ঢাকা বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সারের সংকট নেই, সরবরাহে বিঘ্নকারীদের বিচার হবে: কৃষিমন্ত্রী

সারের সংকট নেই, সরবরাহে বিঘ্নকারীদের বিচার হবে: কৃষিমন্ত্রী
×

ছবি-ভিডিও থেকে নেওয়া

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৫১

দেশে সারের কোনো সংকট নেই দাবি করে কৃষকদের কাছে সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় তদারক করার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিন। তিনি বলেছেন, সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কেউ সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটালে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার জাতীয় সংসদে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ বিধিতে এনসিপির সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের উত্থাপিত নোটিশের জবাবে এসব কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। নোটিশে সারের বাজারে অসাধু সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, বিতরণব্যবস্থার অব্যবস্থাপনা এবং সরকারের কাঠামোগত দায়বদ্ধতা নিরূপণ করে কৃষকদের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

সারের প্রকৃত মজুত সম্পর্কে আখতার হোসেনের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মাননীয় সংসদ সদস্যকে স্পষ্টভাবে বলছি, যাহা বলিতেছি সত্য বলিতেছি, সত্য বলিতেছি এবং সত্য বলিতেছি। এই মুহূর্তে প্রায় ১৩ লাখ টন সার মজুত আছে। গত বছর প্রয়োজন ছিল মাত্র ১২ লাখ টন। তখন কিন্তু ঘাটতি হয়নি। পাইপলাইনে আছে আরও ৪ লাখ ৪২ হাজার ৮০০ টন।’

তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানো ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় বিশেষ টাস্কফোর্স ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। সরবরাহব্যবস্থায় যারা বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল সারের ডিলারশিপ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, মৃত ব্যক্তিদের নামেও এখনো সারের ডিলারশিপ রয়েছে। আবার এক ইউনিয়ন বা জেলার বাসিন্দা অন্য ইউনিয়ন বা জেলায় ডিলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নিজের নির্বাচনী এলাকা কলমাকান্দা-দুর্গাপুরেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখেছেন বলে জানান তিনি। ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের সার পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য জানতে চান ডেপুটি স্পিকার।

জবাবে কৃষিমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সার সরবরাহের বিষয়টি তদারক করার আহ্বান জানান।

রংপুরে সার সরবরাহের তথ্য তুলে ধরে আমিন উর রশিদ ইয়াসিন বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আগস্টে সেখানে ১০ হাজার ৫৯০ টন সার সরবরাহ করা হয়েছিল। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের একই সময়ে সরবরাহ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৮৪৭ টন। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংসদ সদস্যকে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘সারের কোনো ক্রাইসিস নাই।’ তবে দেশে প্রয়োজনের তুলনায় সার উৎপাদন দীর্ঘদিন ধরেই কম। দেশে মূলত ইউরিয়া সার উৎপাদিত হয়। অন্যান্য সার খুব সামান্য পরিমাণে উৎপাদিত হয়, যার পরিমাণ প্রায় এক লাখ টন।

তিনি আরও বলেন, সার নিয়ে কৃষকদের যাতে কোনো ধরনের দুর্ভোগে পড়তে না হয়, সে জন্য সরবরাহব্যবস্থার ওপর সরকারের নজরদারি রয়েছে। কোথাও কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×