খুলে দেওয়া হলো ঢাকা-আশুলিয়া এক্সপ্রেসওয়ের দুই সার্ভিস সেতু
ছবি- সমকাল
নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার
প্রকাশ: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ২২:৪২
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া বাজার পর্যন্ত নির্মিত দুই লেনবিশিষ্ট দুটি সার্ভিস সেতু সাধারণ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টায় ধউর সেতুর ওপর আয়োজিত অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সার্ভিস সেতু দুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুর রউফসহ প্রকল্পের দেশি-বিদেশি কর্মকর্তারা।
সার্ভিস লেন দুটি চালুর মধ্য দিয়ে প্রকল্পের আওতায় নির্মিত প্রথম কোনো অংশ জনসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত হলো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এর ফলে উত্তরা থেকে আশুলিয়া এবং আশুলিয়া থেকে উত্তরা অভিমুখী যানবাহনের চলাচল সহজ হবে।
প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নির্মিত দুটি সার্ভিস সেতুর প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৩ দশমিক ৭১ কিলোমিটার। সার্ভিস লেন দুটির নির্মাণকাজ গত আগস্টে শেষ হয়েছে। পিচ ঢালাই ও সড়কের রোড মার্কিংয়ের কাজও সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এটিই প্রকল্পের আওতায় প্রথম অংশ, যার সুবিধা এখন থেকে জনসাধারণ ভোগ করতে পারবেন। একটি সার্ভিস লেন আশুলিয়া থেকে ঢাকার দিকে এবং অন্যটি ঢাকা থেকে আশুলিয়ার দিকে যানবাহন চলাচলের জন্য ব্যবহৃত হবে। এরপর মূল লেনের কাজ শুরু হবে।’
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা শিকদার জানান, ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত দুই লেনবিশিষ্ট দুটি সার্ভিস সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, তুরাগ নদের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ যাতে বাধাগ্রস্ত না হয়, তা বিবেচনায় নিয়ে মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পাশাপাশি স্থানীয় যানবাহনের জন্য পৃথক সার্ভিস লেন নির্মাণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনের পর সার্ভিস লেনে চলাচলকারী প্রাইভেটকার চালক রাজু আহমেদ বলেন, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজের কারণে শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার পোশাক কারখানার মালিক-শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যানজটে ভুগেছেন। সার্ভিস লেন দুটি চালু হওয়ায় যানজট অনেকটাই কমবে বলে আশা করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, রাজধানীর যানজট কমানো এবং ঢাকা থেকে দেশের উত্তর ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে দ্রুত সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নিয়ে ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ২০২২ সালের ১২ নভেম্বর প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। চীনের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের নির্মাণকাজ করছে চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইমপোর্ট অ্যান্ড এক্সপোর্ট করপোরেশন (সিএমসি)। এতে অর্থায়ন করছে চীনের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক (চায়না এক্সিম ব্যাংক)।
প্রকল্পের মূল এলিভেটেড অংশের দৈর্ঘ্য ২৪ কিলোমিটার। এর সঙ্গে ১০ দশমিক ৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ১৪টি র্যারম্প, নবীনগরে ১ দশমিক ৯৫ কিলোমিটার ফ্লাইওভার এবং আশুলিয়া-ধউর বাঁধ সড়ক বরাবর ২ দশমিক ৭২ কিলোমিটার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ১৪ দশমিক ২৮ কিলোমিটার সড়ক ও ১৮ কিলোমিটার ড্রেনেজ ডাক্ট নির্মাণও প্রকল্পের আওতায় রয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট ও ঢাকা-ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন মহাসড়কের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে দেশের আন্তসীমান্ত সড়ক যোগাযোগ আরও সম্প্রসারিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মূল এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে ব্যবহারকারী যানবাহনকে নির্ধারিত হারে টোল দিতে হবে।
- বিষয় :
- আশুলিয়া
- এক্সপ্রেসওয়ে