ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

পণ্যবাহী কনটেইনার কমার প্রভাব রাজস্ব আহরণে

পণ্যবাহী কনটেইনার কমার প্রভাব রাজস্ব আহরণে
×

জসিম উদ্দিন বাদল

প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় পণ্যবাহী কনটেইনার আসা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে কমলাপুর ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) থেকে সরকারের রাজস্ব আদায়ে। চলতি অক্টোবর মাসের এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার তিন ভাগের এক ভাগও রাজস্ব আদায় হয়নি। এতে একদিকে আইসিডি থেকে সরকারের রাজস্ব আদায় কমছে, অন্যদিকে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন আমদানিকারকরা। আমদানিকারকদের  অতিরিক্ত ডেমারেজ, ডিটেনশন ও হ্যান্ডলিং চার্জ দিতে হচ্ছে। কমলাপুর কাস্টম হাউস আইসিডি ও আমদানিকারকদের সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। 

সূত্র জানায়, চলতি অক্টোবরে কাস্টম হাউস আইসিডির রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৭৭ কোটি টাকা। ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত আদায় হয়েছে মাত্র ১৯০ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার তিন ভাগের এক ভাগও আদায় হয়নি। গত বছরের অক্টোবরে আদায়ের পরিমাণ ছিল ৪৬৯ কোটি টাকা।
জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দরে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা পণ্যবোঝাই শত শত কনটেইনার পড়ে আছে। ট্রেনের ইঞ্জিনের সংকটের কারণে কনটেইনারগুলো ঢাকায় আনা যাচ্ছে না। বিগত সময়ে চট্টগ্রাম থেকে দৈনিক অন্তত দুটি কনটেইনার পরিবহন আসত ঢাকায়। এক মাস ধরে আসছে একটি করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কাস্টম হাউস আইসিডির এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, বন্দরে কনটেইনারের জট লেগে আছে। কমলাপুরে পণ্যবাহী কনটেইনারগুলো না আসার কারণে রাজস্ব আদায় কমে গেছে অস্বাভাবিকভাবে। 

সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ও কমলাপুর রেলস্টেশন সূত্রে জানা গেছে, ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কনটেইনারবাহী ৩৮টি ট্রেন এসেছে; যেখানে তার আগের মাস সেপ্টেম্বরে এসেছিল ৫৯টি। আগস্টে এসেছিল ৫৪টি। বছরের ব্যবধানেও মালবাহী ট্রেন আসার সংখ্যা কমেছে। চলতি বছরের ১০ মাসে বন্দর থেকে কনটেইনারবাহী মোট ৫৫৫টি ট্রেন এসেছে ঢাকায়। গত বছর এসেছিল ৮০২টি। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আইসিডিতে কনটেইনার পরিবহনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক সমন্বয়হীনতা, কর্তব্য কাজে অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার কারণে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আইসিডিতে কনটেইনারে আসায় গতি নেই। বিভিন্ন দেশ বিশেষ করে চীন থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনাইরবাহী জাহাজ আসতে সময় লাগে (১০ থেকে ১৫ দিন)। কিন্তু চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় কনটেইনার আসতে ২০ থেকে ২৫ দিন সময় লেগে যাচ্ছে। ফলে আইসিডি বন্দর ব্যবহারকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠান, আমদানি-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, পরিবহন ঠিকাদারসহ সংশ্লিষ্টরা বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। 
সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আইসিডিতে না আনার কারণে বন্দরে প্রায় এক হাজার ১৪২ টিইউএস কনটেইনারের জট সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন সমকালকে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আগে কমলাপুর আইসিডিতে দৈনিক দুই-তিনটি কনটেইনারবাহী ট্রেন আসত। এখন আসে একটি। এতে বন্দরে কনটেইনারের জট লেগে গেছে। অন্যদিকে আইসিডিতে পণ্য পরিবহন কমে যাওয়ায় রপ্তানি কার্যক্রমে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এতে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, কাস্টমস এজেন্ট, ট্রান্সপোর্ট কোম্পানি এবং ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিকদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
চীন থেকে সাউন্ড সিস্টেমের বিভিন্ন পণ্য আমদানি করে আজাদ ট্রেডার্স। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী এ কে আজাদ সমকালকে বলেন, এটি খুবই বেদনাদায়ক যে চীন থেকে জাহাজে করে পণ্য চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে সময় লাগে ১৫ দিনের মতো। বন্দর থেকে কমলাপুর আসতে সময় লাগে ২০ থেকে ২৫ দিন।
ক্রেতার চাহিদা, সময় নানা বিষয় বিবেচনায় নিয়ে পণ্য আমদানি করা হয়। নির্দিষ্ট সময়ে সেসব পণ্য বাজারজাত করতে না পারলে অবিক্রীত থেকে যায়। এতে লোকসানের মুখে পড়তে হয়। 
উদ্বেগ প্রকাশ করে এই আমদানিকারক বলেন, ভবিষ্যতে কমলাপুর আইসিডিতে পণ্য না এনে অন্য কোনোভাবে পণ্য খালাস করা যায় কিনা সেই চিন্তা করছেন ব্যবসায়ীরা। 

আরও পড়ুন

×