ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

রপ্তানি ৯৩ থেকে কমে দেড় শতাংশ

সোনালি আঁশের সুদিন ফেরেনি

জাতীয় পাট দিবস আজ

সোনালি আঁশের সুদিন ফেরেনি
×

ফাইল ছবি

আবু হেনা মুহিব 

প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৪ | ১৭:৪৭ | আপডেট: ০৬ মার্চ ২০২৪ | ১৭:৫৫

পাটের সোনালি সুদিন ফেরানোর কথা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শোনানো হচ্ছে দশকের বেশি সময় ধরে। বাস্তবতা হচ্ছে, একসময়ের এ অর্থকরী ফসল সোনালি আঁশের সুদিন তো ফেরেইনি, বরং দুর্দিন ঘনীভূত। পাট ও পাটপণ্যের রপ্তানি কমতে কমতে এখন তা তলানিতে এসে ঠেকেছে। স্থানীয় বাজার কিংবা গৃহস্থালি কাজেও ব্যবহার কমছে পাটের। আবাদ এবং উৎপাদনও আগের মতো নেই। আছে কাঁচা পাটের দর নিয়ে ফড়িয়াদের কারসাজি, নগদ সহায়তা পেতে চাষিদের হয়রানি। এ রকম বেশ কিছু কারণে শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। সে জায়গা নিতে পারেনি বেসকারি খাত। বরং গত চার বছরে বেসরকারি খাতেরও ৬৮টি পাটকল বন্ধ হয়ে গেছে। আর পাটের এ নাজুক অবস্থায় পরিবেশ বিধ্বংসী প্লাস্টিকের ব্যবহার বেড়েছে অবাধে। এমন পরিস্থিতিতে আজ বুধবার পালিত হবে জাতীয় পাট দিবস। দিনটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশ, স্মার্ট পাটশিল্পের বাংলাদেশ’।     

স্বাধীনতার পর ১৯৭২-৭৩ সালে মোট রপ্তানি আয়ে পাটের অবদান ছিল ৯৩ শতাংশ। বাকি ৩ শতাংশ ছিল অন্যান্য পণ্যের। সেই চিত্র এখন পুরোটাই বিপরীত। ক্রমেই কমে আসে পাটের প্রাধান্য। গত সোমবার প্রকাশিত রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুারোর (ইপিবি) প্রতিবেদন বলছে, গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এ অর্থবছরের আট মাস শেষে মোট রপ্তানিতে পাটের অবদান মাত্র ১ দশমিক ৫৮ শতাংশ। এ সময় রপ্তানি কমেছে গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রায় ৫ শতাংশ। কাঁচাপাটের রপ্তানি কমেছে ২৩ শতাংশেরও বেশি। গত আট মাসে রপ্তানি হয়েছে ৫৮ কোটি ডলারের পাট ও পাটপণ্য। অথচ পাটই একমাত্র পণ্য, যা রপ্তানিতে প্রায় শতভাগ মূল্য সংযোজন সুবিধা রয়েছে। 

উদ্যেক্তারা বলছেন, বিশ্ববাজারের চাহিদা অনুযায়ী দেশে মানসম্পন্ন পাটপণ্য উৎপাদনে মনোযোগ না দেওয়ার কারণে গৌরব হারিয়েছে পাটশিল্প। বর্ণিল বহুমুখী পণ্যের চাহিদা এবং প্রতিযোগিতার বাজারে শুধু ছালা এবং বস্তা তৈরি করে বাজার ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। তবে এ দুই পণ্যের উচ্চ চাহিদা রয়েছে ভারতে। এ কারণে ভারতই বাংলাদেশের পাট ও পাটপণ্যের প্রধান বাজার। গত সাত বছর ধরে বাংলাদেশের পাটপণ্য আমদানিতে অ্যান্টি ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। মূলত এর জেরেই পাটের সংকট প্রকট আকার নেয়। 

বাংলাদেশ বহুমুখী পাটপণ্য উৎপাদক ও রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি রাশেদুল করিম মুন্না বলেন, ‘পরিবেশ সচেতনতা থেকে বিশ্ববাজারে প্রাকৃতিক তন্তু ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে চাহিদা তৈরি হয়েছে, সে সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। ৫০ বছর আগে যে বাজারে রপ্তানি হতো, এখনও সেখানেই নির্ভরতা রয়ে গেছে। বিশ্ববাজারের চাহিদা জানা এবং সে অনুযায়ী পণ্য উন্নয়নে গবেষণা বলতে গেলে হচ্ছেই না। এ ধরনের বাণিজ্যিক পণ্য উৎপাদনে ঘাটতি আছে। এ ছাড়া সরকারের পক্ষ থেকে সময়োপযোগী নীতি সহায়তা নেই।’  তাঁর মতে, যেসব সমস্যার কথা তিনি বলেছেন, সেগুলো সমাধান এবং মূল্য সংযোজিত পণ্যে মনোযোগ দিলে বছরে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন ডলার রপ্তানি করা সম্ভব। 

বেসরকারি পাটকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিজেএমএ) সভাপতি আবুল হোসেন জানান, ভারতের বাইরে পাটপণ্যের বড় বাজার ছিল তুরস্ক। দেশটি বাংলাদেশের পাটের সুতায় কার্পেট তৈরি করত। পাটের সুতার দাম বেড়ে যাওয়ার কারণে শিল্পবর্জ্য থেকে এখন তুলা এবং সুতা উৎপাদন করছে দেশটি। 

চার বছরেও চালু হয়নি রাষ্ট্রায়ত্ত বন্ধ পাটকলগুলো

লোকসানের কারণে রাষ্ট্রায়ত্ত ২৭টি পাটকলের সবই বন্ধ রয়েছে। ২০২০ সালের ১ জুলাই ২৫টি পাটকল বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। দুটি পাটকল বন্ধ হয় আরও আগেই। বন্ধ হওয়ার আগে ২৫ পাটকলে ২৬ হাজার শ্রমিক কাজ করত। গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের মাধ্যমে তাদের সব পাওনা পরিশোধ করা হয়েছে। বন্ধ পাটকলগুলো দ্রুত সরকারি; বেসরকারি অংশিদারিত্ব কিংবা শতভাগ বেরসরকারি মালিকানায় চালুর সিদ্ধান্ত ছিল সরকারের। কিন্তু গত তিন বছরেও কোনো পাটকল চালু করা সম্ভব হয়নি। মাত্র ৬টি পাটকল বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়া সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও উৎপাদনে ফিরতে পারেনি এসব পাটকল। 

এদিকে জাতীয় পাট দিবস পালনে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জাতীয় দৈনিকগুলো ক্রোড়পত্র প্রকাশ করছে এ উপলক্ষে। আগামী ১৪ মার্চ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে পাট দিবসের মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে বেসরকারি খাতে ইজারা দেওয়া বিজেএমসির ৬টি কারখানার বাণিজ্যিক উৎপাদন কার্যক্রম এবং তিন দিনের বহুমুখী পাটপণ্য প্রদর্শনী ও মেলা উদ্বোধন করবেন তিনি। পাট খাতের সমৃদ্ধিতে বিশেষ অবদানের জন্য ১১ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কার দেওয়া হবে। এ ছাড়া শুভেচ্ছা স্মারক প্রদান করা হবে পাটসংশ্লিষ্ট অংশীজনকে। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক। 

আরও পড়ুন

×