ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

ছেলের চোখের সামনেই বাসের চাকায় পিষ্ট মা

ছেলের চোখের সামনেই বাসের চাকায় পিষ্ট মা
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৮:৪৭

ছেলের অফিস দেখে বাসায় ফেরার কথা ছিল সখিনা বেগমের। তবে আর ফেরা হয়নি। রাজধানীর ফার্মগেটে ছেলের সামনেই বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে মারা গেছেন এই নারী।

নিহত সখিনার (৬৫) গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলার মন্ডপাড়ায়। তার স্বামীর নাম সুন্দর আলী। সখিনার ছেলে মো. শামীম ফার্মগেটের খামারবাড়িতে সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।

স্বজনরা জানিয়েছেন, রোববার ছেলের অফিস দেখে দুপুরের খাবার খেতে বসুন্ধরা সিটি কমপ্লেক্স সংলগ্ন কাজীপাড়া গার্ডেন এলাকায় মেয়ের বাসায় সখিনা। সেখান থেকে শামীমের মোটরসাইকেলে খিলক্ষেতের ডুমনীর বাসায় ফিরছিলেন তিনি।

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ফার্মগেট এলাকায় পৌঁছার পর পেছন থেকে ৩ নম্বর রুটের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউ পরিবহনের একটি বেপরোয়া যাত্রীবাহী বাস ধাক্কা দেয় সেই মোটরসাইকেলে। এতে ছিটকে পড়েন মা ও ছেলে। এর পর বাসটির সামনে অংশে আটকে পড়েন সখিনা। ওই অবস্থায় তাকে টেনে-হিঁচড়ে প্রায় ১৫-২০ ফুট নিয়ে যায় চালক। এমন ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। তবে অক্ষত থাকেন ছেলে। তিনি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) অবসরপ্রাপ্ত সদস্য।

সখিনার ছেলে শামীম জানান, চলতি বছরের আগস্টে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) হার্টে রিং পরানো হয় তার মায়ের। হাসপাতাল ছাড়ার পর প্রায়ই নানা শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকায় আসতে হতো তাকে। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার ঢাকায় আসেন তিনি। রোববার সকালে বিএসএমএমইউতে গিয়ে রক্তসহ নানা পরীক্ষা সম্পন্নের পর ছেলের অফিস দেখতে যান। তারপর মেয়ে শাহনাজ পারভীনের বাসায় খেতে যান তারা। তা শেষে যখন মোটরসাইকেলে আবার ছেলের খিলক্ষেতের বাসায় ফিরছিলেন, তখনই বেপরোয়া বাস ধাক্কা দেয়। এতে শামীম প্রাণে রক্ষা পেলেও তার মা না ফেরার দেশে চলে যান।

তেজগাঁও থানায় গিয়ে দেখা যায়, রক্তমাখা জামা-কাপড় নিয়ে হাউমাউ করে কাঁদছেন শামীম। দুর্ঘটনার পর মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও কোনও কাজে আসেনি তা। চিকিৎসা করাতে এসে মায়ের এমন মৃত্যু কোনওভাবে মেনে নিতে পারছেন না তিনি।

তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (অপারেশন্স) হাসনাত খন্দকার বলেন, 'দুর্ঘটনার পর বাসের চালক শাহ আলমকে আটক করা হয়েছে। হেলপার পালিয়েছে। চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল। এ ঘটনায় নতুন আইনে মামলা হবে। দুর্ঘটনার পর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।'

আটকের পর চালক দাবি করেন, মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেওয়ার পর বাসের সঙ্গে কেউ আটকে গেছে এটা তিনি বুঝতে পারেননি। বাসটি গুলিস্তান থেকে আব্দুল্লাহপুর পর্যন্ত চলাচল করত।

আরও পড়ুন

×