ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দূরে কম দেখা বা মাইয়োপিয়া

দূরে কম দেখা বা  মাইয়োপিয়া
×

   ডা. আহসান কবির

প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৩৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

জীবদ্দশায় অনেকেই আমরা ছোট বয়স থেকে দূরে কম দেখি। অনেকেই সেটি বুঝি আবার অনেকে বুঝি না। মজার বিষয় হলো ছোট বয়স থেকে যারা দূরে কম দেখেন তাদের অনেকেই কাছে দেখার সমস্যা মনে করেন না বলে নিজেকে স্বাভাবিক ভাবেন। যে কারণে তারা চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন না। আবার অনেকের এমন ধারণা আছে, দুনিয়াতে বোধ হয় সবাই তাঁর মতন কম দেখেন; যা আমার পেশা জীবনে পেয়েছি। শরীরে যে কোনো সমস্যা নিয়ে অবহেলা করা ভালো নয়। যারা দূরে কম দেখেন আর কাছে ভালো দেখেন  চোখের এই অবস্থাকে ‘মাইয়োপিয়া’ (Myopia) বলে।

চোখের স্বাভাবিক আকৃতি 
আমাদের দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সব সমান আকৃতির নয়। তেমনি চোখের আকৃতিও সবার সমান না। ২৪-২৪.৫ মিলিমিটার (সামনে পেছনে)। যদি কারও চোখ একটু লম্বাটে হয় বা ডিম্বাকৃতি তখন সে দূরে কম দেখবে। চোখের আলোকরশ্মি লেন্সের মাধ্যমে প্রতিসরণ হয়ে ভেতরে রেটিনায় পৌঁছায়। যদি চোখ একটু লম্বাটে হয় তাহলে রশ্মির আলোগুলো রেটিনা ঠিকমতো পৌঁছাবে না আর ঝাপসা দেখা যাবে।
কারণ কী; প্রাথমিক কারণ প্রায় ক্ষেত্রে অজানা। তবে এই সমস্যা যে বংশগত তা বলা সহজ। 

লক্ষণ
l সমস্যাটা শিশু বয়স থেকেই ধরা পড়ে। দূরের ব্ল্যাকবোর্ডের অক্ষরগুলো ভালো বুঝতে না পারা, চোখ ছোট করে পিটপিট করে দেখার চেষ্টা করা, কিংবা ঘাড় কাত করে অথবা বাসায় টেলিভিশন দেখার সময় কাছে গিয়ে দেখা।

মাথা নিচু করে বই কাছে এনে পড়া; ইত্যাদি 
l চোখ দিয়ে পানি পড়া, একটা অস্বস্তি লাগা, মাথাব্যাথা, পড়তে পড়তে চোখ ঝাপসা লাগা। 
l জন্মগত বা একটু বয়স বাড়লে যেকোনো চোখ ট্যারা হওয়া দূরে কম দেখার লক্ষণ।  
l চোখের কর্নিয়ার কিছু রোগ যেমন কোণাকৃতি, ভিটামিন এ ঘাটতিতে কর্ণিয়া নরম হয়ে যাওয়া বা কোনো পুরাতন ঘা বা প্রদাহ, চোখের আইরিশে প্রদাহ, চোখের লেন্সের ছানি, চোখের ভেতরের ঘণকাচীয় পানির প্রতিসরণ ইনডেক্স বাড়লে চোখে দূরে কম দেখা যাবে। 
l ডায়াবেটিক রোগীর রক্তের শর্করা তারতম্য হলে দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে কিংবা কিছু কিছু ওষুধ আছে; যা সাময়িক দূরদৃষ্টি ঘটাতে পারে।

 চিকিৎসা 
অবশ্যই চক্ষু  চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে ও সেই অনুসারে চিকিৎসা নিলে সুস্থ থাকা যায়। শারীরিক কোনো জটিলতা না থাকলে চোখের চশমা ব্যবহার করে প্রায় ক্ষেত্রে সহজেই এই সমস্যা সমাধান করা যায়। 
এ ছাড়া কন্টাক্ট লেন্স কিংবা উন্নত লেজার (ল্যাসিক) চিকিৎসা করালে এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যেতে পারে। 
যেহেতু এই সমস্যাটি প্রায় ক্ষেত্রে বংশগত তাই চশমা ব্যবহার এবং নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে পরিবর্তন বাঞ্ছনীয়। একটা ভুল ধারণা আছে যে চশমা ব্যবহার করলে চোখের পাওয়ার বাড়ে না কিংবা ব্যবহার করতে করতে চোখ ভালো হয়ে যায়। এসব ধারণা একদম ভুল। শিশুর বয়স ৩-৬ বছরের মধ্যে চশমা নিলে চোখের ভেতর রেটিনার উন্নতি ঘটে। তাই এ ব্যাপারে অভিভাবকের যেকোনো ভুল চিন্তা বা ভুল পদক্ষেপ শিশুর আগামী জীবনের জন্য সমস্যা বয়ে আনবে। বিশেষ করে শিশুর যদি কোনো চোখ ট্যারা থাকে তাকে লক্ষ্মী বলে চিন্তা করা ভুল হবে। কারণ অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে তার শিশুটি চোখে কম দেখা যে কি তা বোঝে না। অথবা চোখ ট্যারা হলে সামান্য হোক বা বেশি হোক চিকিৎসা নিতে যেন ভুল  না হয়। শিশুর কম দেখার কারণে চশমা নিলে বা ট্যারা চোখ অপারেশন করলে মুক্তি পাওয়া যায়। 

সতর্কতা
যে শিশুরা মাইনাস ৫ বা ৬-এর ঊর্ধ্ব পাওয়ার চশমা ব্যবহার করে, তাদের বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন আছে। তারা যেন প্রতিবছরই চিকিৎসককে ফোন করে। কারণ, এই পর্দা বিশেষ কম দেখা বা প্যাথলজিক্যাল মায়োপিয়াতে চোখের রেটিনা সরে যাওয়া বা ফেটে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে, 
যা অত্যন্ত বিপজ্জনক। 

[চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফেকো সার্জন] 
কনসালট্যান্ট, যশোর

আরও পড়ুন

×