ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সিপিডির আয়ের উৎস জানতে চান অর্থমন্ত্রী

সিপিডির আয়ের উৎস জানতে চান অর্থমন্ত্রী
×

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল -ফাইল ছবি

 সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৪ নভেম্বর ২০১৯ | ১০:০৬

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) আয়ের উৎস জানতে চেয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। সংস্থাটির আয় বা রাজস্ব কোথা থেকে আসে, কোথায় কী কাজে ব্যয় হয়- তা জানতে চেয়েছেন তিনি।

সোমবার আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিভিন্ন প্রসঙ্গের পাশাপাশি সিপিডির আয়ের উৎস নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। রোববার দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর এক মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিপিডি। সেখানে সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, দেশে যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা সরকার বলছে, তার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই। উদাহরণ দিতে গিয়ে সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, প্রবৃদ্ধি সুতা কাটা বেলুন বা ঘুড়ির মতো। অর্থাৎ বাস্তবতার সঙ্গে সুতার যে সংযোগ থাকে, তা আর নেই। সাংবাদিকরা অর্থমন্ত্রীর কাছে এ মতামতের প্রতিক্রিয়া জানতে চান।

সিপিডির প্রতিবেদন পড়ে দেখার সুযোগ হয়নি জানিয়ে মুস্তফা কামাল বলেন, সিপিডি সব সময় তাদের 'লাইন'-এ আছে। সিপিডির লাইন এক রকম, সরকারের আরেক রকম। কথায় আছে 'যার নুন খাই, তার গুণ গাই'। সরকার নুন খায় দেশের জনগণের। গুণকীর্তন করবে দেশের জনগণের জন্য। সিপিডি কার নুন খায়, কার গুণকীর্তন করে তা জানা নেই। পরে সিপিডির লাইন কী- জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি নিজেও জানেন না।

তিনি বলেন, এ দেশে প্রবৃদ্ধি হচ্ছে কি না, দারিদ্র্য কমছে কি না, কর্মসংস্থান হচ্ছে কি না তা মানুষ জানে। ২০০১ সালে ৫৬ দশমিক ৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে ছিল। সেটা কমে এখন ২০ থেকে ২১ শতাংশের মাঝামাঝি। এই যে অর্ধেক দরিদ্র দূর হলো, এটা কীসের হাত ধরে হয়েছে। স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। আর কোনো রকম ম্যাজিক তো সরকারের হাতে নেই। তাহলে প্রবৃদ্ধি অস্বীকার করার সুযোগ কোথায়।

মুস্তফা কামাল বলেন, সিপিডি যদি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বলে, তাহলে ভুল করেছে। জিডিপি নিয়ে বলতে পারেই না। সরকার জিডিপি প্রকাশ করেছে গত বছর পর্যন্ত। এখন যদি আমদানি-রপ্তানিতে ঘাটতি থাকে, চলাফেরায় ঘাটতি থাকে, রাস্তাঘাটে ঘাটতি আছে, তাহলে জিডিপির যে প্রক্ষেপণ করা হয়েছে, তার সঙ্গে প্রকৃত জিডিপির মিল থাকবে না। এখন যদি এ বছরের কোনো ঘাটতি ধরে সিপিডি হিসাব করে, তাহলে সেটা ভুল হিসাব। রপ্তানি কমেছে, এটা সত্য। কিন্তু কোন দেশে রপ্তানি বেড়েছে?

সিপিডি কোন তথ্যের ভিত্তিতে এসব বলেছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, সিপিডির জনবল আছে কি-না। কোন তথ্যের ভিত্তিতে তারা এসব বলে। তথ্য সংগ্রহ করুক। বিবিএসের তথ্যে ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এ সময় সিপিডির তথ্য না পাওয়ার অভিযোগ তুললে তিনি বলেন, তথ্য পাওয়া, না পাওয়া তাদের ব্যাপার। লোকজন রাখে না কেন? সরকার কেন তাদের তথ্য দেবে। সিপিডি এসব করার জন্য টাকা পায়। সিপিডি কত কর দেয়? কোথা থেকে টাকা পায়? সরকারের আয়ের জায়গা আছে, কিন্তু সিপিডির আয়ের জায়গাটা কোথায়? তিনি বলেন, 'আমি আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমে সিপিডির কাছে জানতে চাই, সংস্থাটির আয় বা রাজস্ব কোথা থেকে আসে?' সেই টাকা দিয়ে সিপিডি কী করে, কতজন লোকের চাকরির ব্যবস্থা করেছে- এসব জানতে চান অর্থমন্ত্রী।

তিনি বলেন, সিপিডি বৈশ্বিক পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে মূল্যায়ন করলে খুশি হওয়া যেত। ভারতের রপ্তানি কতটা কমছে। প্রবৃদ্ধি অন্যদের কতটা বাড়ছে, সেটা বললে আমার কাছে পরিস্কার হতো। বাংলাদেশ বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, বরং অংশ। এখন সারাবিশ্বে একটা টানাপোড়েন চলছে। সারাবিশ্বে একটা বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইউরোপের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে। ইউরোপে ব্রেপিট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটা অস্থিরতা যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রপ্তানি বাণিজ্য ঝুঁকির মধ্যে থাকবেই।

শেষে নিজের বক্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, তিনি সাধারণত এমন ভাষায় কথা বলেন না। সিপিডিই শুধু জানে, সরকার কিছু জানে না। কিন্তু সিপিডির বাড়িয়ে বলার কারণে এমন বলতে হয়েছে। তিনি বলেন, এভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কিছু বলা দুঃখজনক। উন্নয়ন এখন দেখা যাচ্ছে। সিপিডির লেখা অর্থনীতির ছাত্ররা পড়ছে। তাদের উচিত গঠনমূলক কথা বলা। অনেক সময় তা বলেও। তবে দেশের ভালোটা বলবে না কেন। সব সময় নেতিবাচক বিষয় তুলে করবে কেন? বাজেট বক্তৃতায় শিক্ষা, ব্যাংক, পুঁজিবাজারে সংস্কারের কথা আগেই বলেছি। তিনি বলেন, যেখানে বিচ্যুতি আছে, ব্যত্যয় আছে, সেগুলো বলতে হবে। পরামর্শ দিতে হবে।

আরও পড়ুন

×