অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিক
এডিপি বাস্তবায়ন হার কিছুটা বেড়েছে
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৫ | ২১:৫৪
চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হার দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ শতাংশে। গত অর্থবছরের একই সময় যা ছিল ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ। তবে এর আগের অর্থবছরগুলোর তুলায় এ হার বেশ কম।
আজ রোববার বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ণ বিভাগের (আইএমইডি) প্রকাশিত মাসিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
চলতি অর্থবছর বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে বরাদ্দ ২ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বেশি। প্রথম তিন মাসে খরচ হয়েছে ১২ হাজার ১৫৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ বরাদ্দের তুলনায় ৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ খরচ করতে সক্ষম হয়েছে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো।
আইএমইডির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, একক মাস হিসেবে সেপ্টেম্বরে খরচ হয়েছে ৬ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা। একক মাস হিসেবে খরচ হয়েছে ২ দশমিক ৭ শতাংশ, এটিও গত অর্থবছরের ২ দশমিক ১৮ শতাংশের তুলনায় বেশি।
এ অর্থবছরে ১ হাজার ১৯৮টি প্রকল্প চলমান রয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ১৫টি বিনিয়োগ প্রকল্প। এসব প্রকল্পের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন থেকে গত তিন মাসে খরচ হয়েছে ৬ হাজার ৩০৭ কোটি টাকা, বিদেশি ঋণ থেকে খরচ হয়েছে ৫ হাজার ৭৪ কোটি টাকা, মন্ত্রণালয়গুলোর নিজস্ব অর্থায়ন হয়েছে ৭৭৭ কোটি টাকা।
গত অর্থবছরের শেষে এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল মাত্র ৬৮ শতাংশ। নতুন অর্থবছরের শুরুর প্রথম দুই (জুলাই ও আগস্ট) মাসে এডিপির বাস্তবায়ন হার ছিল মাত্র ২ দশমিক ৩৯ শতাংশ। এটি নিয়ে সরকারের মধ্যেও উদ্বেগ ছিল। পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ সম্প্রতি উদ্বেগ জানিয়ে বলেছিলেন, বেশ কিছু প্রকল্পের ঠিকাদাররা পালিয়ে যাওয়ায় এডিপি বাস্তবায়ন কম। তাছাড়া সরকারি কর্মকর্তারা কেউ নতুন করে প্রকল্প পরিচালকও হতে চান না বলে জানান তিনি। প্রকল্প-ব্যবস্থাপনা ও ঠিকাদার নিয়োগ, পরিচালক বদল, রাজনৈতিক অস্থিরতা এসব একসাথে মিলিয়ে ‘প্রকল্প ফ্লো’ বন্ধ বা ধীর হয়েছে বলেও জানান ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ।
গত অর্থবছরের একই সময়ের চেয়ে প্রথম তিন মাসের উন্নয়ন কার্যক্রম কিছুটা বেড়ে ৫ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ হলেও সেটি আগের অর্থ বছরগুলোর একই সময়ের তুলনায় খুবই কম। সাধারণত আগের অর্থবছরের প্রথম দিন মাসে সাড়ে ৭ থেকে সাড়ে ৯ শতাংশের বেশি এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিল। এমনকি কভিডের সময়ও অর্থাৎ ২০২১-২২ অর্থবছরেও একই সময়ে খরচ হয়েছিল বরাদ্দের ৮ শতাংশের বেশি।
সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এডিপির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৫৭টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের মধ্যে ১০টি মন্ত্রণালয় এখনও ১ শতাংশও খরচ করতে পারেনি। এরমধ্যে বেশ কিছু মন্ত্রণালয় এক টাকাও খরচ করতে পারেনি। তবে এ সময়ের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খরচ করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। তিন মাসে এ সংস্থাটির খরচ হয়েছে বরাদ্দের ১৬ শতাংশের বেশি।
