ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

বৈষম্যমূলক ভ্যাট ও দ্বৈত কর সমস্যার সমাধান চায় ফিকি

বৈষম্যমূলক ভ্যাট ও দ্বৈত কর  সমস্যার সমাধান চায় ফিকি
×

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৫২

| প্রিন্ট সংস্করণ

অনলাইন ও অফলাইনে পণ্য বিক্রির মধ্যে বৈষম্যমূলক ভ্যাট, দ্বৈত কর-সংক্রান্ত সমস্যা, পণ্য খালাসে বিলম্ব ও অর্জিত মুনাফা বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে কর-সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যুর সহজ সমাধান চেয়েছে বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সংগঠন  ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ে ‘মিট দ্য বিজনেস’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ফিকি নেতারা এসব বিষয়ে তাদের অবস্থান তুলে ধরেন। 

অনুষ্ঠানে ফিকির পক্ষে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক নূরুল কবির। এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানসহ সংস্থার সদস্যরা এর জবাব দেন। ফিকির পরিচালক ও এইচএসবিসি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহবুব উর রহমান বলেন, বিদেশি কোম্পানিগুলোকে ডিভিডেন্ড, রয়্যালটি পেমেন্টসহ বিভিন্ন কারণে স্বাভাবিকভাবেই বিদেশে টাকা পাঠাতে হয়। এখানে কী পরিমাণ ভ্যাট ও উৎসে কর এবং করবহির্ভূত খরচ পাঠানোর (মেধাস্বত্বসহ) বিধান থাকা উচিত, তা পুনর্বিবেচনা করা উচিত। দ্বৈত কর নিয়েও কোম্পানিগুলোকে বিপাকে পড়তে হয় বলে জানান তিনি।

অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দারাজের এক প্রতিনিধি অভিযোগ করেন, ই-কমার্স খাতে পণ্য বিক্রির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। কিন্তু একই পণ্য অফলাইনে বিক্রি করলে ভ্যাট ধরা হয় সাড়ে ৭ শতাংশ। যেমন– মোবাইল ফোনের ক্ষেত্রে দোকানে বিক্রির ওপর ভ্যাট সাড়ে ৭ শতাংশ; কিন্তু অনলাইনে ১৫ শতাংশ। এটি সমন্বয় করতে হবে। ব্যবসা খাতে ‘লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকা উচিত। অনুষ্ঠানে সেবা রপ্তানিতেও কর বসানোসহ নানা বিষয়ে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। পণ্য খালাসে বিলম্বের কথা জানান কেউ কেউ। 
এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান বলেন, এনবিআরের প্রধান লক্ষ্য দু-একদিনের মধ্যে পণ্য ছাড় করা। মালপত্র আসার পর অ্যাসেসমেন্ট কমিটি করতে গেলে কালক্ষেপণ হয়। এতে ব্যবসায়ীদের ক্ষিতপূরণ দিতে হয়। যদি কমিটি করতেই হয়, তাহলে পণ্য আসার আগেই করতে হবে। যারা এ দেশে ব্যবসা করতে আসছে, তারা যেন কোনো ধরনের হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করা এনবিআরের দায়িত্ব। 

তিনি বলেন, আমদানি পণ্যের ভ্যালুয়েশন নিয়ে জটিলতা কেন থাকবে? আইন অনুযায়ী শুল্ক যা আসবে তা-ই আদায় করতে হবে। ভ্যালুয়েশন বাড়িয়ে শুল্ক নির্ধারণ করার দরকার নেই। তবে কেউ কর ফাঁকি দিলে তা ধরতে হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা কোনো অনৈতিক কাজ কিংবা হয়রানি করতে চাইলে তাদের বিরুদ্ধে অনলাইনে অভিযোগ দিলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জনগণের টাকায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন হয়। ব্যবসায়ীরা কেন হয়রানি মেনে নেবেন। ব্যবসা বাড়লে রাজস্ব বাড়বে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করাই এনবিআরের প্রধান ফোকাস। 
আব্দুর রহমান খান বলেন, রাজস্ব আদায় মূল কথা নয়। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো অবহেলা চলবে না। মূল সমস্যা হলো, এনবিআরে মাথা বেশি, ফলে কাজের গতি কম। কোনো সমস্যা হলে একজন আরেকজনের কাছে পাঠায়। এটি দূর করতে হবে। দরকষাকষি থেকে বের হতে হবে।

এদিকে গত মঙ্গলবার রাজধানীর স্কাই সিটি হোটেলে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (ট্যাকসেশন) অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘অন্তরঙ্গন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে যত আলোচনা হয়, তার সারসংক্ষেপ হলো– রাজস্ব না বাড়াতে পারলে দুরবস্থা থেকে বের হওয়া যাবে না। যে পরিমাণ খরচ হয়, সে পরিমাণ জোগান হচ্ছে না। 
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সবাই আয়কর পরিবারের সদস্য। বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে হয়তো আমাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। নানান কারণে এই দূরত্ব তৈরি হতে পারে। যে কারণেই হোক, সেখান থেকে শিখব। সব কিছু ভুলে নতুন উদ্যমে শুরু করতে চাই।’

আরও পড়ুন

×