ঢাকা মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

শরীরে রক্তশূন্যতা

শরীরে রক্তশূন্যতা
×

 ডা. নাসির উদ্দিন আহমদ

প্রকাশ: ২১ জুলাই ২০২৬ | ০৭:৩৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া হলো এমন একটি শারীরিক অবস্থা, যেখানে বয়স ও লিঙ্গভেদে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় নিচে নেমে যায়। আমাদের শরীরের প্রতিটি কোষে সঞ্জীবনী অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম হলো এই হিমোগ্লোবিন। নিচে রক্তশূন্যতা বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো 
তুলে ধরা হলো–

রক্তশূন্যতার লক্ষণ
রক্তশূন্যতার লক্ষণগুলো কারণভেদে ভিন্ন হতে পারে। তবে সাধারণ কিছু উপসর্গ হলো শারীরিক দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি, ক্ষুধামান্দ্য এবং সামান্য পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠা।
হৃদযন্ত্রের ওপর প্রভাব: হৃৎপিণ্ডের ওপর চাপ বেড়ে যাওয়া, হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া এবং তীব্র রক্তশূন্যতায় হার্ট ফেইলিওর হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বাহ্যিক পরিবর্তন: শরীর ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, ঠোঁটের কোণে ও জিহ্বায় ঘা হওয়া এবং জিহ্বার স্বাভাবিক রং পরিবর্তন হওয়া। এছাড়া চুল ও নখ ফেটে যাওয়া বা উজ্জ্বলতা হারানো।
অন্যান্য জটিলতা: শরীরে পানি জমা, শুয়ে থাকলে শ্বাসকষ্ট, স্নায়বিক দুর্বলতা, ঢোক গিলতে কষ্ট হওয়া এবং নারীর মাসিক অনিয়মিত হওয়া। লোহিত কণিকা ভেঙে রক্তশূন্যতা হলে জন্ডিসের লক্ষণও দেখা দিতে পারে।
রক্তশূন্যতার কারণ
পুষ্টির অভাব: আয়রন, ভিটামিন বি-১২ এবং ফলিক এসিডের ঘাটতি।
দীর্ঘস্থায়ী রোগ: কিডনি বা লিভার বিকল, থাইরয়েড সমস্যা, আর্থ্রাইটিস, ক্যান্সার ও যক্ষ্মা।
রক্তক্ষরণ ও অন্যান্য: অপুষ্টি, পেপটিক আলসার, দীর্ঘমেয়াদি বেদনানাশক বা স্টেরয়েড ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, কৃমির সংক্রমণ, পায়খানার সঙ্গে রক্ত যাওয়া, নারীর অত্যধিক রজঃস্রাব এবং ঘন ঘন গর্ভধারণ।
জেনেটিক কারণ: থ্যালাসেমিয়াসহ হিমোগ্লোবিনের নিজস্ব বিভিন্ন রোগ

প্রতিকার ও করণীয়
রক্তশূন্যতায় আক্রান্ত হলে প্রথমেই এর কারণ ও তীব্রতা নির্ণয় করা জরুরি। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। সাধারণ কিছু করণীয় হলো:
পুষ্টিকর খাবার: খাদ্যতালিকায় লৌহসমৃদ্ধ খাবার যেমন–লাল মাংস, কলিজা, গিলা, ছোট মাছ, লালশাক, কচুশাক ও অন্যান্য সবুজ শাকসবজি এবং প্রচুর ফলমূল অন্তর্ভুক্ত করা।
ভিটামিন গ্রহণ: প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে ফলিক এসিড বা অন্যান্য ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা।
সতর্কতা 
সব ধরনের রক্তশূন্যতায় আয়রন গ্রহণ করা নিরাপদ নয়; কিছু ক্ষেত্রে এটি নিষিদ্ধ। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো ওষুধ সেবন করা উচিত নয়।
রক্তশূন্যতার কারণভেদে চিকিৎসা ভিন্ন হয়, তাই উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত মেডিসিন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। 
[লেখক: মেডিসিন স্পেশালিস্ট]

আরও পড়ুন

×