ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

জ্বালানি সংকট কাটাতে গ্যাস অনুসন্ধানের তাগিদ

জ্বালানি সংকট কাটাতে গ্যাস অনুসন্ধানের তাগিদ
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১২ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ অবশ্যই বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের একটি কারণ, যা বাংলাদেশকেও প্রভাবিত করেছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধ না হলেও বাংলাদেশ জ্বালানি সংকটের মুখোমুখি হতো। ২০১৫ সাল থেকে স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন ও সরবরাহ কমে এসেছে এবং অদূর ভবিষ্যতে তা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে ভূ-বৈজ্ঞানিক গবেষণা অনুসারে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত যতটুকু গ্যাস উত্তোলন করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস অনাবিস্কৃৃত রয়ে গেছে। ফলে গ্যাস অনুসন্ধান বাংলাদেশের জ্বালানি সংকট কাটিয়ে ওঠার সর্বোত্তম বিকল্প। ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসিবি) সর্বশেষ ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে এমন মত দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়, ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে এবং পেট্রোবাংলার দুই বছরের যৌথ সমীক্ষায় দেখা যায়, বাংলাদেশে প্রায় ৩২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস অনাবিস্কৃৃত। নরওয়ের পেট্রোলিয়াম ডিরেক্টরেট এবং হাইড্রোকার্বন ইউনিট আরেকটি যৌথ গবেষণায় প্রস্তাব করেছে, বাংলাদেশের অনাবিস্কৃৃত গ্যাস সম্পদের গড় সম্ভাবনা ৪২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ বছরে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করে। এর অর্থ হলো, ৩২ থেকে ৩৪ টিসিএফ অব্যবহূত গ্যাস সম্পদ অনুসন্ধানের মাধ্যমে আগামী ৩০ বছরের জন্য দেশে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যেতে পারে। গ্যাস খাতে বাংলাদেশের আরও সম্ভাবনা থাকলেও বিশ্বের অন্যান্য গ্যাস বেসিনের তুলনায় অনুসন্ধান গ্যাসকূপের সংখ্যা কম। বাংলাদেশের আয়তন ১ লাখ ৪৭ হাজার বর্গ কিলোমিটার এবং এখন পর্যন্ত মোট ১০০টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে। অন্যদিকে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের আয়তন ১০ হাজার বর্গ কিলোমিটার এবং সেখানে ১৫০টিরও বেশি অনুসন্ধানী কূপ খনন করা হয়েছে। এ ধরনের পরিসংখ্যান দেখায়, বাংলাদেশে অনুসন্ধানের হার আসলে কতটা কম।
আইসিসিবি জানায়, ২৫ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার মধ্যে সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট অফ-গ্রিড (সোলার হোম এবং ক্যাপটিভ), যেখানে ৪ হাজার মেগাওয়াট জোরপূর্বক বন্ধ রাখতে হচ্ছে অথবা জ্বালানি ঘাটতির কারণে চালু করা যাচ্ছে না। বর্তমান সংকট মেটাতে এবং ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজন মেটাতে বাংলাদেশ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস এলএনজি আমদানি শুরু করেছে। তাই, এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা স্বল্প মেয়াদে কার্যকর হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে মূল্যের অস্থিরতা এবং বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আমদানিকে ভঙ্গুর করে তুলবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

আরও পড়ুন

×