ঢাকা সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬

সুযোগ এসেছে সেবা করার

সুযোগ এসেছে সেবা করার
×

রহমান মৃধা

প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল ২০২০ | ০৬:২৪ | আপডেট: ২৫ এপ্রিল ২০২০ | ০১:২৬

কভিড-১৯ কি শুধু বাংলাদেশে গালগল্প, ভুল তথ্য, আলোচনা- সমালোচনা, গুজব, রাজনীতির খেলা, বিভ্রান্ত, বিরক্ত নাকি সমাধান?

এত খবর যখন শুনেছেন করোনার ওপর, তবে এটা শুনেছেন কি যে, যুদ্ধের সময় সৈনিক পালায় ভয়ে অসুস্থ হয়ে যুদ্ধে না যাওয়ার কারণে? হয়তো না। তাহলে এটা শুনেছেন, নিশ্চয় চিকিৎসক অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা থেকে বিরত রয়েছে এবং এদের সংখ্যা অনেক, বিশেষ করে বাংলাদেশে। হতে পারে যেসব দরকারি যন্ত্রপাতি বা পোশাকের (Personal protective equipment) দরকার, তার সবকিছু দেশে নেই। হতে পারে সবকিছুর সুস্থ ম্যানেজমেন্ট নেই। কিন্তু এসব কি বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু? ১৯৭১ সালের যুদ্ধে আমাদের কি তেমন কিছু ছিল? না। তবে যার যা ছিল তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করেছিলাম। কারণ ছিল একটাই, দেশকে স্বাধীন করতে হবে। তখনও পালিয়েছিল অনেকে, যুদ্ধ সবাই তখনও করেনি।

এবারের করোনাভাইরাসের (কভিড-১৯) মোকাবিলা অনেকেই করছে না, করবে না কারণ এসব চিকিৎসক দেশের মানুষের রক্তের বিনিময়ে চিকিৎসক হয়েছে। কিন্তু সে রক্তের ঋণ শোধ দেওয়ার সময় এখন পেয়েছে সত্ত্বেও তারা পালিয়েছে। এরা বহু আগেই জোঁক হয়ে মানুষের রক্ত চুষেছে, কসাই হয়ে মানুষের মাংস কেটেছে। একই সঙ্গে সরকারের মনিটরিং পদ্ধতি দেখছি। ডিজিটাল উপায়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মিটিংয়ে বসেছে; তাকে অবগত করতে চেষ্টার ত্রুটি হচ্ছে না। উদ্দেশ্য কি প্রধানমন্ত্রীকে খুশি করা নাকি অসহায় মানুষদের সেবা করা এবং পণ্য ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া? রাজনৈতিক সংগঠনকে মজবুত করতে যদি করোনাকে ব্যবহার করা হয় তাহলে খুবই অন্যায় হবে। বাংলাদেশের কয়েকটি দৈনিকে এসেছে, সুইডেনের প্রধানমন্ত্রীর ওপর কিছু তথ্য, যেমন তিনি এখানকার মানুষকে সতর্ক করেছেন, বলেছেন, তাদের বড় ধরনের সংকটের সম্মুখীন হতে হবে। অনেক প্রিয়জনকে হারাতে হবে ইত্যাদি। সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছেন, তিনি তার দায়িত্ব পালনে সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সম্মতি পেয়েছেন। সুইডেনে কেউ তার নেতৃত্বের অপেক্ষায় বসে নেই বরং তিনি সারাক্ষণ চেষ্টা করছেন তার দেশের জনগণকে বেস্ট সার্ভিস দিতে।

স্টকহোমে রোগীর সংখ্যা বর্তমান বেশি বিধায় আজ থেকে অনেক রোগীকে দেশের অন্যান্য হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স বা হেলিকপ্টারে করে নিয়ে সরকার তার জনগণের সেবা দিতে সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সবাই সমমানের চিকিৎসা পাচ্ছে। চিকিৎসক ও নার্সদের বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে তাদের এ মহৎ কাজের জন্য। আমি ব্যক্তিগতভাবে তাকে এবার ভোট দিইনি, তারপরও আমি তাকে এবং তার কাজে শতভাগ সাপোর্ট দিয়েছি।

