ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টডিজের আলোচনা

বিভ্রান্তিকর তথ্য-উপাত্তে সুবিধা পায় বিশেষ গোষ্ঠী

বিভ্রান্তিকর তথ্য-উপাত্তে সুবিধা পায় বিশেষ গোষ্ঠী
×

.

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ জুলাই ২০২৪ | ২০:১৫

বাজেটে বিভ্রান্তিকর তথ্য-উপাত্ত উল্লেখ করা হয়ে থাকে। এতে বিশেষ গোষ্ঠী সুবিধা পেয়ে থাকে। রপ্তানি আয়ের হিসাবেও সম্প্রতি ১৪ বিলিয়ন ডলারের গড়মিল পাওয়া গেছে। রপ্তানি আয়ের হিসাবের এই গোজামিল ধরা পড়ায় এখন মোট দেশজ উৎপাদনের হিসাবও (জিডিপি) সংশোধন করে প্রকাশ করা উচিত সরকারের।

শনিবার 'বাজেট ২০২৪-২৫: কেমন হবে অর্থনীতির আগামী দিন' শীর্ষক ওয়েবিনারে বক্তারা এ কথা বলেন। ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ এ আলোচনার আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ছকবাধা বাজেটে প্রতিবছর বাড়তি রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়, কিন্তু তা অর্জন হয় না। এর মাধ্যমে এক অর্থে জনগণকে প্রতারিত বা বিভ্রান্ত করা হয়। আগামী অর্থবছরও রাজস্ব আদায়ের যে লক্ষ্যমাত্রা তা পুরণ হবে না। এভাবে বাজেটে অনেক ইস্যুতে জনগণকে বিভ্রান্তমূলক তথ্য-উপাত্ত দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, এ রকম বিভ্রান্তিকর তথ্য-উপাত্ত দিয়েই বাজেটে অলিগার্ক বা বিশেষ কিছু গোষ্ঠীকে বাড়তি সুবিধা দেওয়া হয়। চলতি বাজেটেও বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকিতে বাড়তি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এখান থেকে এসব স্বার্থান্বেশীদের বখরা দেওয়া অব্যাহত থাকবে। আর এ খাতে বরাদ্দ বাড়াতে গিয়ে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মত জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমানো হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, এক রাজনৈতিক প্রাধান্য থাকা দেশে বাজেট কেমন হয় এটা আগে বুঝতে হবে। এ ধরনের  সরকার ব্যবস্থা চালু রাখতে হলে বখরা দিতে হবে। তা না হলে ক্ষমতায় থাকা যাবে না। এ কারণেই বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জ আকারে বখরা দেওয়া অব্যাহত রয়েছে। আগে একটি রাস্তা করার পর কমিশন দেওয়া হতো, এখন জাতীয় গ্রিডে কোনো বিদ্যুৎ দিলেও ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়। সরকারের সঙ্গে জনভিত্তি কমলে এভাবেই সহজ পদ্ধতিতে বখরা দিতে হয়।

তিনি বলেন, জিডিপির হিসাবের ক্ষেত্রে ভোগ ব্যয়, বিনিয়োগ, সরকারি ব্যয় এবং রপ্তানি থেকে আমদানির বিয়োগফল- এ চারটা বড় উপাদান থাকে। এক্ষেত্রে আমদানি-রপ্তানিসহ অল্প কয়েকটির প্রকৃত তথ্য পাওয়া যায়। বাকি ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রক্ষেপণ ও জরিপ তথ্য থেকে তথ্য-উপাত্ত নিয়ে ডিজিপির হিসাব করা হয়। এখন যদি রপ্তানি আয়ে ১৪ বিলিয়ন ডলারের গড়মিল পাওয়া যায়, তাহলে পরিকল্পনা এবং অর্থমন্ত্রীর কাছে সংশোধিত জিডিপির হিসাব চাওয়া উচিত। এ ছাড়া কর-জিডিপির অনুপাত না বাড়ার পেছনে এনবিআর কর্মকর্তাদের নিজেদের পকেট ভড়ার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।

সেন্টার ফর পলিসি ডালয়গের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, সঠিক তথ্য, সময়মত তথ্য, তথ্যের অভিগম্যতা এগুলো খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ভুল তথ্যের ভিত্তিতে গ্রহণ করা নীতি ভালো ফল দিতে পারে না। বাংলাদেশের জিডিপি খুব ভালো প্রচার করা হয়, কিন্তু এখানেও বিভ্রান্তি রয়েছে যে, প্রবৃদ্ধি কোথা থেকে আসছে। এবার রপ্তানিতে ১৪ বিলিয়ন ডলার গড়মিল সঠিক তথ্যের ক্ষেত্রে সরকারের উদাসিনতা আবারও সামনে নিয়ে আসলো। তাছাড়া বাজেটে মধ্যমেয়াদি প্রক্কলনগুলোও বাস্তবতার সঙ্গে মিল নেই। তা অর্জন সম্ভব নয়। এগুলোর বিষয়ে আরও গুরুত্ব আরোপ প্রয়োজন।

সাংবাদিক মনির হায়দারের সঞ্চালনায় ওয়েবিনারে আরও বক্তব্য দেন , অস্ট্রেলিয়ার সিডনি পলিসি এনালিসিস সেন্টারের অর্থনীতিবিদ জ্যোতি রহমান, রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান, উন্নয়ন ও অর্থনীতি গবেষক জিয়া হাসান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক জবাবদিহি না থাকলে ভালো কিছু আশা করাটা অনেকটাই বাতুলতা। এমন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে যত ভালো নীতিই গ্রহণ করা হোক না কেনো– সেখানে সাধারণ মানুষ প্রাধিকার পায় না। যেখানে রাজনৈতিক জবাবদিহি থাকে না সেখানে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলো খুব দুর্বল থাকে।

আরও পড়ুন

×