ঢাকা চেম্বারের জরিপ
জিডিপির ৪৬ শতাংশই ঢাকা জেলাকেন্দ্রিক
গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বারের আয়ােজনে ঢাকা জেলার অর্থনৈতিক অবস্থান সূচক প্রকাশ অনুষ্ঠানে বক্তারা ফটাে রিলিজ
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:০৯ | আপডেট: ২৬ অক্টোবর ২০২৫ | ১২:০৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে ঢাকা জেলার অবদান ৪৬ শতাংশ। এ ছাড়া দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৪০ শতাংশ এই জেলায় । ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ঢাকা জেলার ইকোনমিক পজিশন ইনডেক্স (ইপিআই) বা অর্থনৈতিক অবস্থান সূচকে জরিপভিত্তিক এ তথ্য দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে এ সূচক প্রকাশ করা হয়।
ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক সংস্থা, অর্থনীতিবিদ, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় ইপিআই সূচকের বিস্তারিত তুলে ধরে ডিসিসিআইর ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী জানান, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ঢাকা জেলায় কেন্দ্রীভূত। মোট কর্মসংস্থানের ৪০ শতাংশ আসে এই জেলা থেকে। ঢাকাকে বিবেচনা করা হয় আর্থিক খাতের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ৭৫০-এর বেশি কোম্পানির প্রধান কার্যালয় ঢাকায়।
আসাদুজ্জামান জানান, দেশের শহুরে জনসংখ্যার ৩২ শতাংশের বাস ঢাকা জেলায়। আর মোট জনসংখ্যার ১১ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ ঢাকায় থাকেন। ঢাকা খুবই শিল্পঘন জেলা। মোট পণ্য রপ্তানির ৪০ শতাংশের বেশি হয় এ জেলা থেকে। সব মিলিয়ে মোট দেশজ আয়ে (জিডিপি) ৪৬ শতাংশ অবদান রাখছে ঢাকা জেলা।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চ সময়ে ঢাকা চেম্বার এ জরিপ পরিচালনা করে। মোট ৬৫৪ জন উত্তরদাতার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে উৎপাদন খাত থেকে ৩৬৫ জন এবং সেবা খাত থেকে ২৮৯ জন।
ঢাকায় মাথাপিছু আয় দ্বিগুণ
ইপিআই সূচকে বলা হয়েছে, ঢাকা জেলার মানুষের মাথাপিছু আয় বর্তমানে পাঁচ হাজার ১৬৩ ডলার। এটি দেশের মানুষের গড় মাথাপিছু আয়ের প্রায় দ্বিগুণ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় গত অর্থবছরে দুই হাজার ৮২০ ডলার। এর আগের অর্থবছরে মাথাপিছু আয় ছিল দুই হাজার ৭৩৮ ডলার।
ঢাকা চেম্বার জানায়, বিবিএসের ২০১১ সালে করা জেলাভিত্তিক জিডিপির তথ্যকে ভিত্তি ধরে এ জেলার বিনিয়োগ, ভোগ, ব্যয়, আমদানি, রপ্তানি, আয়তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি প্রভৃতি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ঢাকা জেলার মাথাপিছু আয়ের হিসাব অনুমান করা হয়েছে। তবে ঢাকার মাথাপিছু আয় ও জিডিপির এসব তথ্যের সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত কয়েকজন আলোচক।
ইপিআই সূচক
সভায় স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, দেশে ব্যবসায়িক পরিবেশ পরিমাপের জন্য বর্তমানে বিভিন্ন সূচক রয়েছে। তবে এসব সূচক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রকৃত পরিবর্তন ও কারণ যথাযথভাবে প্রতিফলিত করতে পারে না। সরকার অনেক সময় ভূ-অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে নীতি নির্ধারণ করে। কিন্তু হালনাগাদ তথ্য না থাকায় সেগুলো সব সময় কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব হয় না। এমন বাস্তবতায় ইপিআই সূচক প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা চেম্বার।
তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে ঢাকা জেলাকে কেন্দ্র করে এই সূচক প্রকাশ করা হবে। ভবিষ্যতে সারাদেশে এর আওতা বাড়ানো হবে। গত বছরের দুটি প্রান্তিকের তথ্য নিয়ে প্রাথমিকভাবে ইপিআইর তথ্য প্রকাশ করেছে ডিসিসিআই। শূন্য থেকে এক পর্যন্ত মোট ছয়টি স্কোর নির্ধারণ করেছে তারা। এগুলো হচ্ছে– (অর্থনীতির গতি) খুবই কম, কম, মাঝামাঝি, বেশি ও অনেক বেশি। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৮০ স্কোর পেয়ে গত অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে ঢাকা জেলার অর্থনীতিতে তুলনামূলক বেশি গতি ছিল বলে জরিপে উঠে আসে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে অর্থনীতি অনেকটা স্তিমিত ছিল। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের বেশ কিছু ত্বরিত সিদ্ধান্তের কারণে পরের প্রান্তিকে অর্থনীতি ভালো করেছে।
কী বলছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরা
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. আইনুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠিত ফর্মুলা ব্যবহার করে গবেষণাটি পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। সেই সঙ্গে প্রসিদ্ধ কোনো জার্নালে গবেষণার সারসংক্ষেপ প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। র্যাপিডের গবেষণা পরিচালক ড. দীন ইসলাম বলেন, সামষ্টিক অর্থনীতির সামগ্রিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে গবেষণার কার্যপদ্ধতি সংশোধন করা যেতে পারে।
ঢাকা চেম্বারের সাবেক সভাপতি আবুল কাসেম খান বলেন, স্থানীয় বিভিন্ন সূচকে দেখা যায়, দেশের অর্থনীতি ভালো করছে। কিন্তু বৈশ্বিক সূচকের কিংবা অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, বিভিন্ন সূচকে বাংলাদেশ সবচেয়ে নিচের দিকে। তাই এসব সূচকের তথ্যে আত্মতুষ্টির কারণ নেই। বরং এসব সূচককে বৈশ্বিক মানের সঙ্গে তুলনা করে প্রকাশ করলে সেটি বেশি কার্যকর হবে। ইপিআই সূচক প্রতি মাসে প্রকাশ করা ও পরিধি বাড়ানোর পরামর্শ দেন ঢাকা চেম্বারের আরেক সাবেক সভাপতি আশরাফ আহমেদ। আইএফসির সিনিয়র বেসরকারি খাত বিশেষজ্ঞ মিয়া রহমত
আলী জানান, সরকার নতুন দেউলিয়া আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা বাণিজ্য প্রক্রিয়াকে সহজতর করবে।
- বিষয় :
- ঢাকা চেম্বার
- জিডিপি
