ঢাকা সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

গোলটেবিল বৈঠকে মান্না

মানুষের জন্য বাজেটে মানুষই তো নেই

মানুষের জন্য বাজেটে মানুষই তো নেই
×

রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে গতকাল রোববার গোলটেবিল বৈঠকে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ অতিথিরা। ছবি: সমকাল

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২২ জুন ২০২৬ | ০৮:১৩

 মানুষের জন্য বাজেট, কিন্তু এখানে মানুষই তো নেই বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না। তিনি বলেছেন, এই বাজেট দেওয়ার পরেও দ্রব্যমূল্য কমেনি। সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রত্যাশাও পূরণ হয়নি। পরিবর্তন ছাড়া কেবল কথার ফুলঝুরি দিয়ে দেশকে এগিয়ে নেওয়া যায় না।

গতকাল রোববার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘জনতুষ্টিমূলক বাজেটের সালতামামি: কল্যাণ রাষ্ট্রের ভাবনায় বাজেট ২০২৬-২৭’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদুর রহমান মান্না এসব কথা বলেন। নাগরিক ঐক্য এই গোলটেবিলের আয়োজন করে।

মান্না আরও বলেন, সংসদ হচ্ছে পুরা জাতির প্রতিবিম্ব। সেই প্রতিবিম্বের মধ্যে নিজের চেহারাই যদি দেখতে না পান, তাহলে সেটা আয়না হয় কেমন করে? হতে পারে না তো! জাতীয় সংসদের মান উন্নয়ন করা দরকার। সংসদ সদস্যদেরও মান উন্নয়ন করার দরকার।

সংসদের চলতি বাজেট অধিবেশনে জাতীয় বাজেট নিয়ে গঠনমূলক আলোচনার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সংসদের বাজেট অধিবেশনে বাজেট নিয়ে আলোচনা হলে তো আর মানুষ মজা পায় 
না! তাই সেখানে এখন মাইক্রোওভেন ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা হয়। কিন্তু বাজেট পাসের আগে সংসদের মধ্যে বাজেট নিয়ে আলোচনা তো হওয়া দরকার।

এবারের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘চানাচুর মার্কা বাজেট’ বলে মন্তব্য করেছিল সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী। এই জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘বাজেটকে যারা গণবিরোধী বলে, তারা কখনও জনগণের বন্ধু হতে পারে না।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের সমালোচনা করে নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, আবার দেখেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘ট্যাক্স কমিয়ে দিলাম, তারপরও বাজেটের সমালোচনা করে; এরা কি ভালো চায় দেশের?’ এখন বাজেট একটা দিয়েছেন, সমালোচনা তো হবেই। আপনারা বরং বুঝিয়ে দেবেন সমালোচনার জায়গাগুলোতে কী কী ভালো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাজেটের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে মান্না বলেন, অর্থনীতির ঘনীভূত রূপ হচ্ছে রাজনীতি। আর অর্থনীতি দৈনন্দিন জীবনযাত্রার এক বছরের সালতামামি মানে হিসাব-নিকাশেরই একটা প্রতিফলন। এবারের বাজেট সামগ্রিকভাবে মানুষের জন্য কোনোকিছুরই নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। কিন্তু এতে কথার ফুলঝুরি আছে। মধ্যবিত্ত ও গরিবের কল্যাণের বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ নেই।

অনলাইন পোর্টাল চর্চার সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সোহরাব হাসান বাজেট বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক শান্তি ও নাগরিকের মর্যাদা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, এই বাজেটে খুব বেশি পাওয়ার নেই। দুর্নীতি ও অপচয় থেকে বেরিয়ে আসার কোনো দিকনির্দেশনা নেই। এটি গতানুগতিক বাজেট। 

সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব আবু আলম মোহাম্মদ শহীদ খান প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘উচ্চাভিলাষী’ ও ‘চরম অবাস্তব’ বাজেট আখ্যা দিয়ে বলেন, এই বাজেট বাস্তবায়নযোগ্য নয়। বাজেটের ৭০ ভাগ বাস্তবায়ন হলেই খুশি হবো। 

লেখক-গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, বৈষম্যবিরোধী রক্তাক্ত আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে গঠিত এই সরকারের কাছে প্রত্যাশা ছিল–বৈষম্য ও দারিদ্র্যমুক্তি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে, এমন বাজেট দেবে। দৃষ্টিভঙ্গিগত পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোগত পরিবর্তন ও সংস্কারের বাজেট দেবে। কিন্তু বাজেটে এর কিছুই দেখতে পাইনি।

গোলটেবিলে মূল বক্তব্য উত্থাপন ও পরিচালনা করেন নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আনোয়ার। আরও বক্তব্য  দেন ইবাইস ইউনিভার্সিটির সাবেক ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আরিফুর রহমান, ঢাকা স্ট্রিমের উপদেষ্টা সম্পাদক হাসান মামুন, নাগরিক ঐক্যের প্রেসিডিয়াম সদস্য দেলোয়ার হোসেন রাজা প্রমুখ।

আরও পড়ুন

×