জনসংখ্যা ও উন্নয়ন বিষয়ে কর্মশালায় অভিমত
'তিন শূন্য' অর্জনে সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ২২:৩৬
বৈশ্বিক জনসংখ্যা ও উন্নয়নে 'তিন শূন্য' লক্ষ্য অর্জনে যথেষ্ট গতি নেই। লক্ষ্যগুলো অর্জনে জাতীয় সমন্বয় এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে হবে। এসব লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ এগিয়ে থাকলেও কিছু প্রতিবন্ধকতা এখনও রয়ে গেছে। অতিমারি করোনা এসব প্রতিবন্ধকতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। বহুপক্ষীয় জাতীয় এক কর্মশালায় গতকাল বুধবার এমন মত দেন বক্তারা। তিন লক্ষ্য হলো- মাতৃমৃত্যু হার, লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা ও ঝুঁকিপূর্ণ বাল্যবিয়ে শূন্য শতাংশে নামিয়ে আনা। ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইসিপিডি) ২০১৯ সালে ১০ বছর মেয়াদের এ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে।
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) এবং জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) যৌথভাবে কর্মশালার আয়োজন করে। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান। লক্ষ্য অর্জনের প্রতিশ্রুতি ও কৌশল প্রচারের উদ্দেশ্যে এর আয়োজন করা হয়।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, যে কোনো সামাজিক সমস্যা মোকাবিলায় সব অংশীজনের উৎসাহ এবং স্বতঃস্ম্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি। তবে সাধারণত সুবিধাবঞ্চিত মানুষ নীতিমালা তৈরির প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের সুযোগ পায় না। এ কারণে সব উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, বিভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য এবং কার্যক্রম ফলপ্রসূ কিনা তা ভেবে দেখার সুযোগ রয়েছে। মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নিজেকে একটি আধুনিক সরকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। লক্ষ্য অর্জনে গবেষকসহ সব পক্ষের সহযোগিতা আশা করেন তিনি।
কর্মশালার সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। তিনি বলেন, নারী ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে বাজারভিত্তিক সমাধানের দিকে এগুতে হবে। সব পক্ষের সহযোগিতায় জনসংখ্যা নীতির লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।
কর্মশালায় পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, জনসংখ্যা ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সাফল্য অর্জনে প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে নারীর ক্ষমতায়ন, মাঠপর্যায়ের অবস্থা এবং উদ্ভাবনী যোগাযোগ ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ দিক। দায়মুক্তির সংস্কৃতি এবং সুষ্ঠু বিচারের অভাবের ফলে লিঙ্গভিত্তিক সংহিসতা ঘটে চলছে। জাতীয় জনসংখ্যা নীতি সংশোধনের পরামর্শ দেন তিনি।
কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন- সাংসদ অধ্যাপক হাবিবে মিল্লাত, আরমা দত্ত, ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ড. ভিভাভেন্দ্রা সিং রাঘুভানসী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পপুলেশন সায়েন্সের অধ্যাপক মাইনুল ইসলাম প্রমুখ।
