রানি বন্ধে নিজেরাই অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবেন বলে অঙ্গীকার করেছেন নারীরা।
শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এলজিইডি মিলনায়তনে 'বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের' ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে এ অঙ্গীকার করেন অংশগ্রহণকারীরা।
দি হাঙ্গার প্রজেক্টের সহযোগিতায় 'নারীরাই ক্ষুধামুক্তির মূল চাবিকাঠি' প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে সহস্রাধিক নারী অংশ নেন।
বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি রাশেদা আখতারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন হাঙ্গার প্রজেক্টের কান্ট্রি ডিরেক্টর বদিউল আলম মজুমদার, গ্লোবাল অ্যাম্বাসাডর ক্যাথি বার্ক, ইউএন ওম্যানের কান্ট্রি রিপ্রেজেনটেটিভ শোকো ইশিকাওয়া প্রমুখ।
স্বাগত বক্তব্যে বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের সাধারণ সম্পাদক নাসিমা আক্তার জলি তাদের এক গবেষণার ফল জানিয়ে বলেন, ৩৯২ নারীর মধ্যে জরিপ করে দেখা গেছে ৯৭ শতাংশ নারী যৌন হয়রানির শিকার। যাদের মধ্যে একটা বড় অংশ ছয় বছর বয়সেই শিকার হয়েছে। আর তাদের বেশির ভাগই যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে পাবলিক প্লেসে।
তিনি বলেন, যৌন হয়রানি বন্ধে নারীকেই অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করতে হবে। আমরা কী সেই অঙ্গীকার করতে পারি? এ সময় উপস্থিত নারীরা হাত তুলে 'হ্যাঁ' বলে তাকে সমর্থন জানান। তারা স্লোগান তোলেন- 'আমরা নারী, আমরাই পারি'।
শোকো ইশিকাওয়া বলেন, 'আপনাদের মধ্যকার শক্তি ও উদ্যম আমাকে সমৃদ্ধ করেছে।' তিনি বলেন, আর্থসামাজিক উন্নয়নে বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ ঈর্ষণীয় সাফল্য অর্জন করেছে। এ অর্জনের ক্ষেত্রে নারীর অবদান অসামান্য। বাংলাদেশের নারীরা জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে সক্রিয় রয়েছে, নারীরা ক্রিকেট খেলছে এবং হিমালয় জয় করছে। আশা করি, সর্বক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ আরও বাড়বে।
বদিউল আলম মজুমদার বলেন, 'আজ আপনারা সংগঠিত শক্তি, আপনারা একা নন। সমাজের উন্নয়নে আপনাদের বর্তমান কাজ অব্যাহত থাকবে।'
ক্যাথি বার্ক বলেন, 'আমি ২১ বছর আগে প্রথম বাংলাদেশে আসি। এরপর যতবারই আমি বাংলাদেশে এসেছি, ততবারই আমি নতুন উদ্দীপনা পেয়েছি। এই উদ্দীপনা আমাদের নারী-পুরুষের জন্য একটি সমতাপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার অনুপ্রেরণা জোগায়, পথ দেখায়। আমার লেখা একটি বইতে আমি বাংলাদেশের নারীদের এগিয়ে যাওয়ার গল্পগুলো তুলে ধরেছি।'
সভাপতির বক্তব্যে রাশেদা আখতার নারীর প্রতি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের উদাসীনতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কেন তনুর মতো পরিণতি হবে? কেন একজন শিক্ষক তার ছাত্রীর গায়ে আগুন দেবে? এ পরিস্থিতি পাল্টাতে নারীদেরই কাজ করতে হবে।
সম্মেলনে বাগেরহাটের নারীকর্মী মল্লিকা দাস বলেন, 'স্বামীরা আমাদের সুন্দর কাপড় কিনে দেবেন আর আমরা ঘরে বসে সেমাই রান্না করব, তার জন্য আমরা নই। আমরা সবাই একেকজন শেখ হাসিনা হতে চাই। শেখ হাসিনাও সংগ্রাম করে আজকের জায়গায় এসেছেন।'
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঝালকাঠির উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ডালিয়া নাসরীন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম প্রমুখ।
বিকশিত নারী নেটওয়ার্কের বিভিন্ন কার্যক্রমে গত দুই বছরে তিন লাখ ৩৭ হাজার
৩৮৫ জন নারী অংশ নিয়েছেন। এসব কার্যক্রমের মধ্যে বাল্যবিয়ে বন্ধ, যৌতুক
বন্ধ এবং যৌন নির্যাতন বন্ধের মতো কর্মসূচি রয়েছে।
- বিষয় :
- নারীর প্রতি সহিসংসতা
- নারী অধিকার
- রাজধানী