ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কী

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস কী
×

.

 ডা. সানিয়া সুলতানা

প্রকাশ: ১৯ আগস্ট ২০২৫ | ০০:৪১

গর্ভকালীন ডায়াবেটিস এক ধরনের ডায়াবেটিস, যা কেবল গর্ভাবস্থায়ই হয়ে থাকে। গর্ভাবস্থায় হরমোনের পরিবর্তন এবং কিছু শারীরিক কারণে মায়ের শরীর পর্যাপ্ত ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না অথবা শরীর ইনসুলিনকে সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারে না। এর ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়, যা গর্ভকালীন ডায়াবেটিস (Gestational Diabetes) নামে পরিচিত।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসের কারণ
গর্ভাবস্থায় ইনসুলিনের উৎপাদন কমে যাওয়া অথবা ইনসুলিন প্রতিরোধের (Insulin Resistance) কারণে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হতে পারে।
উচ্চ ঝুঁকিতে কারা আছেন?
l যাদের প্রি-ডায়াবেটিস আছে।
l আগের গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস ছিল।
l নিকট আত্মীয় বা বাবা-মায়ের ডায়াবেটিস থাকলে।
lযাদের পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (PCOS) আছে।
l যাদের অতিরিক্ত ওজন আছে (BMI > 30)।
l৩০ বছর বা তার বেশি বয়সী হলে।
l ইতোমধ্যে ৪ কেজি বা ৯ পাউন্ডের বেশি ওজনের শিশু জন্ম দিলে।
কীভাবে রোগ নির্ণয় করা হয়?
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস নির্ণয়ের জন্য একটি মাত্র টেস্টই যথেষ্ট, সেটি হলো–ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট (OGTT)।
এই টেস্টে রোগীকে প্রথমে খালি পেটে রক্ত দিতে হয়। এরপর ৭৫ গ্রাম গ্লুকোজ পান করে ২ ঘণ্টা পর আবার রক্ত দিতে হয়।
কখন একে ডায়াবেটিস বলা হয়?
আমেরিকান ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন (ADA, 2020)-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী, যখন নিচের যেকোনো একটি মান বেশি হয়, তখন একে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস বলা হয়–
খালি পেটে (Fasting): ৯২ mg/dL (৫.১ mmol/L) এর বেশি।
১ ঘণ্টা পর: ১৮০ mg/dL (১০.০ mmol/L) এর বেশি।
২ ঘণ্টা পর: ১৫৩ mg/dL (৮.৫ mmol/L) এর বেশি।
চিকিৎসা
গর্ভকালীন ডায়াবেটিসকে সাধারণত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ গর্ভাবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ, ক্যালোরি নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে ইনসুলিন গ্রহণের মাধ্যমে এই ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
মেডিকেল নিউট্রিশন থেরাপি (MNT)-এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস মেনে চললে অনেক ক্ষেত্রেই ইনসুলিন ছাড়াই রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
রক্তের শর্করা (ব্লাড সুগার)-এর লক্ষ্যমাত্রা
খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে যদি রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না হয়, তবে এন্ডোক্রাইনোলজিস্টের পরামর্শ মতো ইনসুলিন থেরাপি শুরু করা যেতে পারে। নিচে রক্তের শর্করার কিছু লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হলো:
খালি পেটে: < ৯৫ mg/dL (৫.৩ mmol/L)
খাবারের ২ ঘণ্টা পর: < ১২০ mg/dL (৬.৭ mmol/L)  v
[গাইনি বিশেষজ্ঞ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও আলোক হেলথকেয়ার লিমিটেড]

আরও পড়ুন

×