ঢাকা রোববার, ২১ জুন ২০২৬

বাম জোটের মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটা, আহত ২০

বাম জোটের মিছিলে পুলিশের লাঠিপেটা, আহত ২০
×

পুলিশের পিটুনিতে আহত হয়েছেন জুনায়েদ সাকিও -সংগৃহীত ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০২:৪৯ | আপডেট: ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ০৯:১৭

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কালো পতাকা মিছিলে পুলিশ লাঠিপেটা করেছে। এতে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকসহ অন্তত ২০ নেতাকর্মী এবং পুলিশ সদস্যরাও আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে রাজধানীর কদম ফোয়ারা ও মৎস্য ভবনের মোড়ে দুই দফায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জোটের শীর্ষ নেতারা। পুলিশি হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করবে বাম জোট।

২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে 'ভোট ডাকাতি'র নির্বাচন আখ্যা দিয়ে আটটি বাম দলের জোট 'গণতন্ত্রের কালো দিবস' পালন উপলক্ষে সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ করে। এর পর কালো পতাকা মিছিল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দিকে রওনা হন জোটের নেতাকর্মীরা। মিছিলটি হাইকোর্ট মোড়ে কদম ফোয়ারার সামনে পৌঁছানোর পর পুলিশের বাধার মুখে পড়ে। সেখানে পুলিশের সঙ্গে তাদের বাগ্‌বিতণ্ডা ও হাতাহাতি হয়। নেতাকর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে মিছিল নিয়ে দুপুর ১টার দিকে মৎস্য ভবনের সামনে পৌঁছলে আবারও পুলিশি বাধার মুখে পড়ে। এ সময় ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের তর্কাতর্কি ও হাতাহাতি হয়।

একপর্যায়ে বাম জোটের মিছিল থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে প্ল্যাকার্ড ছুড়ে মারা হয়। এরপর পুলিশ তাদের প্রথমে ধাওয়া দিয়ে, পরে লাঠিপেটা করে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এতে সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকী, লুনা নূর, মনজুর মঈন, আরমান, নাসিরউদ্দিন প্রিন্স, সুস্মিতা মরিয়ম, মাসুদ রানা, মুক্তা বাড়ৈ, সুহাইল শুভ, তানজিম সাকিব, আনারুল, সুমাইয়া ইসলাম সোমা, মুন্নী সর্দার, সোহাগী সামিয়া, রাতুল, প্রিয়া, সুপ্তি, তমা প্রমুখ বাম নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ সময় অন্তত আধাঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। ধাওয়া খেয়ে জোটের নেতাকর্মীরা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জড়ো হন এবং পুলিশি হামলার নিন্দা জানান। সিপিবি প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুল্লাহেল ক্বাফি সাংবাদিকদের বলেন, জোটের শান্তিপূর্ণ মিছিলে পুলিশ হামলা চালিয়ে ২০ থেকে ২৫ নেতাকর্মীকে আহত করেছে।

ছবি: সংগৃহীত

এ বিষয়ে ডিএমপি রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ব্যারিকেড না ভাঙার অনুরোধ করার পরও তারা শোনেননি। প্ল্যাকার্ডের সঙ্গে থাকা লাঠি ও বাঁশ দিয়ে তারা পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে পুলিশের পাঁচ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দু'জনের অবস্থা গুরুতর।

এর আগে প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশে সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেন, 'ভুয়া' নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে থাকা সরকারকে 'ভুয়া সরকার' ছাড়া আর কিছু আখ্যা দেওয়া যায় না। গণআন্দোলনে এ সরকারের পতন ঘটিয়ে বাম গণতান্ত্রিক জোটের বিকল্প সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, বিরোধী দলকে দমন করতে সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস করছে। আওয়ামী লীগ এখন চরমপন্থি রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।

ছবি: সংগৃহীত

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে সিপিবি সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম, বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক আব্দুল্লাহহেল ক্বাফী রতন, বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু, ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন নান্নু প্রমুখ বক্তৃতা করেন।

লাঠিচার্জে ঐক্যফ্রন্টের নিন্দা: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখে বাম গণতান্ত্রিক জোটের কালো পতাকা নিয়ে পদযাত্রায় পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। 

সোমবার জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আ স ম আবদুর রব, মাহমুদুর রহমান মান্না, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও অধ্যাপক নুরুল আমিন বেপারীর যৌথ বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়। তারা বলেছেন, সরকারের মধ্যে রাজনৈতিক ভীতি থাকায় তারা সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা দিচ্ছে।

আরও পড়ুন

×