প্রচার শেষ আজ
'সশস্ত্র সন্ত্রাসী' নিয়ে পাল্টাপাল্টি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৯ জানুয়ারি ২০২০ | ১৩:৩৪
পরশু শনিবার ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ভোট। ২১ দিনের ভোটের প্রচার শেষ
হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। শুধু প্রচার নয়, আওয়ামী লীগ-বিএনপির
প্রার্থীদের মধ্যে চলছে কথার লড়াইও। শেষবেলায় দুই দলের নেতারা 'সশস্ত্র
সন্ত্রাসীর' পাল্টাপাল্টি অভিযোগ নিয়ে আসরে নেমেছেন। এদিকে নির্বাচন কমিশন
(ইসি) জানিয়েছে, দুই সিটির প্রায় আড়াই হাজার ভোটকেন্দ্রের দেড় হাজারই
ঝুঁকিপূর্ণ। অবশ্য ইসির ভাষায় এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ নয়- 'গুরুত্বপূর্ণ'।
আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলের প্রতিনিধি দল গতকাল বুধবার কমিশনে অভিযোগ
করে, ভোটকে প্রভাবিত করতে সারাদেশ থেকে ঢাকায় 'সশস্ত্র সন্ত্রাসী' আনছে
বিএনপি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরও দাবি করেছেন, তাদের
কাছে এ-সংক্রান্ত তথ্য রয়েছে।
তবে দাবি নাকচ করেছে বিএনপি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মোশাররফ হোসেন
পাল্টা অভিযোগ করেছেন। ভোট কারচুপি করতে গুণ্ডা ও সন্ত্রাসী জমায়েত করা
আওয়ামী লীগের কাজ। পুলিশের অত্যাচারে বিএনপি নেতাকর্মীরা বাড়িতেই থাকতে
পারছে না।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের দুই মেয়র
প্রার্থী আতিকুল ইসলাম ও ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস গতকালও ভোটের
উৎসবমুখর পরিবেশ নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। কিন্তু বিএনপির দুই প্রার্থী
তাবিথ আউয়াল ও ইশরাক হোসেন কারচুপির আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন। ভোট চুরি হলে
তা ঠেকানো হবে বলেও হুঁশিয়ার করেছেন।
এবারের সিটি নির্বাচনের সব কেন্দ্রে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট
নেওয়া হবে। ইভিএম নিয়ে বিএনপি বারবার শঙ্কার কথা বললেও, আওয়ামী লীগ তাদের
সমর্থনের কথাই জানিয়েছে। আজ সব ভোটকেন্দ্রে ইভিএম প্রদর্শন করা হবে। কীভাবে
ভোট দিতে হয় তার অনুশীলন করতে পারবেন ভোটাররা।
অবৈধ প্রচার সামগ্রী সরাতে গত মঙ্গলবার ইসি ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়ে চিঠি
দিয়েছিল। কিন্তু গতকাল পর্যন্ত ফুটপাতে নির্বাচনী ক্যাম্প, বিদ্যুতের খুঁটি
থেকে ব্যানার-ফেস্টুন সরেনি।
এবারের নির্বাচনে ঢাকা উত্তরের এক হাজার ৩১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৭৬টি
কেন্দ্রই ঝুঁকিপূর্ণ। দক্ষিণের এক হাজার ১৫০ কেন্দ্রের মধ্যে ৭২১টি
ঝুঁকিপূর্ণ। দুই সিটির দুই হাজার ৪৬৮ কেন্দ্রের এক হাজার ৫৯৭টি ঝুঁকিপূর্ণ।
এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত দু'জনসহ ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন
করা হবে। সাধারণ কেন্দ্রে ১৬ জন করে।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে অস্ত্রধারী ছয় পুলিশ, দু'জন অস্ত্রসহ আনসার এবং
লাঠিধারী ছয় পুরুষ এবং চার নারী আনসার সদস্য থাকবেন। সাধারণ কেন্দ্রে
অস্ত্রধারী চার পুলিশ থাকবে।
উত্তর সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আবুল কাশেম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে বাড়তি নজর থাকবে।
দক্ষিণ সিটির রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, নির্বাচনের দিন যত
এগিয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র তত বেড়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা থেকে ইসিকে এই তথ্য
জানানো হয়েছে। ইসি ওইসব কেন্দ্রে সতর্ক দৃষ্টি রাখবে।
গতকালও রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও বিদ্রোহী কাউন্সিলর
প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আগামী দিনগুলোতেও দলীয় ও বিদ্রোহী
প্রার্থীর সংঘর্ষের শঙ্কা থেকে যাচ্ছে। নিরাপত্তা রক্ষায় ভোটের আগের দিন
থেকেই রাজধানীতে থাকছে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়।
- বিষয় :
- প্রচার শেষ আজ
