ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

এনআরবিসি ব্যাংকের উদ্যোক্তা মুনসিফ আলীর শেয়ার জব্দ

এনআরবিসি ব্যাংকের উদ্যোক্তা মুনসিফ আলীর শেয়ার জব্দ
×

ওবায়দুল্লাহ রনি

প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২২

| প্রিন্ট সংস্করণ

প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগে গড়ে ওঠা এনআরবিসি ব্যাংকের উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার সৈয়দ মুনসিফ আলীর সব শেয়ার ক্রোক বা জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) ১৯১ কোটি টাকার খেলাপি ঋণের মামলায় বুধবার ঢাকার অর্থঋণ আদালত-৫-এর বিচারক মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন। আমানতকারীদের স্বার্থপরিপন্থি বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে এর আগে গত মার্চে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুন পর্ষদ গঠন করে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। শেয়ারহোল্ডারদের কেউ এখন আর পরিচালনা পর্ষদে নেই।

জানা গেছে, ইউসিবির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এনআরবিসি ব্যাংকে সৈয়দ মুনসিফ আলীর এক কোটি ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪৫টি শেয়ার ক্রোক বা জব্দের আদেশ দিয়েছেন অর্থঋণ আদালত। তবে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের তথ্যে দেখা যাচ্ছে, বেশির ভাগ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন মুনসিফ আলী। এখন তাঁর শেয়ার রয়েছে মাত্র ছয় লাখ ১৮ হাজার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ইউসিবির এলিফ্যান্ট রোড শাখা থেকে বেশ আগে মাল্টিপ্ল্যান লিমিটেডের নামে ঋণ নেন মুনসিফ আলী। এই ঋণের গ্যারান্টর হিসেবে তাঁর স্ত্রী শামীমাতুন নাসিমের নাম রয়েছে। তবে ঋণ পরিশোধ না করায় সুদসহ এখন ১৯১ কোটি টাকায় ঠেকেছে। এনআরবিসি ব্যাংকের উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে সৈয়দ মুনসিফ আলী এক কোটি ৭৯ লাখ ৩০ হাজার শেয়ার কিনেছিলেন। কানাডা প্রবাসী হিসেবে মোট ১৭ কোটি ৯৩ লাখ টাকা সমপরিমাণ ডলারে এই শেয়ার কেনেন তিনি। প্রথম আট বছরে বোনাস শেয়ার হিসেবে পান আরও ৬৪ লাখ ২৪ হাজার ৬৪৫টি। দুয়ে মিলে মুনসিফ আলীর মোট শেয়ার সংখ্যা দাঁড়ায় দুই কোটি ৪৩ লাখ ২৪ হাজার ৬৪৫টি। ২০২০ সালে ব্যাংকটি পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার আগেই তিনি এক কোটি শেয়ার পাঁচজনের নামে স্থানান্তর করে দেন।

এনআরবিসি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, শেয়ার বিক্রির টাকায় সৈয়দ মুনসিফ আলী মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করেছেন। তালিকাভুক্ত হওয়ার আগে শেয়ার হস্তান্তরের বিষয়ে জানতে চাইলে এ কর্মকর্তা বলেন, সাধারণভাবে একটি প্রতিষ্ঠান তালিকাভুক্ত হওয়ার পর শেয়ারের দর বাড়ে। তবে উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডারের তিন বছর শেয়ার বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকে। লকইন সময় হিসেবে যা বিবেচিত। যে কারণে কৌশলে তিনি অন্যের নামে শেয়ার স্থানান্তর করেছিলেন। ওই শেয়ার বিক্রি করতে তাঁর কোনো বাধা ছিল না।

উদ্যোক্তা শেয়ারহোল্ডার হিসেবে মুনসিফ আলীর দুটি প্রতিষ্ঠানের নাম দেওয়া হয়। এর মধ্যে ঢাকার পান্থপথের সুবাস্তু টাওয়ারে মাল্টিপ্ল্যান লিমিটেড এবং কানাডার ওমের স্ট্রিটের মাল্টিপ্ল্যান কানাডা লিমিটেড। গত ২৬ আগস্টের পর থেকে তিনি দফায় দফায় শেয়ার বিক্রি শুরু করেন। ওইদিন তাঁর কাছে মোট শেয়ার ছিল এক কোটি ৪৩ লাখ ৫৪ হাজার ৬৪৫টি। প্রথম ধাপে ২৬ আগস্ট ৩০ লাখ শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেন। এভাবে ৬ অক্টোবরের মধ্যে চার দফায় ৩০ লাখ করে মোট এক কোটি ২০ লাখ শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন। সর্বশেষ ৯ অক্টোবর আরও ১৭ লাখ ৩৬ হাজার ৫০৩টি শেয়ার বিক্রির ঘোষণা দেন। গত ১৪ অক্টোবর এই বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। এখন তাঁর হাতে শেয়ার রয়েছে মাত্র ছয় লাখ ১৮ হাজার ১৪২টি। 

জানতে চাইলে এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান আলী হােসেন প্রধানিয়া সমকালকে বলেন, আদালতের আদেশের আগেই সৈয়দ মুনসিফ আলী বেশির শেয়ার বিক্রি করে দিয়েছেন।
২০১৩ সালে রাজনৈতিক বিবেচনায় অনুমোদন পাওয়া ৯ ব্যাংকের একটি এনআরবিসি। আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে গত ১২ মার্চ ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে নতুনভাবে গঠন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের সাবেক এমডি আলী হোসেন প্রধানিয়াকে চেয়ারম্যান নিয়োগ করে পাঁচ সদস্যের স্বতন্ত্র পরিচালকদের একটি পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। 

আরও পড়ুন

×