ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

পরোয়ানা ছাড়া প্রার্থীদের গ্রেফতার না করার নির্দেশ

পরোয়ানা ছাড়া প্রার্থীদের গ্রেফতার না করার নির্দেশ
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২০ | ০৯:৩৯

আদালতের পরোয়ানা না থাকলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রার্থী ও সমর্থকদের গ্রেফতার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব মো. আলমগীর।

এ সংক্রান্ত নির্দেশনা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে (ডিএমপি) দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন ইসি সচিব।

আগের দিন বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে ২১ দফা দাবি জানিয়েছিল। ওই দাবির ১ নম্বরেই পুলিশি হয়রানি বন্ধে কমিশনের নির্দেশনা জারির কথা বলা হয়েছিল।

ইসি সচিব জানান, কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তিনি মঙ্গলবার ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলেছেন। সেখানে স্পষ্ট বলে দেওয়া হয়েছে- যারা নির্বাচনের প্রার্থী বা সমর্থক, তাদের বিষয়ে আগে থেকে কোনো আদালতের পরোয়ানা না থাকলে তাদের গ্রেপ্তার করা যাবে না। তবে নতুন কোনো ফৌজদারি অপরাধের সঙ্গে জড়ালে বা আদালতের পরোয়ানা থাকলে তবেই শুধু গ্রেপ্তার করা যাবে। রাষ্ট্র বা জনগণের জানমাল বা সম্পদ রক্ষার জন্য পুলিশ এসব পরিস্থিতিতে ব্যবস্থা নেবে।

তিনি বলেন, আগামী ২২ জানুয়ারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নির্বাচনের নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে বৈঠক হবে। তখন এ বিষয়ে আরও নির্দেশনা দেওয়া হবে।

বিএনপির ২১ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম সাংবাদিকদের অবাধে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের দাবি জানানো বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের দেওয়া পরিচয়পত্র নিয়ে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকরা প্রবেশ করতে পারবেন।

তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার দেওয়া হবে। আচরণবিধি মেনে সাংবাদিকরা অবাধে কাজ করবেন। ভোটকক্ষের গোপন স্থান ছাড়া সর্বত্রই চলাফেরার সুযোগ পাবেন। এ ক্ষেত্রে বাধা দেওয়া যাবে না। পোলিং অফিসার, প্রার্থীদের এজেন্টসহ সবার বক্তব্যও নিতে পারবেন সাংবাদিকরা। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।

সরকারি ক্যালেন্ডারে সরস্বতী পূজা ২৯ জানুয়ারি: এদিকে সরস্বতী পূজার দিনে ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারণ বিষয়ে বিতর্কের জবাব দিয়েছেন ইসি সচিব মো. আলমগীর। তিনি বলেছেন, সরকারি ক্যালেন্ডারে সরস্বতী পূজা ২৯ জানুয়ারি উল্লেখ রয়েছে। তাই কমিশন ৩০ জানুয়ারি ভোটের দিন ধার্য করেছে। কমিশন সভায় পূজার বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় এসেছে।

এর আগে সকালে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের পক্ষ থেকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও ইসি সচিবের কাছে পৃথক চিঠি দিয়ে ভোটের সময় পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়। এর আগে একই কারণে নির্বাচন পেছানোর দাবি তুলেছিল বাংলাদেশ হিন্দু পরিষদ। এ জন্য আদালতে একটি রিটও হয়েছে। অবশ্য সরকারের অনুমোদিত ক্যালেন্ডার অনুযায়ী সরস্বতী পূজা ২৯ জানুয়ারি।

এ বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, তাদের আবেদন বিষয়ে কমিশন সিদ্ধান্ত নেবে। কমিশন সভায় বিষয়টি উত্থাপনের পরই এ বিষয়ে কমিশনের পরবর্তী অবস্থান জানা যাবে।

ইভিএমে বেশি খরচ: রাজনৈতিক দলের আপত্তি সত্ত্বেও ঢাকার দুই সিটি ভোটে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারে অনড় ইসি। এ বিষয়ে মঙ্গলবার এক প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, কাগুজে ব্যালটের পরিবর্তে ইভিএম ব্যবহারে খরচ বেশি।

তিনি বলেন, ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচনী খরচের তুলনায় ইভিএমে অনেক বেশি খরচ হয়। কারণ এটা অনেক টেকনোলজি-সংশ্নিষ্ট এবং এপপেনসিভ। সেখানে নানা রকম প্রশিক্ষণও দিতে হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার বিষয়ে আচরণবিধিতে কিছুই বলা নেই- এ বিষয়ে ইসি সচিবের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আচরণবিধিতে থাকা বিধিনিষেধ সবাইকে মানতে হবে। তবে আইনে যা উল্লেখ নেই সেগুলোর ক্ষেত্রে কাউকে বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই। তেমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে কমিশন বিবেচনা করে সার্কুলার জারি করতে পারে। তা এখনই বলা সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন

×