সুইডেনে যারা স্বাস্থ্যকর্ম থেকে অবসরে গেছেন বা অন্য কর্মে যোগদান করেছেন, তারাও দেশের বিপদে ভলান্টারি হয়ে জনগণের, দেশের এবং বিশ্বের বিপদে সাড়া দিয়েছেন। অথচ বাংলাদেশে দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভয় দেখিয়ে দায়িত্ব পালন করাতে হচ্ছে। বিষয়গুলো বেশ ভাবনায় ফেলেছে। যেদিকে চোখ যাচ্ছে সেদিকে তাকালেই বিরক্তি লাগছে, যদিও বিরক্ত হওয়ার সময় এখন নয়। এখন পরস্পর পরস্পরকে অনুপ্রেরণা জোগাতে হবে, এটাই হওয়ার কথা। তারপরও দেশের মন্ত্রীদের কাজকর্ম দেখে অস্থির হচ্ছি। তাই কিছু কথা তুলে ধরতে বাধ্য হলাম। স্বাস্থ্যমন্ত্রী নিজে একজন চিকিৎসক। অনেকদিন থেকেই উনি আনাড়ি লোকের মতো মন্তব্য এবং বক্তব্য দিয়ে বেশ সমালোচিত হয়ে আসছেন। শুধু তিনি নন, বেশিরভাগ এমপি-মন্ত্রী একই কাজ করে যাচ্ছেন। শুধু একটা কাজে সবাই বেশ পারদর্শিতা দেখিয়ে চলছেন, সেটা হলো কে কত প্রধানমন্ত্রীকে তেল মারতে পারেন; তাও নিখুঁতভাবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী চিকিৎসকদের রোগী না দেখলে 'দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।' দয়া করে বরং তাদের পাশে দাঁড়িয়ে রোগীর সেবা দিন, কারণ পেশায় আপনি চিকিৎসক। আপনাকে দেখে অনেকেই অনুপ্রাণিত হবে। হয়তো যারা অসুস্থ হয়ে ঘরে বসে আছে, তারাও সুস্থ হয়ে ফিরে আসবে। একটা জায়গায় গিয়ে বসুন কয়েক ঘণ্টার জন্য এবং রোগী দেখে সবাইকে ছোটবেলার সেই আমেরিকার জর্জ ওয়াশিংটনের গল্পের পুনরাবৃত্তি করুন, 'আমেরিকার প্রধান সেনাপতি যে কাঠ বহন করতে রাজি হননি, যা করেছিলেন তৎকালীন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটন।'

শুনেছি আপনি নাকি বিদেশে পড়েছেন? আপনি তো পশু চিকিৎসক নন, মানুষের চিকিৎসক অথচ কেন এই দুর্যোগকালে সেখানে নেই? তারপরও আপনি স্বাস্থ্যমন্ত্রী? মনে রাখা দরকার, আপনি একজন চিকিৎসক এবং সমাজসেবী রাজনীতিবিদ অথচ কেন এ ব্যবহার?

বিদেশের সব চিকিৎসক-নার্স যারা গত দশ-পনেরো বছর আগেও অবসরে গেছেন তারাও স্বেচ্ছায় করোনার দুর্যোগে যোগ দিয়েছেন! প্লিজ যুদ্ধের ময়দানে নেমে পড়ূন।

সবাইকে এখন একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বেঁচে থাকলে পরে চাপাবাজি করা যাবে এখন প্রধানমন্ত্রীদের নয় বরং জনগণকে সেবা দিন। মানুষের সেবা করবেন বলে চিকিৎসক হয়েছেন, এখন আবার রাজনীতিতে ঢুকেছেন আরও বৃহত্তর পরিসরে সেবা করার জন্য। সুতরং সুযোগ এসেছে সেবা করার, সেবা করুন।

দূরপরবাস সুইডেন
[email protected]

আরও পড়ুন

×