অসাবধানতায় চোখের দুর্ঘটনা
ডা. আহসান কবির
প্রকাশ: ২৫ আগস্ট ২০২৬ | ০৭:৩৯
| প্রিন্ট সংস্করণ
সকাল থেকে শুরু করে রাতের ঘুম পর্যন্ত আমরা কিছু না কিছু কাজে ব্যস্ত থাকি এবং এই ব্যস্ততার মাঝে আমরা হয়তো অসাবধানতাবশত শারীরিক দুর্ঘটনায় পড়তে পারি। ফলে দেহের যে কোনো অঙ্গ অল্প থেকে বিস্তর ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে। আমার আলোচনা চোখ নিয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে।
চোখে গরম তেল, হারপিক বা সুপারগ্লু পড়লে কী করতে হবে
সাধারণত গরম তেলে নারী আক্রান্ত হন রান্না করার সময়। যেহেতু পুরুষরা বাসার বাইরে কাজকর্ম করেন তাদের কর্মক্ষেত্রে সুপারগ্লুতে আক্রান্ত হওয়া কিংবা টয়লেট বেসিন পরিষ্কার করার সময় হারপিক, ভিক্সল চোখে পড়া বা ক্ষতি হতে পারে।
আমাদের চোখ একটি সংবেদনশীল অঙ্গ। চোখকে রক্ষা করার জন্য মাথার হাড়ের সামনের দুই গর্তের মধ্যে ও তার চারপাশে অনেক চর্বি, মাংসপেশি এবং সামনে দুটো পাপড়ি; যা অনবরত বন্ধ হচ্ছে, খুলছে বা বন্ধ হচ্ছে। যেকোনো দুর্ঘটনায় সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের দুটো চোখ, চোখের দুই পাতা তৎক্ষণাৎ স্বাভাবিকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। ক্ষেত্রবিশেষ অনেক সময় এই পাপড়ি/পাতা বন্ধ হওয়ার মুহূর্তেই চোখের ভেতরের এলাকা আক্রান্ত করতে পারে।
লক্ষণ কী কী
এ ধরনের পদার্থ চোখে পড়লে প্রথম লক্ষণ ভীষণ জ্বালা যন্ত্রণা, সঙ্গে সঙ্গে চোখ খুলতে কষ্ট হয়। হারপিক অম্লজাতীয় পদার্থ এবং তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা আছে। ক্ষেত্রবিশেষ বা পরে আটকিয়েও যেতে পারে। তখন অবশ্যই চোখ খোলা চেষ্টা করা যাবে না। গরম তেল বা হারপিক চোখের পাপড়ি বা চামড়াতে পড়লে তা পুড়ে যেতে পারে ও প্রচণ্ড জ্বালাযন্ত্রণা শুরু হয়।
সুপারগ্লু বা হারপিক একটা রাসায়নিক অম্লজাতীয় পদার্থ। হারপিকে থাকে সায়ানোএক্রিলেট; যা খুব তাড়াতাড়িই শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায়। ভিক্সলে থাকে হাইড্রোক্লোরিক এসিড।
চোখের চামড়া পাপড়িতে পড়লে সেই জায়গা পুড়ে যাবে।
পাপড়ি বন্ধ হওয়ার আগেই চোখের কালো মণি বা সাদা অংশে পড়লে এলাকাটা পুড়ে যাবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।
কী করতে হবে
একদম অস্থির হওয়া যাবে না। কোনো ভয়ের কারণ নেই। রান্নার চুলা বন্ধ করে পানির কলের কাছে গিয়ে চোখে পানির ঝাপটা দিতে হবে। ব্যবহার করা পানিটি যেন জীবাণুমুক্ত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। যতক্ষণ পারা যায় চোখ ধুতে হবে। কখনও ডলাডলি করা যাবে না।
আরও ভালো হয়, এক গামলা পানির মধ্যে ১০-১৫ মিনিট নাকমুখ ডুবিয়ে চোখ খোলা রেখে চোখটা ধুতে হবে। অনেকে বরফ ঠান্ডা পানি ব্যবহার করেন। সেটি করা উচিত নয়। কারণ অনেক সময় বেশি ঠান্ডা পানিতে চোখের চামড়ার ক্ষতি হয়।
এসব প্রাথমিক চিকিৎসা শেষ হলে সঙ্গে সঙ্গে শরণাপন্ন হতে হবে চক্ষুবিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে।
বিশেষ করে সুপারগ্লু চোখে ভেতরে গেলে অনেক ক্ষেত্রেই দুটি চোখ আটকে যায়, খোলা যায় না এবং অনেকে ভয় পেয়ে জোর করে খোলার চেষ্টা করেন। তখন হয়ে যায় বিপত্তির কারণ। চোখের নেত্রপর্দা (কনজাংটিভা) খুবই স্পর্শকাতর ও ক্ষতপ্রবণ।
জোরে টানাহেঁচড়া করলে নেত্রপর্দা ছিড়ে একটা বিব্রতকর অবস্থায় সৃষ্টি হতে পারে।
একজন চক্ষুবিশেষজ্ঞ চিকিৎসক জানেন কীভাবে সুপারগ্লুতে আটকানো চোখ খোলা যায়। তিনি ব্যথানাশক ওষুধ দিয়ে খুব সাবধানে চোখের পর্দা খোলার চেষ্টা করবেন। অনেক সময় ছিড়ে গেলে যাতে আবার আটকে না যায় সেজন্য বিশেষ ধরনের লেন্স বা শিল্ড ব্যবহার করবেন।
যারা কন্টাক্ট লেন্স ব্যবহার করেন আক্রান্তের সঙ্গে সঙ্গে তারা লেন্স খুলে দেবেন বা খুলে ফেলবেন।
চোখের পূর্ণ বিশ্রামের জন্য দুচোখ ব্যান্ডেজ করে দেওয়া হয় জীবাণুনাশক ওষুধ এবং মলমের সাহায্যে। এ ধরনের দুর্ঘটনায় একদম অস্থির না হয়ে হয়ে চোখ ডলাডলি না করে চক্ষুবিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। দেখবেন সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
[চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ও ফেকো সার্জন,
যশোর]
- বিষয় :
- চোখের স্বাস্থ্য